আদালতের পর্যবেক্ষণে ফাঁকফোকর, উত্তরাখণ্ডের ধর্মান্তর আইন কি ব্যর্থ?

উত্তরাখণ্ডে ‘জোরপূর্বক ধর্মান্তর’ রুখতে ২০১৮ সালে বিজেপি সরকার যে 'উত্তরাখণ্ড ফ্রিডম অফ রিলিজিয়ন অ্যাক্ট' (UFRA) প্রণয়ন করেছিল, প্রায় সাত বছর পর আদালতের পর্যালোচনায় সেই আইনের কার্যকারিতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।

উত্তরাখণ্ডে ‘জোরপূর্বক ধর্মান্তর’ রুখতে ২০১৮ সালে বিজেপি সরকার যে 'উত্তরাখণ্ড ফ্রিডম অফ রিলিজিয়ন অ্যাক্ট' (UFRA) প্রণয়ন করেছিল, প্রায় সাত বছর পর আদালতের পর্যালোচনায় সেই আইনের কার্যকারিতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Uttarakhand conversion law, Freedom of Religion Act UFRA, forced religious conversion cases, Uttarakhand court verdict, religious conversion acquittal, interfaith marriage cases, UFRA legal scrutiny, BJP Uttarakhand law, Supreme Court bail conversion case, Uttarakhand news Bengali

বিরাট ধাক্কার মুখে ধর্মান্তর আইন

উত্তরাখণ্ডে ‘জোরপূর্বক ধর্মান্তর’ রুখতে ২০১৮ সালে বিজেপি সরকার যে 'উত্তরাখণ্ড ফ্রিডম  অফ রিলিজিয়ন অ্যাক্ট' (UFRA)  প্রণয়ন করেছিল, প্রায় সাত বছর পর আদালতের পর্যালোচনায় সেই আইনের কার্যকারিতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তদন্তে দেখা গিয়েছে, এই আইনে দায়ের হওয়া মামলাগুলির অধিকাংশই আদালতের কাছে যথাযথ গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না। এখনও পর্যন্ত যে পাঁচটি মামলা সম্পূর্ণ বিচারপর্বে গিয়েছে, সব ক’টিতেই অভিযুক্তরা বেকসুর খালাস পেয়েছেন।

Advertisment

আরও পড়ুন-‘মিয়া’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, বিরোধীদের আক্রমণের জবাব মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

আরটিআই আইনে সংগৃহীত নথির ভিত্তিতে করা এই অনুসন্ধানে দেখা গিয়েছে, ২০১৮ থেকে এখন পর্যন্ত UFRA-র অধীনে ৬২টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ৫১টি মামলার আদালতের নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র পাঁচটি মামলার পূর্ণাঙ্গ বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রতিটিতেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। আরও অন্তত সাতটি মামলা মাঝপথেই খারিজ হয়ে যায়, কারণ অভিযোগকারীরা আদালতে নিজেদের আগের বক্তব্য থেকে সরে যান বা তদন্তে জোরজবরদস্তি ও প্রলোভনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন-রাজীব বিদায়! কে হবেন রাজ্যের পরবর্তী ডিজিপি? তুঙ্গে চর্চা

বাকি মামলাগুলির বেশিরভাগেই অভিযুক্তরা জামিনে মুক্ত। জানা গিয়েছে, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ অভিযুক্ত জামিন পেয়েছেন। এর মধ্যে ১১ জন উত্তরাখণ্ড হাইকোর্ট এবং একজন সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পান। একাধিক মামলায় আদালত মন্তব্য করেছে, অভিযুক্ত ও অভিযোগকারীর মধ্যে সম্পর্ক ছিল পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে, অথবা তদন্তে গুরুতর প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ছিল।

খালাস পাওয়া মামলাগুলির মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনায় দেখা যায়, দুই পরিবারের সম্মতিতে হওয়া একটি বিয়েকে কেন্দ্র করে অভিযোগ দায়ের করা হয়। যদিও দম্পতি হলফনামা দিয়ে জানিয়েছিলেন যে মহিলা ধর্মান্তরিত হবেন না, তবুও অভিযুক্ত প্রায় ছ’মাস জেলে ছিলেন। পরে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, স্বেচ্ছায় ও পরিবারের সম্মতিতে হওয়া আন্তঃধর্মীয় বিয়েতে রাষ্ট্রের আপত্তি থাকতে পারে না।

আরও পড়ুন- জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে আপস! হাইকোর্টে ভর্ৎসনার মুখে রাজ্য, পাখির চোখ বাংলা, আজই রাজ্যে শাহ

আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ দায়ের করেছেন তৃতীয় পক্ষ, যাঁরা আইনের আওতায় সরাসরি অভিযোগ জানানোর অধিকারী নন। কোথাও আবার ডিজিটাল প্রমাণ যাচাই করা হয়নি, কোথাও সাক্ষীদের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। কয়েকটি মামলায় আদালত স্পষ্ট করেছে, ধর্ম পালনের স্বাধীনতা সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার এবং তা লঙ্ঘনের প্রমাণ না থাকলে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে আইনটি চালু হওয়ার পর ২০২২ ও ২০২৫ সালে তা আরও কঠোর করা হয়, সাজা বাড়ানো হয় ১০ বছর থেকে বিশেষ ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন পর্যন্ত। যদিও ২০২৫ সালের সংশোধনী এখনও কার্যকর হয়নি। তবু মামলার সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে বিশেষ করে ২০২২ সালের পর। তবে আদালতের রায়গুলি স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ হাজির করতে ব্যর্থ হচ্ছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।

আরও পড়ুন- ফের SIR শুনানি চলাকালীন রাজ্যে মৃত্যুর ভয়ঙ্কর অভিযোগ, সোমেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে মমতা

এই প্রসঙ্গে উত্তরাখণ্ড পুলিশ মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ধারাবাহিক মুক্তি প্রমাণ করছে যে জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ আদালতের বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় সেভাবে টিকছে না, আর তাতেই এই আইনের প্রয়োগ ও উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

Uttarakhand