/indian-express-bangla/media/media_files/2026/03/02/west-asia-war-indian-diaspora-fear-gulf-missile-attacks-flights-disrupted-2026-03-02-12-17-18.jpg)
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন প্রায় এক কোটি ভারতীয় প্রবাসী।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন প্রায় এক কোটি ভারতীয় প্রবাসী। আমেরিকা ও ইজরায়েলের ইরানে যৌথ হামলা এবং তার জেরে উপসাগরীয় অঞ্চজুড়ে পাল্টা আঘাত, এই সংঘাত পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের কাছে যেন দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছে। আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র, সর্বক্ষণ ফোনে সতর্কবার্তা আর বাড়ি থেকে আসা উদ্বিগ্ন কন্ঠে ফোন সব মিলিয়ে স্বাভাবিক জীবন কার্যত থমকে গেছে।
আরও পড়ুন-খামেনিকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছিল? মার্কিন-ইজরায়েলর পুরো পরিকল্পনা জানলে গায়ে কাঁটা দেবে
পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে থাকা ভারতীয়দের পরিবারগুলিও চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। কর্নাটকের দক্ষিণ কন্নড় জেলার লাইলার বাসিন্দা ৫৬ বছরের আসিয়া জানান, আবু ধাবি ও বাহরিনে থাকা তাঁর দুই ছেলের জন্য খবর শোনার পর থেকেই তিনি প্রার্থনা করছিলেন। সন্তানরা ফোন করে নিরাপদে থাকার কথা জানানোয় তবেই কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন তিনি।
সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতেও। দুবাইয়ে বসবাসকারী পাঞ্জাবের জালন্ধরের শিল্পপতি ও সমাজসেবী এস পি সিং ওবেরয় জানান, আকাশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উড়তে দেখা যাচ্ছে এবং সেগুলি প্রতিহত করার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটছে। তাঁর কথায়, পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর এবং সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না বেরোতে বলা হয়েছে।
এই সকল দেশগুলিতে ভারতীয় প্রবাসীর সংখ্যা বিশ্বের বৃহত্তম প্রবাসী জনসংখ্যার মধ্যে অন্যতম। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুধু GCC দেশগুলিতেই ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৯০ লক্ষের বেশি ভারতীয় বসবাস করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় রয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও সৌদি আরবে। এছাড়াও ইজরায়েলে এক লক্ষের বেশি এবং ইরানে দশ হাজারেরও বেশি ভারতীয় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
যুদ্ধের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশপথ কার্যত বিপর্যস্ত। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় দুবাই, আবু ধাবি ও দোহা-সহ একাধিক বড় বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছে। বাতিল হয়েছে হাজারের বেশি ফ্লাইট। প্রতিদিন প্রায় ৯০ হাজার যাত্রী চলাচলকারী এই হাবগুলিতে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অন্তত চারজন আহত হওয়ার খবরও মিলেছে।
দুবাইয়ে কর্মরত বদরুদ্দিন আজমান জানান, আতঙ্কের বড় কারণ ভুল খবর। তাঁর কথায়, হোয়াটসঅ্যাপ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো ভুয়ো বার্তার জেরে ভারতে থাকা আত্মীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। প্রশাসনের তরফে বাড়ির ভিতরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় পড়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। স্কুলগুলি ৪ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে এবং অনলাইন ক্লাস চালু করা হয়েছে।
আবু ধাবিতে থাকা মহম্মদ আদম ও আকবর আলি জানান, সাইরেন বেজে ওঠার পরই তাঁরা বাড়ির ভিতরে আশ্রয় নেন। তাঁদের কথায়, মূলত মার্কিন ঘাঁটিগুলিই লক্ষ্যবস্তু হলেও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় প্রচণ্ড শব্দ ও বিস্ফোরণের কারণে রাতটা ছিল ভয়াবহ।
আরও পড়ুন- গ্র্যান্ড ফিনালে-তে জয় পেতে মরিয়া বিজেপি, পরিবর্তনের পক্ষে আওয়াজ তুলে সরকার বদলের 'ঢাকে পড়ল কাঠি’
বাহরিনের রাজধানী মানামায় থাকা কেরলের এক ব্যবসায়ী জানান, বারবার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। জুফাইর এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সেই এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সরকার নাগরিক ও প্রবাসীদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী মিললেও সব দোকান খোলা নেই।
এই পরিস্থিতিতে বহু ভারতীয় যাত্রীও আটকে পড়েছেন। বেঙ্গালুরু থেকে দুবাই ফেরার কথা ছিল দীনদয়াল শেট্টির। কিন্তু আকাশপথ বন্ধ থাকায় কবে ফিরতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তিনি। উপসাগর জুড়ে বিমানবন্দরগুলিতে এমন বহু যাত্রী এখন ‘না এখানে, না সেখানে’ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। আতঙ্ক, অপেক্ষা আর প্রার্থনার মধ্যেই কাটছে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় পরিবারের প্রতিটি মুহূর্ত।
আরও পড়ুন- PM Modi: মধ্যপ্রাচ্যে তুঙ্গে অস্থিরতা, ত্রাতার ভূমিকায় মোদী, তড়িঘড়ি ফোন উঠিয়ে বললেন এই বড় কথা
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us