/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/19/uttarakhand-char-dham-mobile-phone-ban-temples-2026-01-19-14-12-14.jpg)
বিরাট খবর! চারধাম নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন
চলতি বছরের চারধাম যাত্রায় মন্দিরের পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষা করতে বিরাট সিদ্ধান্ত নিল উত্তরাখণ্ড সরকার। বদ্রীনাথ, কেদারনাথ, গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী চার ধামে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রিল ও ভ্লগ তৈরিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বারবার বিতর্ক ও অশান্তির ঘটনার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক কর্তারা।
চারধাম যাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। গাড়ওয়াল কমিশনার বিনয় শঙ্কর পাণ্ডের সভাপতিত্বে চারধাম যাত্রা ট্রানজিট ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গাড়ওয়াল রেঞ্জের আইজি রাজীব স্বরূপ, বিভিন্ন জেলার জেলাশাসক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা।
গাড়ওয়াল কমিশনার বিনয় শঙ্কর পাণ্ডে জানান, গত কয়েক বছরে মন্দির চত্বরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে রিল ও ভ্লগ তৈরির ফলে একাধিকবার বিবাদ সৃষ্টি হয়েছে, যা তীর্থক্ষেত্রগুলির মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে। তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতি এড়াতেই বদ্রীনাথে সিংহদ্বার অতিক্রম করার পর মোবাইল ব্যাবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে। একইভাবে কেদারনাথ, গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী মন্দির চত্বরেও কোনও ভক্ত মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।”
তিনি আরও জানান, বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটি (BKTC) এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সাহায্যে ভক্তদের মোবাইল ফোন নিরাপদে রাখার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা করা হবে, যাতে মন্দিরে প্রবেশের আগে ফোন জমা দেওয়া যায়।
প্রশাসনের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একদিকে যেমন অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক রোধ করা যাবে, তেমনই ভক্তরা সম্পূর্ণ মনোযোগ ও ভক্তিভাব নিয়ে দর্শন করতে পারবেন। সরকার এই পদক্ষেপকে ধর্মীয় শৃঙ্খলা ও বিশ্বাসের পবিত্রতা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে।
বৈঠকে জানানো হয়, ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই চারধাম যাত্রা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সমস্ত জেলায় ছেড়ে দেওয়া হবে। জেলাশাসকদের তিন দিনের মধ্যে জরুরি কাজের তালিকা জমা দিতে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও, রাস্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ, এনএইচআইডিসিএল, পূর্ত দপ্তর (PWD) ও বিআরও-কে ৩১ মার্চের মধ্যে যাত্রাপথের সমস্ত রাস্তা মেরামতির কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএসএনএলকে যাত্রাপথ ও মন্দির এলাকায় উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরকে ১৫ দিন অন্তর ডাক্তার বদলির ব্যবস্থা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লাইন দেওয়ার দিন শেষ! SIR-এ ই-শুনানির নতুন দুয়ার খুলল নির্বাচন কমিশন
প্রশাসন জানিয়েছে, তীর্থযাত্রীদের রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থায় কোনও পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। আগের মতোই ৬০ শতাংশ অফলাইন এবং ৪০ শতাংশ অনলাইন রেজিস্ট্রেশন চালু থাকবে। প্রয়োজনে রেজিস্ট্রেশন কাউন্টারের সংখ্যাও বাড়ানো হতে পারে। যানজট নিয়ন্ত্রণে ছোট বাস দিয়ে শাটল পরিষেবা চালু করা এবং ব্রহ্মপুরী চেকপোস্ট সংলগ্ন সড়ক প্রশস্ত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
গাড়ওয়াল কমিশনার জানান, ২০২৩ সালে রেকর্ড ৫৬ লক্ষ ভক্ত চারধাম দর্শন করেন। আগের মরশুমেও ৫০ লক্ষের বেশি তীর্থযাত্রী নির্বিঘ্নে যাত্রা সম্পন্ন করেছেন। তাঁর আশা, সরকারের এই সুপরিকল্পিত পদক্ষেপগুলির ফলে এ বছরের চারধাম যাত্রা আরও সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে এবং দেশের অন্যতম পবিত্র তীর্থক্ষেত্রগুলির মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকবে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us