/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/22/trinamool-questions-ec-sir-deadline-bengal-errors-pressure-2025-11-22-19-05-06.jpg)
বিজেপি-কমিশনের যোগসাজশ নিয়ে গর্জে উঠল তৃণমূল
West Bengal SIR: টানা অব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং অতিরিক্ত কাজের চাপে ক্রমশ প্রশ্নের মুখে পড়ছে বাংলায় ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধনী (SIR) প্রক্রিয়া (West Bengal SIR 2025)।
একের পর এক ভুল তালিকা, অসামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য আপলোড, এবং বেড়ে চলা চাপের ফলে রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস।
শনিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগরে এক বুথ লেভেল অফিসারের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস ও ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক প্রধান নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকের সঙ্গে এক বৈঠক করেন।
আরও পড়ুন- নতুন ফ্ল্যাট কিনতে চলেছেন? রান্নাঘর এবং বাথরুম কোন দিকে থাকা উচিত? কী বলছে বাস্তুশাস্ত্র?
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, “এই গতিতে ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে সঠিকভাবে তথ্য আপলোড করা সম্ভব নয়। ফলে ব্যাপক ভুল, অমিল রয়েছে এমন তথ্য এবং প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটা ভোটারদের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর উপর সরাসরি আঘাত।” তিনি আরও জানান, এসআইআরের মতো জটিল প্রক্রিয়া নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে গোটা উদ্যোগের উদ্দেশ্যই নষ্ট হবে।
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৪ ডিসেম্বর গণনার কাজ শেষ করে ৯ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। তারপর ৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত দাবি-আপত্তি জমা নেওয়া হবে। শুনানি শেষ করে ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কথা। কিন্তু তৃণমূলের দাবি, কমিশনের ভুল ও অসম্পূর্ণ প্রস্তুতি ভোটারদের উপরই বড়সড় প্রভাব ফেলবে।
আরও পড়ুন-বিয়ের কার্ড ছাপার সময় এই ভুলগুলি কোনভাবেই করবেন না, ছারখার হবে বিবাহিত জীবন
চন্দ্রিমা জানান, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পরিস্থিতি আরও গুরুতর। তাঁর কথায়, “এখানে ৮০ শতাংশ ভোটারের নাম সঠিকভাবে ২০০২ সালের এসআইআর রোলের সঙ্গে মেলানো যাচ্ছে না। অ্যাপ ম্যাপিং-এর বারবার ত্রুটিতে প্রক্রিয়া কার্যত ভেঙে পড়েছে। ফলে পাঁচ জনের মধ্যে চার জন ভোটারকে শুনানিতে হাজির হতে হবে। শুধুমাত্র নিজের নাম তালিকায় রাখার জন্য। এটা কোনও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গ্রহণযোগ্য নয়।”
তৃণমূলের অভিযোগ, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, অ্যাপের ক্রমাগত বদল, ডাটা এন্ট্রির নিয়ম না জানা, নথিপত্র যাচাইয়ের অস্পষ্টতা—সব মিলিয়ে BLO-রা ভীষণ চাপে পড়েছেন। চন্দ্রিমা জানান, “স্কুলশিক্ষক, সহ বিভিন্ন পেশার BLO-দের একদিকে কাজের চাপ অন্যদিকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা যাচাই—এই দুটো একসঙ্গে করা কার্যত অসম্ভব।” তিনি আরও বলেন, BLO-দের কোনও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি, নেই নথিপত্রের স্বচ্ছ নির্দেশিকা, নেই জেলা পর্যায়ে প্রযুক্তিগত সহায়তার ব্যবস্থাও। ফলে তাদের ওপর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন-কীভাবে ঘরে বসে ২ মিনিটেই SIR ফর্ম অনলাইনে ফিলআপ করবেন? জমা হয়েছে কিনা জানবেন কী করে?
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, “এসআইআর চালুর পর থেকেই দেশজুড়ে BLO মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। অতিরিক্ত কাজের চাপেই কেউ কেউ আত্মহত্যা করছেন। যেটা দু’বছর ধরে করার কথা, সেটা এক মাসে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, “নির্বাচন কমিশন বিজেপির নির্দেশে চলছে। তারা ঠিক করেছে দুই কোটি ভোটারের নাম ডিলিট করতে হবে। ২০০২ সালের তালিকায় অসংখ্য ভুল। প্রতিটি বুথে ১৫০-২০০ নাম বাদ পড়েছে। নাম, ছবি, সম্পর্ক সবই গড়বড়।”
তৃণমূলের দাবি, প্রশিক্ষণ, স্পষ্ট নির্দেশিকা, প্রযুক্তিগত সহায়তা, হেল্প ডেস্ক তৈরি এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় সময়সীমা বাড়ানো—এসব না হলে এসআইআর প্রক্রিয়া চালানো গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এর আগে চিঠি দিয়ে SIR বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তৃণমূলের বক্তব্য—“এই বিশৃঙ্খল এবং জোরজবরদস্তিমূলক প্রক্রিয়া অবিলম্বে সংশোধন না হলে ফল ভয়াবহ হবে—BLO-র জন্য, ভোটারের জন্য এবং গণতন্ত্রের জন্যও।”
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us