/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/16/why-court-oath-on-gita-not-ramayan-reason-explained-2025-11-16-14-41-17.jpg)
গীতার নামে শপথ নিতে হয় কেন?
আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ার আগে সাধারণত গীতার উপর হাত রেখে শপথ নেওয়ার চিত্র আমরা সিনেমা ও বাস্তবে দেখতে পাই। কিন্তু কেন রামায়ণ বা অন্য কোনো গ্রন্থ নয়? কেন বিশেষভাবে গীতাতেই হাত রেখে শপথ নেওয়ার রীতি প্রচলিত রয়েছে? এই প্রথার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।
আরও পড়ুন- ভোটের আগে বিরাট বিপাকে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র, CBI-কে চার্জশিট জমা দেওয়ার নির্দেশ
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ভারতে মুঘল শাসনকালে প্রথমবার ধর্মগ্রন্থের উপর হাত রেখে শপথ নেওয়ার রীতি চালু হয়। সে সময় মুঘল শাসকরা অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের স্বার্থে মিথ্যা বলতেন বলে সাধারণ নাগরিকদের ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখা হত না। তাই ধর্মগ্রন্থে হাত রেখে সত্য বলার শপথ নেওয়ার প্রথা শুরু হয়।
আরও পড়ুন- SIR আতঙ্কে বাংলায় পরপর মৃত্যু! দায় কার? কমিশনের বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল
পরে ব্রিটিশরা এই প্রথাকে আইনি রূপ দেয়। ‘ইন্ডিয়ান ওথস অ্যাক্ট, ১৮৭৩’-এর মাধ্যমে আদালতে হিন্দুদের জন্য গীতা, মুসলমানদের জন্য কুরআন এবং খ্রিস্টানদের জন্য বাইবেলের ওপর শপথ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। স্বাধীনতার পরও দেশের কিছু হাইকোর্টে এই রীতি বহাল ছিল। ১৯৬৯ সালে এই প্রথায় বড় পরিবর্তন আসে। আইন কমিশনের ২৮তম রিপোর্টের ভিত্তিতে ১৮৭৩ সালের আইন বাতিল করে চালু করা হয় নতুন ‘Oaths Act, 1969’। এর ফলে ধর্মগ্রন্থের উপর শপথ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয় এবং দেশে অভিন্ন শপথ প্রক্রিয়া কার্যকর করা হয়।
আরও পড়ুন- কাঁপছে দার্জিলিং, চলতি সপ্তাহেই কলকাতায় জাঁকিয়ে ঠান্ডা? জানুন রবিবারের ওয়েদার রিপোর্ট
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়। রামায়ণ জনপ্রিয় ধর্মগ্রন্থ হওয়া সত্ত্বেও কেন গীতা বেশি ব্যবহৃত হয়েছে? আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রামায়ণ মূলত ভগবান রামের আদর্শ জীবনচরিত, যেখানে নৈতিকতা ও কর্তব্যের শিক্ষা রয়েছে। কিন্তু গীতা ব্যক্তির ধর্ম, ন্যায় ও সত্যের পথে চলার নির্দেশ দেয়। যা ন্যায়বিচারের মূল নীতি। তাই আদালতের মত নিরপেক্ষ ও ন্যায়ালয়ে গীতাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us