/indian-express-bangla/media/media_files/2025/01/09/CBF7JvTT9ozUtGIcku8h.jpg)
নির্মান চলছে হুমায়ুনের বাবরি মসজিদের, এবার মুর্শিদাবাদে কৃষ্ণ মন্দির ও আরেক মসজিদের ঘোষণা তৃণমূল বিধায়কের
মুর্শিদাবাদে ফের ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ও শিল্পপতি জাকির হোসেন। হুমায়ুন কবিরের বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গের পর এবার শ্রীকৃষ্ণ মন্দির ও মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা করলেন তিনি। জঙ্গিপুরের বিধায়ক জাকির হোসেন জানিয়েছেন, তাঁর উদ্যোগে মুর্শিদাবাদে ১ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি শ্রীকৃষ্ণ মন্দির ও একটি মহম্মদী মসজিদ তৈরি করা হবে।
মুর্শিদাবাদের সুতি-১ ব্লকের বংশবাটি এলাকায় পথশ্রী রাস্তার শিলান্যাস অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই এই ঘোষণা করেন জাকির হোসেন। তিনি জানান, শ্রীকৃষ্ণের নামে একটি মন্দির এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একটি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগ সম্পূর্ণ আইন মেনেই করা হবে বলে জানান তিনি।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাকির হোসেন বলেন, “রাজনীতি থেকে আমার ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া কিছু নেই। আজ ভোট এলেই কেউ হিন্দু, কেউ মুসলমান, কেউ খ্রিস্টান সাজে। আমি এসব সাজব না, আমি মানবিকতাকেই সাজব। ধর্ম খুব বড় বিষয়, ধর্মকে ভোটের কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ধর্মের নামে যেন কেউ তাঁকে ভোট না দেয়, কাজের যোগ্যতা থাকলে তবেই মানুষ ভোট দিক।
রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়েও বিজেপিকে কটাক্ষ করেন জাকির হোসেন। তিনি বলেন, “বিজেপি বলেছিল দেশে দু’কোটি রোহিঙ্গা আছে। অথচ গোটা পৃথিবীতেই রোহিঙ্গার সংখ্যা মাত্র ১৭ লক্ষ। দু’কোটি রোহিঙ্গা কোথা থেকে এল? কেন মানুষকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে?” তাঁর বক্তব্য, জঙ্গিপুরে মানবিকতার রাজনীতি গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও বলেন, “আমি ঈদের সময় যেমন থাকি, তেমনি পুজোর সময়ও মানুষের পাশে থাকি। যে ধর্মের আবেগ নিয়ে রাজনীতি করছে, সে পাপের কাজ করছে। উন্নয়ন আর মানুষের পাশে থাকার রাজনীতিই হওয়া উচিত।” দলের মধ্যেও কেউ দুর্নীতি বা অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মন্দির ও মসজিদ নির্মাণ প্রসঙ্গে জাকির হোসেন জানান, নিজের জমি বিক্রি করে তিনি মোট ১ কোটি টাকা দেবেন। এর মধ্যে ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে শ্রীকৃষ্ণের মন্দির এবং ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মহম্মদী মসজিদ তৈরি করা হবে। সরকারকে খাস জমি বা ওয়াকফের জমি দেওয়ার আবেদন জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, মন্দিরে থাকবে গীতা এবং মসজিদে থাকবে কোরআন। তাঁর দাবি, কোরআন ও গীতার মধ্যে ৮৫ শতাংশ মিল রয়েছে। মানুষের মধ্যে বিভেদ নয়, বরং ঐক্যের বার্তাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। মন্দির ও মসজিদের জন্য আলাদা আলাদা হিন্দু ও মুসলিম ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের কথাও জানান তিনি।
শেষে জাকির হোসেন বলেন, “মন্দির বা মসজিদের জন্য কেউ আমাকে ভোট দেবেন না। ধর্মকে আমি নিজের থেকেও কোটি গুণ উঁচু মনে করি। দান করতে আমার হাত কাঁপে না। রুটি, কাপড় আর মাথার ওপর ছাদ এই মৌলিক চাহিদা পূরণ হলেই মানুষের আর অভাব থাকে না।”
আরও পড়ুন- ওসমান হাদি খুনে প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল কোথায়? কী জানালেন বাংলাদেশ পুলিশের এই কর্তা?
আরও পড়ুন-খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বড় আপডেট, কী জানালেন ব্যক্তিগত চিকিৎসক?
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us