/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/15/us-visa-ban-75-countries-india-not-included-iran-protests-2026-01-15-09-23-26.jpg)
জয়শঙ্করের সঙ্গে কথা ইরানি বিদেশমন্ত্রীর
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া, ইরান ও আফগানিস্তানসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করেছে। এই সিদ্ধান্ত ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। রাশিয়া, ইরান, আফগানিস্তান ছাড়াও সোমালিয়া, ইরাক, মিশর, ব্রাজিল, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, ইয়েমেনসহ মোট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর এই পদক্ষেপ প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, যেসব দেশের নাগরিকরা আমেরিকায় এসে সরকারি সুযোগ-সুবিধার উপর নির্ভর করতে পারেন, সেই সমস্ত দেশের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো এমন ব্যক্তিদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ আটকানো যাদের নিজেদের জীবন-যাপনের সক্ষমতা নেই এবং যারা সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল।
আরও পড়ুন- ইরানে ১০ হাজার ভারতীয়'র ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে? উত্তাল পরিস্থিতিতে দেশ ছাড়ার বড় নির্দেশ
তালিকাভুক্ত দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, আন্টিগুয়া ও বার্বুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা, বার্বাডোস, বেলারুস, ভুটান, বসনিয়া, ব্রাজিল, বর্মা, কম্বোডিয়া, ক্যামেরন, কেপ ভার্ডে, কলম্বিয়া, কঙ্গো, কিউবা, ডমিনিকা, মিশর, এরিট্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়েতামালা, গিনিয়া, হাইতি, ইরান, ইরাক, আইভরি কোস্ট, জামাইকা, জর্ডান, কাজ়াকস্থান, কোসোভো, কুয়েত, কিরগিস্তান, লাওস, লেবানন, লিবেরিয়া, লিবিয়া, মার্সেডোনিয়া, মলডোভা, মঙ্গোলিয়া, মরক্কো, মন্টেনেগ্রো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, রিপাবলিক অব কঙ্গো, রাশিয়া, রোয়ান্ডা, সেনেগাল, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান, ইয়েমেন, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস।
তালিকায় ভারতের নাম নেই। ফলে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রদানে কোনো বাধা নেই এবং মার্কিন প্রশাসন তাদের জন্য ভিসা প্রদান অব্যাহত রাখবে।
এদিকে ইরানে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে, বুধবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেছেন। জয়শঙ্কর নিজেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ এই তথ্য শেয়ার করেছেন। তিনি লিখেছেন, দুই নেতা ইরান এবং আশেপাশের অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করেছেন। কথোপকথনে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং প্রভাবিত দেশগুলির সম্ভাব্য পদক্ষেপও উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন- মার্কিন হামলার ভয়ে চূড়ান্ত সতর্ক ইরান, বন্ধ আকাশসীমা, ২৪ ঘন্টার মধ্যেই বড় হামলা?
এই আলোচনা এমন এক সময়ে হয়েছে যখন ইরান এবং পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য অংশে উত্তেজনা তীব্র হচ্ছে। ২৮শে ডিসেম্বর থেকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে, যা ক্রমশ সহিংস আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যেই বিক্ষোভে ২,৫০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন।
ভারত সরকারের তরফ থেকেও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক ইতিমধ্যেই ইরান ভ্রমণ বাতিল করার পরামর্শ দিয়েছে এবং ইরানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে। তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, "পর্যটকরা বাণিজ্যিক বিমান সহ যেকোনো উপলব্ধ পরিবহন ব্যবহার করে নিরাপদে ইরান ত্যাগ করুন।" প্রায় ১০,০০০ ভারতীয় নাগরিক ইরানে বসবাস করছেন।
আরও পড়ুন- উত্তাল ইরান! বন্ধ আকাশসীমা, বিবৃতি জারি করল এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো
একই সঙ্গে দিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসও মার্কিন সিদ্ধান্ত নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে। দূতাবাস এক্স-এ লিখেছে, "আমেরিকার একতরফা সিদ্ধান্ত বিশ্ব ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এতে রয়েছে অন্যায় শুল্ক আরোপ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি থেকে সরে যাওয়া। দেশগুলি যদি নীরব থাকে, বিপদ কেবল বাড়বে।"
Unilateral actions by the United States against the existing global order — including the imposition of unfair tariffs and its withdrawal from 66 international institutions — have pushed the world toward a breakdown of global norms. Silence and inaction by countries do not…
— Iran in India (@Iran_in_India) January 14, 2026
ইরানে বিক্ষোভের মূল কারণ দেশের দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি। ৩১টিরও বেশি প্রদেশে ৫০০টিরও বেশি বিক্ষোভ হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ক্রমবর্ধমান দাম মানুষকে ক্ষুব্ধ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি গত তিন বছরে ইরান সরকারের মুখোমুখি সবচেয়ে গুরুতর অভ্যন্তরীণ সংকট। এছাড়াও, ইরান ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক চাপের মুখোমুখি, বিশেষ করে গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার পর।
Received a call from Iranian Foreign Minister Seyed Abbas Araghchi. @araghchi
— Dr. S. Jaishankar (@DrSJaishankar) January 14, 2026
We discussed the evolving situation in and around Iran.


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us