‘আনম্যাপড’ ক্যাটাগরির ভোটারদের ভোটার তালিকায় ঢোকাতে ছেয়ে গেছে ভুয়ো ফর্ম? বিস্ফোরক অভিযোগে চোখ কপালে কমিশনের

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার সময়সীমা শেষের ঠিক মুখে পশ্চিমবঙ্গে ‘আনম্যাপড’ ক্যাটাগরির ভোটারদের ঘিরে তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার সময়সীমা শেষের ঠিক মুখে পশ্চিমবঙ্গে ‘আনম্যাপড’ ক্যাটাগরির ভোটারদের ঘিরে তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
ECI Bengal voters list, logical discrepancy voters, unmapped voters West Bengal, Supreme Court order ECI, Special Intensive Revision SIR, West Bengal electoral roll, BLO software delay, voter list revision Bengal, Election Commission of India news, SIR controversy West Bengal

বিস্ফোরক অভিযোগে চোখ কপালে কমিশনের

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার সময়সীমা শেষের ঠিক  মুখে পশ্চিমবঙ্গে ‘আনম্যাপড’ ক্যাটাগরির ভোটারদের ঘিরে তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছে। অভিযোগ উঠেছে, গণনার সময় প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে না পারা ভোটারদের অর্থাৎ যারা আনম্যাপড ভোটার তাদের ভোটার তালিকায় 'অন্তর্ভুক্ত' করতে অননুমোদিত ফর্ম বিভিন্ন জেলায় ঘুরছে। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৩২ লক্ষ ‘আনম্যাপড’ ভোটার রয়েছেন বলে নির্বাচন দফতর সূত্রে জানা গেছে।

Advertisment

আরও পড়ুন-'চিন্ময় প্রভুর অবিলম্বে মুক্তি', ভোটের ফলাফল সামনে আসতেই বিএনপির কাছে বড় দাবি তসলিমা নাসরিনের

মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক এলাকায় শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার ঠিক আগে এই ধরনের ফর্ম বিলির অভিযোগ সামনে এসেছে। এতে নির্বাচন কমিশন জেলা কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে। তবে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, কমিশন এ ধরনের কোনও ফর্ম জারি করেনি। তাঁর কথায়, “কমিশন এমন কোনও ফর্ম ইস্যু করেনি। জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।” এসআইআর-এর অধীনে ভোটার তালিকা সংশোধনের শুনানি শনিবার শেষ হওয়ার কথা। তার পর আর নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

Advertisment

বুথ স্তরের একাংশ আধিকারিকের দাবি, বিতর্কিত ওই ফর্মে তথাকথিত ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের দিয়ে ঘোষণা করানো হচ্ছে যে তাঁদের বা তাঁদের পরিবারের কারও কাছে ২০০২ সালের লিঙ্কেজ নথি বা নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত ১৩টি গ্রহণযোগ্য নথির কোনওটিই নেই, তবে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাস করছেন। পাশাপাশি ওই ফর্মে সংশ্লিষ্ট বুথের অন্তত পাঁচজন বৈধ ভোটারের সই, তাঁদের পরিচয়পত্র নম্বর এবং স্বাক্ষর দেওয়ার বিধানও রয়েছে বলে অভিযোগ।

শুধুমাত্র পাঁচজন ভোটারের স্বাক্ষরের ভিত্তিতে, প্রয়োজনীয় নথি ছাড়া কীভাবে শেষ মুহূর্তে এমন ভোটারদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় তোলা সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি মনোজ আগরওয়ালের নজরে আনা হলে তিনি পুনরায় জানান, কমিশন এ ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।

নির্বাচন দফতর সূত্রে খবর, যাদবপুর ও হরিহরপাড়া এলাকা থেকে এই ফর্ম বিতরণের তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় কিছু বুথ স্তরের আধিকারিকের অভিযোগ, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের তরফেই ফর্ম সরবরাহ করা হয়েছে।

অন্যদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে গণনা ফর্ম যাচাইয়ের সময় রোল অবসারভারাও বিস্মিত হন।  কমিশনের নজরে এসেছে, মগরাহাট-২ ব্লকের মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কিছু বাসিন্দাকে তথাকথিত ‘রক্তের সম্পর্কের শংসাপত্র’ দিয়েছে। এক এসআইআর শুনানিতে মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার আতিয়ার মুনসি নামে এক বাসিন্দার ফর্মে সাতজন সন্তান দেখানো হয়েছিল। যৌক্তিক অসঙ্গতির অভিযোগে তাঁদের ডাকা হলে শুনানিতে তাঁরা পঞ্চায়েত প্রদত্ত ‘রক্তের সম্পর্কের শংসাপত্র’ জমা দেন। যদিও নির্বাচন কমিশনের গ্রহণযোগ্য নথির তালিকায় এ ধরনের কোনও শংসাপত্রের উল্লেখ নেই। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ইআরও-কে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

আরও পড়ুন- বাঁচার জন্য দীর্ঘ লড়াই চালিয়েও শেষরক্ষা হলো না। হল না শেষ রক্ষা, ‘নিপা’ আক্রান্ত নার্সের মৃত্যুতে রাজ্যে চরম আতঙ্ক

ECI SIR