/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/04/west-bengal-second-most-visited-international-tourists-winter-destinations-2026-01-04-19-06-34.jpg)
প্রকৃতি যেন কথা বলবে আপনার সঙ্গে, কাটবে সকল একাকীত্ব
Top Winter Destinations: ভারতের পর্যটন মানচিত্রে উল্লেখযোগ্য উত্থান পশ্চিমবঙ্গের। কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পশ্চিমবঙ্গে ভ্রমণ করেছেন প্রায় ৩১ লক্ষ বিদেশি পর্যটক। এই সংখ্যার নিরিখে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আগমনে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে রাজ্য। ইউরোপ কিংবা আমেরিকা থেকে সরাসরি উড়ান থাকা একাধিক জনপ্রিয় গন্তব্যকে পিছনে ফেলে এই সাফল্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যটন মহল।
শীতকাল পশ্চিমবঙ্গ ঘোরার অন্যতম সেরা সময়। হিমালয়ের কোলে পাহাড়ি গ্রাম থেকে শুরু করে শান্ত নদীর তীরে জনপদ রাজ্যের বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতি শীতের মরশুমে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। দিঘা, মন্দারমণি, শান্তিনিকেতন বা দার্জিলিংয়ের মতো পরিচিত গন্তব্যের বাইরে শীতকালে ঘোরার জন্য রয়েছে বেশ কিছু অফবিট জায়গা, যেগুলি ধীরে ধীরে পর্যটকদের নজর কাড়ছে।
কালিম্পং মহকুমার অন্তর্গত চরখোল (Charkhole) একটি নিরিবিলি পাহাড়ি গ্রাম। নেওরা ভ্যালি (Neora Valley) অঞ্চলের অংশ এই এলাকা ঘন পাইনের, সাইপ্রাস ও শাল জঙ্গলে ঘেরা। এখান থেকে মাউন্ট এভারেস্ট পর্যন্ত দেখা যায় বলে স্থানীয়দের দাবি। প্রকৃতির নিঃশব্দ সৌন্দর্য, গ্রামীণ জীবন যাঁরা পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য চরখোল আদর্শ গন্তব্য।
দার্জিলিং সংলগ্ন সিটং একটি মনোরম লেপচাজগত। প্রায় ১,৩৩৩ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই গ্রামটি খোলা নদী দ্বারা বিভক্ত। শীতকালে পাহাড়জুড়ে কমলা বাগান সোনালি আভায় ভরে ওঠে, যা পর্যটকদের বিশেষ আকর্ষণ করে । কুয়াশাঘেরা সকাল, ঐতিহ্যবাহী ঘরবাড়ি আর নিস্তব্ধ পরিবেশে প্রকৃতির কোলে সময় কাটাতে চাইলে সিটং অনন্য।
তাকদাহ নামের অর্থই কুয়াশা। লেপচা ভাষা থেকে নাম পাওয়া এই পাহাড়ি শহরটি একসময় ব্রিটিশদের ক্যান্টনমেন্ট ছিল। প্রায় সিটংয়ের সমান উচ্চতায় অবস্থিত তাকদাহ অর্কিড সেন্টার ও ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের জন্য পরিচিত। পরিত্যক্ত ক্লাব হাউস ও শান্ত তাকদাহ মনাস্ট্রি ঘুরে দেখেন বহু পর্যটক। শীতকালে এখানকার ঠান্ডা ও পরিষ্কার আবহাওয়া ট্রেকিং ও ভ্রমণের জন্য আদর্শ।
কালিম্পং থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত লাভা আরও ঠান্ডা ও ঘন জঙ্গলের অভিজ্ঞতা দেয়। ২,১৩৮ মিটার উচ্চতায় থাকা এই জায়গা পাইনের জঙ্গলে ঘেরা। এলাকায় বার্কিং ডিয়ার ও হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ারসহ নানা বন্যপ্রাণীর বাস। কুয়াশায় ঢাকা সকাল আর পাখির ডাক লাভাকে ট্রেকার ও বার্ডওয়াচারদের প্রিয় করে তুলেছে।
ডুয়ার্স অঞ্চলের অফবিট ডেস্টিনেশন ফাগু শীতকালে ভ্রমণের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয়। প্রায় ২,০৫০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই জায়গা থেকে মহানন্দা উপত্যকা ও কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। ভিড়হীন, শান্ত পরিবেশে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে চাইলে ফাগু আদর্শ শীতকালীন গন্তব্য।
উপকূলপ্রেমীদের জন্য রয়েছে বকখালির কাছে হেনরিজ আইল্যান্ড। নির্জন সমুদ্রতট ও ম্যানগ্রোভে ঘেরা এই দ্বীপটি শান্ত অবকাশযাপনের জন্য পরিচিত। সৈকতে ছড়িয়ে থাকা লাল কাঁকড়ার দৃশ্য এবং মনোরম সূর্যাস্ত পর্যটকদের মুগ্ধ করে। পরিযায়ী পাখির মরশুমে এখানে পাখি দেখারও সুযোগ মেলে।
গ্রামীণ বাংলার স্বাদ নিতে চাইলে বাবুর হাট এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেয়। নদীর ধারে অবস্থিত এই গ্রামটি পরিচিত বিস্তীর্ণ ভেড়ি, সবুজ মাঠ আর কাঁচা বাড়ির জন্য। নৌকাভ্রমণ, প্রকৃতি-পথে হাঁটা ও স্থানীয় মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের সঙ্গে সময় কাটানো যায় এখানে। কলকাতা থেকে একদিনের শীতকালীন ভ্রমণের জন্য বাবুর হাট ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
সোম থেকেই বঙ্গে পারদ পতন, বইবে প্রবল ঠান্ডার শীতল স্রোত, ফের হাড় কাঁপবে কলকাতার
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us