/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/09/mamata-banerjee-3-2025-11-09-13-35-43.jpg)
CM Mamata Banerjee: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
Union Budget 2026: ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটের আগে, পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্যের পাওনা আটকে রাখার অভিযোগে সরব হয়েছেন। তিনি বলেন,"রাজ্য তার দায়িত্ব পালন করছে কিন্তু রাজ্যকে তার ন্যায্য পাওনা দেওয়া হচ্ছে না। বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পরেও, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের সঙ্গে সহযোগিতা করতে ব্যর্থ। তিনি আরও বলেন যে কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলির মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে তাদের একসঙ্গে কাজ করা সাংবিধানিকভাবে বাধ্যতামূলক"।
আজ সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের জন্য বাজেট পেশ করতে চলেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। এটি তাঁর টানা নবম বাজেট, যা ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য নজির। দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ দিশা নির্ধারণকারী এই বাজেটের দিকে কৃষক, মধ্যবিত্ত, শিল্পপতি থেকে শুরু করে করদাতা সব মহলই তাকিয়ে রয়েছে। কর ছাড় ও আর্থিক স্বস্তির আশায় বাজেটের উপর বিশেষ নজর রাখছেন করদাতারা।
বিশ্বজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক অস্থিরতার আবহে এবারের বাজেট পেশ করা হচ্ছে। বিশেষ করে আমেরিকার শুল্ক নীতির প্রভাব ভারতের রপ্তানি ও বাণিজ্যের উপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং রপ্তানি বাড়ানোর উপর জোর দিতে পারে। পাশাপাশি, MGNREGA প্রকল্পকে ‘ডেভেলপ ইন্ডিয়া এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড লাইভলিহুড মিশন’-এ রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে। যার আনুমানিক ব্যয় হতে পারে প্রায় ৯৫ হাজার কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের সামনে একাধিক বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূলধনী ব্যয় বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানোর চাপ রয়েছে সরকারের উপর। জিএসটি ও আয়করে ছাড় এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সুদের হার হ্রাস ইতিমধ্যেই অর্থনীতিকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। তবে মার্কিন শুল্ক নীতি-সহ বৈশ্বিক চাপে ভারতের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রেখে গতি বাড়ানোই হবে অর্থমন্ত্রীর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
আরও পড়ুন- বাজেটের আগেই বড় ধাক্কা, একলাফে ৫০ টাকা বাড়ল LPG গ্যাস সিলিন্ডারের দাম
নির্মলা সীতারমন দেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী যিনি টানা নবমবার বাজেট পেশ করছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী মোরারজি দেশাই ১০ বার এবং পি. চিদাম্বরম ৯ বার বাজেট পেশ করলেও তা ছিল ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে, টানা নয়বার নয়। এবারের বাজেটে রেল পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ, ট্রেন বুকিংয়ে অপেক্ষা তালিকা কমানো বা তুলে দেওয়ার লক্ষ্য এবং ৩০০টিরও বেশি নতুন অমৃত ভারত ও বন্দে ভারত ট্রেন চালু করার বড় ঘোষণা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে।
২০২৬–২৭ সালের বাজেট থেকে শিল্প ও ব্যবসায়ী মহলের প্রত্যাশা মূলত নিয়মকানুন সহজীকরণ, কর ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করা। MSME ক্ষেত্রেও জিএসটি সংক্রান্ত কিছু ছাড় বা স্বস্তির ঘোষণা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, বাজেটের আগে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক ঘিরেও রাজনৈতিক উত্তাপ দেখা দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য অভিযোগ করেছেন যে রাজ্য তার দায়িত্ব পালন করলেও কেন্দ্র সরকার রাজ্যের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করছে না। তিনি জানান, বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্র সহযোগিতায় ব্যর্থ হয়েছে। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির একসঙ্গে কাজ করা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। তিনি আরও দাবি করেন, জিএসটি কাউন্সিল ও প্রাক-বাজেট বৈঠকে বিষয়টি একাধিকবার তোলা হয়েছে।
অন্যদিকে, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা আসন্ন কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, এই বাজেট জাতীয় রাজধানীর উন্নয়ন প্রকল্পগুলিকে নতুন গতি দেবে। এক বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘উন্নত দিল্লি’ লক্ষ্য পূরণে কেন্দ্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যমুনা নদী পরিষ্কার, পয়ঃনিষ্কাশন শোধনাগার নির্মাণ এবং দিল্লি মেট্রো সম্প্রসারণে কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারের যৌথ উদ্যোগে রাজধানীর পরিকাঠামোগত উন্নয়ন আরও মজবুত হবে এবং এবারের বাজেট সেই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
আরও পড়ুন- বাজেটের দিন সকালে হুড়মুড়িয়ে দাম কমল সোনা-রূপার, আমদানি শুল্ক কি আবারও কমবে?


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us