“ফুড রেসিজম”-এর বিরুদ্ধে লড়াই, ২ লক্ষ ডলার সেটেলমেন্ট পেলেন দুই ভারতীয় পিএইচডি শিক্ষার্থী

Indian students US university: মিকারওয়েভে পাঁপড়ি পনির গরম করার ঘটনা থেকে শুরু হওয়া বৈষম্য মোকাবেলায় দুই ভারতীয় পিএইচডি শিক্ষার্থী আদিত্য প্রকাশ ও উর্মি ভট্টাচার্য মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ২ লাখ ডলারের Settlement পেলেন।

Indian students US university: মিকারওয়েভে পাঁপড়ি পনির গরম করার ঘটনা থেকে শুরু হওয়া বৈষম্য মোকাবেলায় দুই ভারতীয় পিএইচডি শিক্ষার্থী আদিত্য প্রকাশ ও উর্মি ভট্টাচার্য মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ২ লাখ ডলারের Settlement পেলেন।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Indian students US university, food racism, University of Colorado Boulder, civil rights lawsuit, PhD student discrimination, $200000 settlement, Aditya Prakash, Urmi Bhattacheryya, US education news, international student rights,ভারতীয় শিক্ষার্থী মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়, ফুড রেসিজম, ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডো বোল্ডার, নাগরিক অধিকার মামলা, পিএইচডি শিক্ষার্থী বৈষম্য, ২০ লাখ ডলার Settlement, আদিত্য প্রকাশ, উর্মি ভট্টাচার্য, বিদেশে পড়াশোনা খবর, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অধিকার

food racism: ন্যায়বিচার পেলেন দুই ভারতীয় শিক্ষার্থী।

সাধারণ এক দুপুরে নিজের লাঞ্চের জন্য মিকারওয়েভে পাঁপড়ি পনির গরম করছিলেন আদিত্য প্রকাশ, যখন তিনি কখনও ভাবতে পারেননি যে সেটিই তাকে ন্যায়বিচারের লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড় করাবে। সেপ্টেম্বর ২০২৩-এ, ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডো বোল্ডারের অ্যানথ্রোপোলজি ডিপার্টমেন্টে পিএইচডি শুরু করার এক বছরের মাথায়, ৩৪ বছর বয়সী প্রকাশ জানান, হঠাৎ করেই এক স্টাফ তার কাছে গিয়ে খাবারের “গন্ধ” নিয়ে অভিযোগ করে এবং মিকারওয়েভ ব্যবহার না করার জন্য নির্দেশ দেয়।

Advertisment

প্রকাশ শান্তভাবে তার অবস্থান ধরে রেখে স্টাফকে জানায়, “এটি শুধু খাবার। আমি গরম করছি এবং চলে যাব।” কিন্তু এই ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি। সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ প্রকাশ এবং তার সঙ্গী উর্মি ভট্টাচার্য, যিনি একজন পিএইচডি শিক্ষার্থী, নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার Settlement অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ২ লাখ ডলার দিয়েছে এবং দুজনকেই মাস্টার্স ডিগ্রি দিয়েছে। তবে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বা চাকরির জন্য তাদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়। এই মাসে প্রকাশ ও ভট্টাচার্য স্থায়ীভাবে ভারতে ফিরে আসেন।

আরও পড়ুন- West Bengal News Live Updates: ‘বেআইনি তল্লাশি’ বনাম ‘নথি চুরি’, আইপ্যাক মামলায় আজ হাইকোর্টে টানটান লড়াই

প্রকাশ বলেন, “সিস্টেম্যাটিক রেসিজম লক্ষ্য করে আমরা আইনগত পথ অবলম্বন করেছি। আমাদের পিএইচডি প্রক্রিয়ায় যেসব মাস্টার্স ডিগ্রি পাওয়া উচিত ছিল, সেগুলি ডিপার্টমেন্ট থেকে অস্বীকার করা হয়েছিল।”

 মামলায় বলা হয়, প্রকাশ যখন “বৈষম্যমূলক আচরণের” বিষয়টি তুলে ধরেন, তখন বিশ্ববিদ্যালয় ধাপে ধাপে প্রতিশোধমূলক কার্যক্রমে লিপ্ত হয়। এছাড়াও ডিপার্টমেন্টের কিচেন নীতি দক্ষিণ এশিয়ান শিক্ষার্থীদের ওপর “অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বৈষম্যমূলক প্রভাব” ফেলেছিল, যার ফলে অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থী নিজেদের লাঞ্চ খোলার ক্ষেত্রে দ্বিধা বোধ করতেন।

আরও পড়ুন-Suntalikhola: কলকাতা থেকে কয়েক ঘণ্টায় অভূতপূর্ব এক ‘নির্জনতার রাজ্য’! চেনেন সুন্দরী সুনতালীখোলা?

উর্মি ভট্টাচার্য জানান, এই ঘটনার দুই দিন পরই তিনি তার টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট জব হারান। পরবর্তীতে যখন কয়েকজন ভারতীয় শিক্ষার্থী একই ধরনের খাবার আনেন, তখন তাঁদের “বিক্ষোভ উস্কানির” অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।

উভয় শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটানো এই “বৈষম্য এবং প্রতিশোধ” তাদের মানসিক চাপ, দুঃখ ও কষ্টের কারণ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মুখপাত্র ডেবরা মেন্ডেজ-উইলসন জানান, বিশ্ববিদ্যালয় মামলার Settlement করেছে এবং কোনো দায় স্বীকার করে না। বিশ্ববিদ্যালয় এখনও শিক্ষার্থী, অধ্যাপক ও স্টাফদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আরও পড়ুন-Kolkata News: ২০ দিন পর জল থেকে উঠে এল অসুস্থ জলহস্তী, স্বস্তিতে আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ

প্রকাশ ও ভট্টাচার্য উভয়ই ভারতে ফিরে নতুন জীবন শুরু করতে প্রস্তুত। প্রকাশ বলেন, “যদি এই মামলা একটি বার্তা দিতে পারে যে ‘ফুড রেসিজম’ impunity-তে করা যাবে না, এবং আমরা ভারতীয়রা এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত, সেটিই আসল জয়।”

US food racism University of Colorado Boulder