বর্ষশেষে উত্তাল বিশ্বভারতী, কী কারণে ছড়ালো অশান্তির আগুন?

মঙ্গলবার রাতে বিশ্বভারতীর একাধিক ভবনের ছাত্রছাত্রীরা হিন্দি ভবনের সামনে জড়ো হয়ে থালা হাতে বিক্ষোভ শুরু করেন।

মঙ্গলবার রাতে বিশ্বভারতীর একাধিক ভবনের ছাত্রছাত্রীরা হিন্দি ভবনের সামনে জড়ো হয়ে থালা হাতে বিক্ষোভ শুরু করেন।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Visva Bharati protest, Santiniketan hostel students agitation, food coupon issue Visva Bharati, Vishva Bharati canteen controversy, heritage campus protest, Poush Mela impact, student protest Santiniketan, Visva Bharati canteen food quality, hostel food crisis Bengal

বর্ষশেষে উত্তাল বিশ্বভারতী

থালা হাতে “খানা দো, খানা দো” স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠল বিশ্বভারতীর হোস্টেল চত্বর। খাবারের কুপন থাকা সত্ত্বেও খাবার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ দেখালো বিশ্বভারতীর বিভিন্ন ভবনের আবাসিক ছাত্রছাত্রীরা।মঙ্গলবার রাতে বিশ্বভারতীর একাধিক ভবনের ছাত্রছাত্রীরা হিন্দি ভবনের সামনে জড়ো হয়ে থালা হাতে বিক্ষোভ শুরু করেন। আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, চলতি মাসে ক্যান্টিনে আগাম ২২ দিনের খাবারের কুপন কাটা হলেও হঠাৎ করেই ক্যান্টিনের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা জানিয়ে দেন, ২২ তারিখের পর সেই কুপন আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

Advertisment

এছাড়াও ক্যান্টিনে পরিবেশিত খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের বলেও অভিযোগ তোলেন ছাত্রছাত্রীরা। খাবার সংক্রান্ত এই অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে ছাত্রছাত্রীদের স্লোগানে দীর্ঘ সময় ধরে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা বিশ্বভারতী চত্বর। এ বিষয়ে বিশ্বভারতীর জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই সমস্যার সমাধান করা হবে।পড়ুয়াদের দাবি, পরীক্ষা সহ নানান কর্মসূচি রয়েছে, তাই পুরো ডিসেম্বর মাস জুড়ে খাবার দেওয়া হোক৷ মধ্যরাতে বিক্ষোভের জেরে উত্তাল হয়ে ওঠে 'হেরিটেজ' ক্যাম্পাস৷ পরে নিরাপত্তারক্ষীরা এসে ছাত্রীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন৷ 

বিশ্বভারতীর আবাসিক পড়ুয়ারা সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনের খাবার খান৷ তার জন্য প্রতি মাসে টাকা দিয়ে কুপন সংগ্রহ করে রাখতে হয়। সেই মত ডিসেম্বর মাসের কুপন সংগ্রহ করে রেখেছেন পড়ুয়ারা৷ অভিযোগ, সারা মাসের কুপন থাকা সত্ত্বেও ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্তই খাবার দেওয়া হবে। আর এই মাসে দেওয়া হবে না৷ এর নেপথ্যের কারন হল, ২৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা। যার সম্পূর্ণ পরিচালনার দায়িত্ব থাকে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ও শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের উপর। 

কিন্তু,পড়ুয়াদের দাবি, কারও পরীক্ষা রয়েছে, কারও নানান কর্মসূচি রয়েছে। তাই কেন কুপন থাকা সত্ত্বেও পুরো মাস ক্যান্টিন থেকে খাবার দেওয়া হবে না৷ এই মর্মে মধ্যরাতে থালা বাজিয়ে শুরু হয় ছাত্রীদের বিক্ষোভ। বিভিন্ন আবাসিক ছাত্রীরা 'হেরিটেজ' ক্যাম্পাসে বেরিয়ে এসে প্রতিবাদ শুরু করে৷ হিন্দি ভবনের সামনের রাস্তায় বসে কর্তপক্ষের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখায় ছাত্রীরা৷ পরে বিশ্বভারতীর নিরাপত্তা আধিকারিক সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নিরাপত্তারক্ষীরা এসে ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন৷ দিনের বেলা এই বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে, এই আশ্বাস দেওয়ায় কয়েক ঘন্টা পর ওঠে ছাত্রীদের বিক্ষোভ। 

বিক্ষোভকারী ছাত্রীদের মধ্যে অঙ্কিতা সিং, বিলকিস খাতুন বলেন, "আমরা গরু-ছাগল নাকি, যে হঠাৎ করে বলবে ২২ তারিখের পর আর খাবার দেওয়া হবে না৷ আমরা তো সারা মাসের কুপন কেটে রেখেছি৷ প্রত্যেক কোন না কোন কাজ, সমস্যা আছে৷ বাড়ি নাও যেতে পারে৷ তাই আমাদের স্পষ্ট দাবি কুপন কেটে রেখেছি, পুরো মাস খাবার দিতে হবে৷ আর এই বিষয়টার সমাধান প্রক্টর কে করতে হবে৷ সমাধান না হলে দরকার হলে আমরা কুপন বয়কট করবো, ক্যান্টিনের খাবার আর খাবো না।"

প্রসঙ্গত, বিশ্বভারতীর বিভিন্ন ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে। এই নিয়ে একাধিকবার ছাত্র আন্দোলনে উত্তালও হয়েছে বিশ্বভারতী। দায়িত্ব পেয়েই খাবারের মান খতিয়ে দেখতে সরজমিনে ঘুরে দেখেছিলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ। কিন্তু, এবার খাবারের মান নয়, কুপন থাকা সত্ত্বেও সারা মাস খাবার দেওয়া হবে না বলায় মধ্য রাতে উত্তাল হয় 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ' বিশ্বভারতী ক্যাম্পাস। এই প্রসঙ্গে যদিও বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, "ছাত্রীদের অভিযোগের বিষয়টি ছাত্র পরিচালক দেখছেন৷ সমাধান বের হবে।"

আরও পড়ুন- মা ক্যান্টিনে মমতার অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি, ক্ষুধার্তদের হাতে তুলে দিলেন খাবার

SIR আবহে তোলপাড়! ভারতেও ভোট, বাংলাদেশের তালিকাতেও নাম! মেমারিতে অভিযোগের ঝড়

Birbhum news in west bengal