মোদীর দৃঢ়তাকেই কী অহঙ্কার চূর্ণ ট্রাম্পের? ভারতের উপর আরোপিত শুল্ক আরোপ হ্রাসের বিরাট ইঙ্গিত

মার্কিন সরকারের তরফে ভারতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতের উপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক শীঘ্রই প্রত্যাহার করা হতে পারে।

মার্কিন সরকারের তরফে ভারতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতের উপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক শীঘ্রই প্রত্যাহার করা হতে পারে।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
US India trade, Russian oil tariff, India Russian oil, US tariff on India, US hints tariff withdrawal, India US trade deal, Donald Trump India, Narendra Modi Trump, US treasury statement, Scott Bessent, India energy policy, Russia oil import India, India Europe trade, global trade shift, Indian refineries, crude oil import India, US sanctions Russia

মোদীর দৃঢ়তাকেই কী অহঙ্কার চূর্ণ ট্রাম্পের?

মার্কিন সরকারের তরফে ভারতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতের উপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক শীঘ্রই প্রত্যাহার করা হতে পারে। এই সংকেত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ভারত ও ইউরোপের মধ্যে একটি বড় বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপ ও আমেরিকার সম্পর্কের টানাপোড়েনের আবহে বৈশ্বিক বাণিজ্যের একটি বড় অংশ ভারতের দিকে ঘুরে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisment

এই প্রেক্ষাপটেই দাভোসে কয়েকদিন আগে আমেরিকা ইউরোপের উপর নতুন করে শুল্ক আরোপ থেকে বিরত থাকে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার চেষ্টা করছে। যদি ভারতের উপর থেকে রাশিয়ান তেল সংক্রান্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়, তবে ভারত প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বা আনুমানিক ৫০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা পেতে পারে।

বিশ্বখ্যাত মৃৎশিল্পের আঁতুড়ঘর ঘূর্ণিতে উন্নয়নের ছোঁয়া, ‘পথশ্রী’ প্রকল্পে ৭৮ লক্ষ টাকার রাস্তার উদ্বোধন

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেস্যান্ট এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, রাশিয়ান তেল আমদানির উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলি রাশিয়া থেকে তেল কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। তাঁর দাবি, এই শুল্ক কার্যকর হওয়ার ফলে মার্কিন সরকারের লক্ষ্য সফল হয়েছে। বেস্যান্ট বলেন, “আমি মনে করি এখন এই শুল্ক প্রত্যাহারের পথ খুলে গেছে। এটি একটি বড় সাফল্য।”

তিনি আরও জানান, ইউরোপীয় দেশগুলি ভারতের উপর একই ধরনের শুল্ক আরোপে আগ্রহী নয়, কারণ তারা ভারতের সঙ্গে একটি বৃহৎ বাণিজ্য চুক্তি চায়। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের জ্বালানি সম্পর্কের উল্লেখ করে ভারতীয় পণ্যের উপর মোট শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করেছিলেন, যার মধ্যে ২৫ শতাংশ ছিল রাশিয়ান তেল সংক্রান্ত শুল্ক।

 "দিদি-মোদী দু’জনেই নির্বাচিত স্বৈরাচারী শাসক”, মনিরুল কাণ্ডে কমিশনের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল, গর্জে উঠলেন অধীর

এদিকে দাভোসে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তাঁর “ঘনিষ্ঠ বন্ধু” বলে উল্লেখ করেন। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, শুল্ক নিয়ে টানাপোড়েন থাকা সত্ত্বেও ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি হওয়া নিশ্চিত। ট্রাম্প বলেন, “আপনাদের প্রধানমন্ত্রী একজন অসাধারণ মানুষ। তাঁর প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।”

তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প সতর্ক করে দেন, রাশিয়ান জ্বালানি আমদানির প্রশ্নে যদি ভারত ওয়াশিংটনের অবস্থানের সঙ্গে একমত না হয়, তাহলে তাৎক্ষণিক বাণিজ্যিক পরিণতি হতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা চাইলে খুব দ্রুত শুল্ক বাড়াতে পারি, এবং তা ভারতের জন্য ভালো হবে না।” যদিও ভারত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, জ্বালানি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থ ও মূল্য স্থিতিশীলতার কথা মাথায় রেখেই নেওয়া হয়।

এই পরিস্থিতিতে মার্কিন কংগ্রেসে একটি প্রস্তাবিত বিল নিয়ে আলোচনা চলছে, যেখানে রাশিয়ান তেল কেনা দেশগুলির উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে। ভারত এই বিল সম্পর্কে অবগত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা প্রস্তাবিত বিল সম্পর্কে জানি এবং বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।”

মন্ত্রী হয়েও জুটেছিল তৃতীয় স্থান! সেই রেজিনগরেই কি ফের বাজিমাত করবেন হুমায়ুন?

ওয়াশিংটনের চাপ সত্ত্বেও ভারত তার ‘ভারত প্রথম’ জ্বালানি নীতিতে অনড় রয়েছে। নয়াদিল্লির দাবি, ১.৪ বিলিয়ন মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের জ্বালানি নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সেই কারণেই রাশিয়ান তেল আমদানির প্রশ্নে ভারত কোনও প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

এদিকে পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞা ও মার্কিন চাপের ফলে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলি বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ জানুয়ারি মাসে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়। তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি কমে দৈনিক ৯ লক্ষ ২৯ হাজার ব্যারেলে নেমেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বনিম্ন।

বর্তমানে ভারত মধ্যপ্রাচ্য, পশ্চিম আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকা থেকে তেল আমদানির দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যদিও এই উৎসগুলির খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি মাসের শেষের দিকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

West Bengal Weather: লেপ-কম্বল কি এবার সত্যিই আলমারিতে? রবিবার থেকেই আবহাওয়ায় বড় চমক!

Donald Trump India russia