/indian-express-bangla/media/media_files/2025/09/03/metro-2025-09-03-09-06-58.jpg)
Kolkata Metro: কলকাতা মেট্রোরেল।
Kolkata Metro: রবিবার ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। প্রতিবারের মতো এবারও রেল বাজেটের দিকে বিশেষ নজর ছিল পশ্চিমবঙ্গবাসীর, বিশেষত কলকাতার নিত্যযাত্রীদের। বাজেটে কলকাতা মেট্রোর জন্য সামগ্রিকভাবে মোটা অঙ্কের টাকা বরাদ্দ করা হলেও, বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিস্তর ফারাক। কোনো রুটে কাজের গতি বাড়াতে ঢালাও অর্থ সাহায্য করা হয়েছে, আবার কোনো গুরুত্বপূর্ণ রুটে বরাদ্দে চালানো হয়েছে বড়সড় কাঁচি।
বাজেট নথিতে দেখা যাচ্ছে, সবথেকে বড় চমক এবং একইসাথে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিউ গড়িয়া থেকে বিমানবন্দর ভায়া রাজারহাট মেট্রো করিডর, যা ‘অরেঞ্জ লাইন’ নামে পরিচিত। শহরের অন্যতম দীর্ঘ এবং গুরুত্বপূর্ণ এই রুটের জন্য এবারের বাজেটে বরাদ্দ করা হয়েছে মাত্র ৭০৫.৫ কোটি টাকা। অথচ, গত আর্থিক বছরে এই একই রুটের জন্য সংশোধিত বাজেটের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৫৫০ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন- Garuchira: টুরিস্টদের ভিড় নেই, শুধুই প্রকৃতির রাজত্ব! গারুচিরা, বাংলার এক গোপন হীরের টুকরো
অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে বরাদ্দ কমে অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাঁটাইয়ের ফলে বাইপাস সংলগ্ন মেট্রোর কাজে গতি মন্থর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। যেখানে ট্রাফিক জ্যাম এড়াতে এই রুটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে বরাদ্দ কমানোর সিদ্ধান্তে প্রশ্ন উঠছে।
আরও পড়ুন-Budget 2026: AI হাব হবে ভারত! বাজেটে ডেটা সেন্টারের জন্য ২০৪৭ পর্যন্ত 'ট্যাক্স হলিডে' ঘোষণা
অন্যদিকে, দক্ষিণ কলকাতার যাত্রীদের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে পার্পল লাইন বা জোকা-বিবাদী বাগ (এসপ্ল্যানেড) করিডর। গত বছরের তুলনায় এই রুটে বরাদ্দের অঙ্ক সামান্য হলেও বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবারের বাজেটে জোকা থেকে এসপ্ল্যানেড রুটের কাজের জন্য ৯০৬.৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন।
আরও পড়ুন-Budget 2026: "শিলান্যাসের পর শিলান্যাস, বাংলা প্রস্তর যুগে গিয়েছিল!" মমতাকে কড়া জবাব শমীকের
উল্লেখ্য, গত আর্থিক বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৮৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, প্রায় ৫৬ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ পাওয়ায় জোকা লাইনের বাকি অংশের কাজ, বিশেষ করে মোমিনপুর থেকে এসপ্ল্যানেড অংশের সুড়ঙ্গ ও স্টেশন তৈরির কাজে আরও গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, কলকাতার লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো বা গ্রিন লাইন-এর ক্ষেত্রেও বরাদ্দের পরিমাণে খুব একটা জৌলুস দেখা যায়নি। ২০২৬-এর বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য ৫২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। গ্রিন লাইনের কাজ সিংহভাগ শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং এটি প্রায় সম্পূর্ণ চালু হওয়ার পথে থাকায়, নতুন করে বিপুল বরাদ্দের প্রয়োজন হয়তো ছিল না বলেই মনে করছেন রেল মন্ত্রকের আধিকারিকরা।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের বাজেটে কলকাতা মেট্রো নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পার্পল লাইনের যাত্রীরা যখন দ্রুত কাজ শেষ হওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন, তখন অরেঞ্জ লাইনের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি ও ধীরগতি নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন শহরবাসী।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us