/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/23/trump-board-of-peace-india-wait-and-watch-delhi-diplomatic-dilemma-2026-01-23-13-04-36.jpg)
ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ আদৌ অংশ নেবে ভারত?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘বোর্ড অব পিস’ ঘোষণা করতেই নয়াদিল্লি আপাতত সতর্ক অবস্থানে। গাজা সংঘাতের প্রেক্ষিতে ট্রাম্পের এই নয়া উদ্যোগে ভারত এখনই এতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।
বৃহস্পতিবার দাভোসে ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে ভারত উপস্থিত থাকেনি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান কোনোটাই করেনি। কূটনৈতিক সূত্রে ভারত ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ নীতিতেই আস্থা রাখছে। এদিকে আমেরিকা প্রতিবেশী দেশ কানাডাকে ‘বোর্ড অফ পিস’-এ জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে সেই আমন্ত্রণ আবার প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন- জানুয়ারি কলকাতায় কমল সোনার দাম, সরস্বতী পুজোয় কতটা সস্তা হলুদ ধাতু?
সূত্রের দাবি, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে যোগ না দেওয়ার পিছনে ভারতের একাধিক বাস্তব ও কৌশলগত কারণ রয়েছে। সদস্য দেশগুলির তালিকা, উদ্যোগের বৈধতা ও দীর্ঘস্থায়িত্ব, রাষ্ট্রসংঘের ও বহুপাক্ষিকতার উপর সম্ভাব্য প্রভাব, গাজা ও ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন ইস্যুতে ভারতের দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের অবস্থান, এমনকি যোগ না দিলে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া সব দিকই খতিয়ে দেখছে দিল্লি।
প্রথমত, ‘বোর্ড অফ পিস’-এ কোন কোন দেশ যোগ দিচ্ছে, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে ভারতের। ট্রাম্পের আমন্ত্রণ ইতিমধ্যেই গ্রহণ করেছে আর্জেন্টিনা, ইজরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, মিশর, তুরস্ক, জর্ডন, কাতার, পাকিস্তান-সহ একাধিক দেশ। পশ্চিম এশিয়ার বড় শক্তিগুলি যুক্ত হলেও ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ এই উদ্যোগ থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে। ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, ইতালি ও সুইডেন ট্রাম্পের আমন্ত্রণে এখনও সাড়া দেয়নি। রাষ্ট্রসংঘের স্থায়ী সদস্য রাশিয়া, চিন, ফ্রান্স ও ব্রিটেনও এই বোর্ডে নেই। দিল্লির একাংশের মতে, বোর্ডটির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও গুরুত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
দ্বিতীয়ত, এই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয় রয়েছে ভারত। আপাতত এই উদ্যোগ এখন ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আগ্রহের বিষয় বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। ট্রাম্প ক্ষমতাচ্যুত হলে আদৌ এই ধরণের কোন উদ্যোগ বৈধ থাকবে কিনা এই আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না ভারত। ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র তিন বছর বাকি, ফলে এই উদ্যোগে ভারত কতটা আগ্রহ দেখাবে সেটা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। এছাড়া ট্রাম্প যদি কোনও কারণে নিজেই এই বোর্ড অফ পিস থেকে নিজেই থেকে সরে যান, সেক্ষেত্রে ভারত আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে নয়া দিল্লির।
তৃতীয়ত, রাষ্ট্রসংঘ ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রতি ভারতের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারও এখানে বড় বিষয়। বোর্ড অব পিস যদি রাষ্ট্রসংঘের বিকল্প বা সমান্তরাল কোনও মঞ্চ হিসেবে কাজ করে, তাহলে ভারতের অবস্থান 'কঠিন' হয়ে উঠতে পারে। যদিও ট্রাম্প বোর্ডের সঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের যুক্ত থাকার কথা বলেছেন, তবু এর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, ক্ষমতার সীমা ও নিয়মকানুন এখনও স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন- ২৬ জানুয়ারি দেশকে 'আতঙ্কিত' করার বড়সড়ষড়যন্ত্র, সীমান্ত এলাকায় বাড়ানো হল নিরাপত্তা
চতুর্থত, দিল্লির আশঙ্কা, এই বোর্ড গাজার বাইরে অন্য আন্তর্জাতিক সংঘাতেও নাক গলাতে পারে। ট্রাম্পের অতিসক্রিয় ভূমিকা যেমন গত গ্রীষ্মে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা প্রশমনে কৃতিত্ব দাবি ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বোর্ডকে কেবল গাজা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখার পক্ষে মত দিলেও ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, এই উদ্যোগ ‘পুরো বিশ্বের জন্য’।
পাশাপাশি দাভোসের অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপস্থিতিও দিল্লির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে,পাকিস্তান বোর্ড অফ পিসে থাকলে ভারতের পাকিস্তানের সঙ্গে সেই মঞ্চ ভাগ করাটা অস্বস্তির। ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কিত কোনও ইস্যুতে এই বোর্ড সিদ্ধান্ত নিলে, তাতে ভারতের প্রভাব খাটানোর সুযোগ কমে যেতে পারে। এই সব দিক বিবেচনা করেই আপাতত সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পথেই হাঁটছে নয়াদিল্লি।
আরও পড়ুন-বিড়ি, গুটখা, তামাক, সিগারেট সব নিষিদ্ধ! সরকারি বিরাট ঘোষণা


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us