বিহার ভোটের ফলাফল দেখে ভয় পেয়েছেন? কল্যাণের মন্তব্যের পালটা খোঁচা রাজ্যপালের

রাজভবনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযোগ ঘিরে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যপালকে অস্থায়ীভাবে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন নিরাপত্তা আধিকারিকরা। তবে রাজ্যপাল স্পষ্ট জানিয়েছেন— “যাই হোক না কেন, আমি রাজভবনেই থাকব।”

রাজভবনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযোগ ঘিরে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যপালকে অস্থায়ীভাবে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন নিরাপত্তা আধিকারিকরা। তবে রাজ্যপাল স্পষ্ট জানিয়েছেন— “যাই হোক না কেন, আমি রাজভবনেই থাকব।”

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
West Bengal Governor, Raj Bhavan, Kalyan Banerjee, arms and ammunition allegation, TMC MP controversy, Mamata Banerjee, Lok Sabha inquiry, Kolkata political news, রাজ্যপাল পশ্চিমবঙ্গ, রাজভবন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অস্ত্র ও গোলাবারুদ অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, লোকসভার তদন্ত, কলকাতা রাজনৈতিক সংবাদ, Raj Bhavan controversy, Bengal politics, West Bengal election 2025

রাজভবনে 'বোমা গুলি বন্দুক', বিস্ফোরক মন্তব্যে বিরাট বিপাকে কল্যান

রাজভবনে মজুত রয়েছে 'বোমা গুলি বন্দুক'। বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় ফেললেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যান বন্দোপাধ্যায়। এরপরই রাজভবনের তরফে পালটা চ্যালেঞ্জ ছোঁড়া হয়েছে তৃণমূল সাংসদকে। প্রমাণ করতে না পারলে....

Advertisment

আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে SIR ইস্যু নিয়ে উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই SIR-এর অধীনে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন শুরু করেছে, যার বিরোধিতা শুরু থেকেই করে আসছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেস। বিহার নির্বাচনের ফলাফলের পর এই ইস্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর মাঝেই তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজভবন সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি।

আরও পড়ুন- ভোটের আগে বিরাট বিপাকে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র, CBI-কে চার্জশিট জমা দেওয়ার নির্দেশ

Advertisment

১৫ নভেম্বর তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, রাজভবনে অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত করা হচ্ছে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। রাজ্যপাল ড. সি.ভি. আনন্দ বোসের দফতর তৎক্ষণাৎ এই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জানায়, যারা এই অভিযোগ তুলেছেন তারা সরাসরি রাজভবনে এসে অভিযোগ যাচাই করতে পারেন। রাজভবনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়, ১৬ নভেম্বর ভোর ৫টা থেকে সর্বোচ্চ ১০০ জন সাংসদ, সাংবাদিক ও নাগরিক রাজভবনে প্রবেশ করে দেখতে পারবেন সেখানে কোনও অস্ত্র বা গোলাবারুদ মজুত আছে কি না।

ঠিক কী বলেছেন কল্যান? তৃণমূল সাংসদ কল্যান বন্দোপাধ্যায় রাজ্যপালের বিরুদ্ধে এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, ‘রাজ্যপালকে আগে বলুন যেন উনি বিজেপির ক্রিমিনালদের রাজভবনে ঠাঁই দেওয়া বন্ধ করেন। রাজভবনে ক্রিমিনালদের ডাকছেন। সবার হাতে একটা বন্দুক দিচ্ছেন, বোমা দিচ্ছেন। দিয়ে বলছেন, তৃণমূলকে মেরে এসো। আগে এগুলো বন্ধ করতে হবে।’

আরও পড়ুন- কাঁপছে দার্জিলিং, চলতি সপ্তাহেই কলকাতায় জাঁকিয়ে ঠান্ডা? জানুন রবিবারের ওয়েদার রিপোর্ট

রাজভবনের বিবৃতিতে আরও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, অভিযোগ যদি মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তাহলে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে, নইলে 'ঘৃণাসূচক' মন্তব্যের জন্য আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। একইসঙ্গে কলকাতা পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে,  যদি সত্যিই অস্ত্র ভেতরে ঢোকে, তবে তা রাজভবন ও ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তাপ্রাপ্ত রাজ্যপালের জন্য গুরুতর হুমকি। তাই অবিলম্বে তদন্তের দাবি জানানো হচ্ছে।’ 

এদিকে, এই অভিযোগের জেরে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। রাজভবনের বিরুদ্ধে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের বিষয়টি  ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পৌঁছেছে। বিষয়টি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার নজরে আনা হয়েছে। রাজ্যপালের দফতর জানিয়েছে, লোকসভার একজন দায়িত্বশীল সদস্য এমন গুরুতর অভিযোগ করায় স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক তদন্তের অনুরোধ জানানো হবে বলে রাজভবন সূত্রে খবর।

আরও পড়ুন-  SIR আতঙ্কে বাংলায় পরপর মৃত্যু! দায় কার? কমিশনের বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল

রাজভবনের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা অস্থায়ীভাবে রাজ্যপালকে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও রাজ্যপাল আনন্দ বোস জানিয়েছেন, "যাই হোক, আমি রাজভবনেই থাকব।" রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই এই ইস্যু নিয়ে রাজভবন-তৃণমূল সংঘাত আরও চওড়া হতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে রাজভবনের সংঘাত একাধিকবার প্রকাশ্যে এসেছে। তবে রাজভবনে অস্ত্র মজুত থাকার মতো অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন।

এদিকে ঘটনার পর রাজ্যপাল জানিয়েছেন, সাংসদ হয়েও কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়  “দায়িত্বজ্ঞানহীন” মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বিষয়টি জানাবেন । কল্যাণ যদি ক্ষমা না চান, তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। রাজ্যপাল আরও বলেন, “সম্মানীয় সাংসদ কি নির্বাচনের সময়ে হিংসার বাতাবরণ তৈরি করতে চাইছেন? বিহারের নির্বাচনের ফলাফল দেখে কি তিনি ভয় পেয়েছেন?”

Kalyan Banerjee cv ananda bose