Lionel Messi : একদিকে যুবভারতীতে দেদার লুটপাট, অপরদিকে হায়দ্রাবাদে পায়ে বল নিয়ে ভেলকি, মেসি জাদুতে ভরপুর সোশ্যাল মিডিয়ায়

Lionel Messi : পয়সা উসুলে কেউ ফুলের টব, কেউ চেয়ার, আবার কাউকে কার্পেট হাতে যুবভারতী ছাড়তে দেখা গিয়েছে। এই সংক্রান্ত একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

Lionel Messi : পয়সা উসুলে কেউ ফুলের টব, কেউ চেয়ার, আবার কাউকে কার্পেট হাতে যুবভারতী ছাড়তে দেখা গিয়েছে। এই সংক্রান্ত একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Lionel Messi Kolkata event, Yuvabharati Stadium chaos, Messi concert controversy, BJP TMC allegation, football fans protest Kolkata, Messi ticket refund demand, Suvendu Adhikari statement, Sukanta Majumdar allegation, Yuvabharati vandalism, Kolkata football news

যুবভারতীতে দেদার লুটপাট, অপরদিকে হায়দ্রাবাদে পায়ে বল নিয়ে ভেলকি

Lionel Messi : কেউ টিকিট কেটেছেন ১০ হাজারের, কেউ আবার ১১,৮০০ টাকার। কেউ আবার আরও চড়া দামে স্রেফ 'ফুটবলের ঈশ্বর'কে চোখের দেখা একবার দেখার জন্য ছুটে এসেছেন যুবভারতীতে। কেউ এসেছেন বাঁকুড়া থেকে, কেউ আবার ব্যাঙ্গালুরু থেকে।আবার কেউ হাজির হয়েছেন সুদূর কেরল থেকে। মেসিকে দেখতে না পেয়ে হতাশ হাজারে হাজারে মেসি ভক্ত। পয়সা উসুলে কেউ ফুলের টব, কেউ চেয়ার, আবার কাউকে কার্পেট হাতে যুবভারতী ছাড়তে দেখা গিয়েছে। এই সংক্রান্ত একাধিক ভিডিওছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কেন এসব নিয়ে যাচ্ছেন সংবাদ মাধ্যমেরএই প্রশ্নের উত্তরে সাফ তারা জানিয়েছেন, ‘কিছু তো পেলাম না, তাই কিছু নিয়ে গেলাম।’

Advertisment

সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির কনসার্ট চলাকালীন ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলা নিয়ে এবার সরাসরি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিজেপির দাবি, ওই অনুষ্ঠানে যে হট্টগোল, ভাঙচুর ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি দেখা গিয়েছে, তার নেপথ্যে তৃণমূলের নেতা ও কর্মীরাই মূলত দায়ী। দলের অভিযোগ, পুরো অনুষ্ঠানটি কার্যত 'রাজনৈতিক মঞ্চে' পরিণত হয়েছিল।

বিজেপি নেতাদের দাবি, লিওনেল মেসি মাঠে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই তৃণমূলের একাধিক নেতা, মন্ত্রী, তাঁদের আত্মীয়স্বজন ও সমর্থকরা নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে মাঠে ঢুকে পড়েন। এর ফলে সাধারণ দর্শকদের জন্য মেসিকে দেখা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিজেপির অভিযোগ, হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী ৪,৫০০ থেকে ১০,০০০ টাকা দামের টিকিট কেটে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হলেও তাঁরা মাত্র পাঁচ থেকে সাত মিনিটের জন্য বড় পর্দায় মেসির ঝলক দেখতে পেয়েছেন। কেউ কেউ তাও দেখতে পান নি। দলের মতে, সাধারণ দর্শকদের তুলনায় ভিআইপি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অগ্রাধিকার দেওয়াই এই বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ। এছাড়াও টিকিট কালোবাজারি ও দুর্নীতির অভিযোগ এনেছে বিজেপি।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার দাবি করেছেন, টিকিট ৫,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে এবং পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, প্রকাশ্যেই তহবিলের আত্মসাৎ হয়েছে। বিজেপির আরও দাবি, তৃণমূল কর্মীদের আচরণের জেরেই স্টেডিয়ামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ দর্শকরা বোতল ছুড়তে শুরু করেন, আসন ভাঙচুর হয় এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে চরম সমস্যায় পড়তে হয়। এই ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বিজেপি।

এই ইস্যুতে আরও কড়া অবস্থান নিয়েছেন রাজ্যের বিরোধীদল নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি গোটা ঘটনাকে দর্শকদের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে আখ্যা দেন। শুভেন্দুর অভিযোগ, মন্ত্রীরা ও রাজনৈতিক নেতারা মেসিকে ঘিরে রাখায় গ্যালারি থেকে সাধারণ দর্শকদের পক্ষে তাঁকে দেখা সম্ভব হয়নি।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শুভেন্দু অধিকারী তিন দফা দাবি তুলেছেন। তাঁর দাবি, সমস্ত গ্যালারি দর্শনার্থীকে টিকিটের পুরো টাকা ১০০ শতাংশ ফেরত দিতে হবে। পাশাপাশি ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, মন্ত্রী সুজিত বসু এবং অনুষ্ঠানের সংগঠক শতদ্রু দত্তকে গ্রেপ্তার করার দাবি জানান তিনি। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার দায় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ করা উচিত বলেও দাবি করেন বিরোধীদল নেতা।

অন্যদিকে, এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, লিওনেল মেসিকে নিয়ে সল্টলেক স্টেডিয়ামে যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তিনি জানান, তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছে এবং তিনিও ব্যক্তিগতভাবে এর বিরোধিতা করছেন। কুণাল ঘোষের বক্তব্য, কিছু মানুষের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণেই অতিরিক্ত দামে টিকিট কেটে আসা ফুটবলপ্রেমীরা মেসিকে ঠিকভাবে দেখতে পাননি, যা তাঁদের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তবে একই সঙ্গে তিনি ফুটবল ভক্তদের সংযম বজায় রাখার আবেদন জানান এবং বলেন, উত্তেজনার জেরে স্টেডিয়ামের ক্ষতি হওয়াও কাম্য নয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে।

হায়দরাবাদের ফুটবলপ্রেমীরা যেন স্বপ্নের মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন, যখন বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি ‘গোট কাপ’ প্রদর্শনী ম্যাচে অংশ নিতে রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন। তিন দিনের ভারত সফরের অংশ হিসেবে সন্ধ্যায় শহরে পৌঁছন মেসি এবং ভারতীয় সময় রাত আনুমানিক ৭টা ৫৫ মিনিটে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন তিনি। স্টেডিয়ামে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই উচ্ছ্বসিত জনতার উল্লাসে ভরে ওঠে গোটা পরিবেশ।প্রদর্শনী ম্যাচে বিশেষ আকর্ষণ ছিল তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভন্থ রেড্ডির সঙ্গে মেসির ফুটবল খেলা। মাঠে দু’জনে একসঙ্গে কয়েকটি পাস খেলেন এবং অনায়াসে একটি গোল করেন মেসি। এই মুহূর্তের ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়েছে। মাঠে উপস্থিত দর্শকদের উন্মাদনা তখন চরমে পৌঁছয়।

আরও পড়ুন-“জোঁকের মতো চিটে নেতা-মন্ত্রী!” মেসি-কাণ্ডে তৃণমূলকে তুলোধোনা শুভেন্দু অধিকারীর 

আরও পড়ুন-২২ মিনিটেই স্টেডিয়াম ছাড়লেন মেসি, চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর! 'তাণ্ডবের' ঘটনায় এবার বিরাট গ্রেফতারি  

Lionel Messi leo messi