/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/24/west-bengal-protests-bangladesh-hindu-youth-killing-dipu-das-2025-12-24-16-50-15.jpg)
বাংলাদেশে হিন্দু যুবককে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভ
বাংলাদেশের ময়মনসিংহে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা ও দেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় ফের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কলকাতা, হাওড়া, শিলিগুড়ি ও উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
বুধবার দুপুরে হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিজেপি সমর্থক বিক্ষোভকারীরা হাওড়া ব্রিজের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। হাওড়া ব্রিজে পৌঁছনোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তর্কাতর্কি শুরু হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিবাদের নামে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটতে দেওয়া হবে না এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ মিছিল আটকে দিলে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় বসে পড়েন এবং ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন। এতে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে হালকা বল প্রয়োগ করে। পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা আচমকাই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠায় পরিস্থিতি সামাল দিতে বলপ্রয়োগ করতে হয়।
এদিকে, দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি সংলগ্ন ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত এবং উত্তর ২৪ পরগনার পেট্রাপোল সীমান্ত এলাকাতেও উত্তেজনা ছড়ায়। বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের কর্মীরা প্রতিবাদে সীমান্তে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ করে দেন। ‘সনাতনী জাতীয়তাবাদী মঞ্চ’-এর কর্মীরা ঘোজাডাঙা সীমান্তে রাস্তা অবরোধ করে বাংলাদেশে পণ্য রফতানি বন্ধ করেন।
বিক্ষোভকারীদের একাংশ দাবি করেন, সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচার বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ভারত সরকারের উচিত বাংলাদেশের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত রাখা। উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা এলাকায় ৩২ বছর বয়সি হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করে দুষ্কৃতীরা এবং পরে তাঁর দেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার কলকাতায় শিয়ালদহ থেকে পার্ক সার্কাসে বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনের উদ্দেশে একটি মিছিল বের হয়। তবে বেকবাগান এলাকায় পুলিশ সেই মিছিল আটকে দিলে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং পুলিশের লাঠিচার্জে বেশ কয়েকজন আহত হন।গোটা ঘটনায় ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
সোমবার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বেও বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। প্রায় দু’হাজার সমর্থক নিয়ে তিনি রাস্তায় বসে পড়েন। শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, তা না হলে আগামী ২৬ ডিসেম্বর আরও বড় আন্দোলন হবে।
এদিকে, মঙ্গলবার একই ইস্যুতে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের সামনেও বিক্ষোভ হয়। সেখানে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয় বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা।
আরও পড়ুন- 'আর কতদিন এভাবে হিন্দুদের পুড়ে মরতে হবে'? ইউনূসের বিরুদ্ধে সরাসরি হুঙ্কার লেখিকা তসলিমা নাসরিনের
আরও পড়ুন-ওসমান হাদি খুনে এবার ইউনূসের বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙ্গুল ভাই ওমরের, তুলকালাম বাংলাদেশে
আরও পড়ুন- হিন্দু যুবক পুড়িয়ে মারার ঘটনায় ঘরে বাইরে প্রবল চাপে ইউনূস, ড্যামেজ কন্ট্রোলে এবার বড় পদক্ষেপ
আরও পড়ুন-'যদি সত্যিই ধর্মনিরপেক্ষ হতেন', প্রার্থীপদ বাতিল হতেই হুমায়ুনকে তুলধোনা নিশার
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us