Covid Tourism: ৫৭ লক্ষ মানুষের দেশে ৮০% টিকাকরণ সম্পন্ন। এবার বিদেশি পর্যটকদের জন্য দরজা খুলছে সিঙ্গাপুর। বিশ্ব ভ্রমণে উৎসাহী পর্যটকদের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশ অন্যতম জনপ্রিয়। আগামি সপ্তাহ থেকেই সীমান্ত খুলে দিচ্ছে সিঙ্গাপুর। করোনাকালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পর্যটন বান্ধব দেশ হিসেবে প্রথম সিঙ্গাপুর এই কীর্তি গড়ছে। তবে এখন মাত্র দুটি দেশ থেকে পর্যটকরা এই দেশে ঢুকতে পারবেন। একটা জার্মানি আর একটা ব্রুনেই। এই দুই দেশে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এবং গণটিকাকরণ আশাপ্রদ।
সিঙ্গাপুরের পাশাপাশি এশিয়া মহাদেশের প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় জনপ্রিয় পর্যটনস্থল অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং তাইওয়ান। এদের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এলেও পর্যটকদের জন্য এখনও বন্ধ সীমান্ত। সিঙ্গাপুর চায়না টাউনে হকারি করে দিন গুজরান করা রুনি এনজি বলেন,’'আগামি সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারছি না। যত দ্রুত সম্ভব পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হোক সীমান্ত। আমাদের পসার পর্যটন নির্ভর। সবকিছু বন্ধ অবস্থায় দিনে তিন বার খাবার জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।‘
তবে পর্যটক টানতে এখনই তাড়াহুড়ো করতে নারাজ সে দেশের সরকার। ধাপে ধাপে বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে ফের জায়গা করতে চায় সিঙ্গাপুর সিটি। এই পরিকল্পনায় পর্যটন শিল্প প্রভাবিত হলেও, পর্যটন মানচিত্রকে বিদেশীদের জন্য দরাজ ভাবে খুলে দেওয়ার পক্ষপাতী নয় সে দেশের সরকার। প্রায় ৪৬ লক্ষ মানুষের টিকাকরণ সম্পন্ন হলেও এখনও বাড়ির বাইরে স্থানীয়দের একাধিক করোনা বিধি মানতে হচ্ছে।
আড্ডার জায়গায় মাস্ক পরিধান আবশ্যিক, জমায়েত ছোট থাকতে হবে এবং স্পর্শ চিহ্নিত করার এপ্লিকেশন মোবাইলে ইনস্টল রাখতেই হবে সিঙ্গাপুরবাসীদের। পরিমিত নিয়ন্ত্রণবিধির মধ্যেই দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্য দেশের কাছে উদাহরণ খাড়া করছে সিঙ্গাপুর। এই অঞ্চলে পর্যটনবান্ধব অনেক দেশে এখন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু তারা ঝুকি নিতে নারাজ। তাই পর্যটকদের জন্য বন্ধই রেখেছে দরজা। সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রম সিঙ্গাপুর।
এ প্রসঙ্গে ক্যানবেরা হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজিস্ট পিটার কলিগনন বলেন, ‘সিঙ্গাপুর আমাদের কাছে বড় উদাহরণ। কারণ দুই দেশের সংক্রমণ মাত্রা প্রায় এক। আমাদের এই মুহূর্তেই পর্যটকদের জন্য দরজা খুলতে হবে। এবং এমন ব্যবস্থা করতে হবে যাতে করোনা এন্ডেমিক পর্যায়ে যায়। সেক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর আমাদের কাছে অনুপ্রেরণা হতেই পারে।‘
এদিকে, ইতিমধ্যে করোনা মোকাবিলা করে নজির গড়েছিল মধ্য এশিয়ার দেশ ইজরায়েল। ৯৩ লক্ষ মানুষের এই দেশ সম্পন্ন করেছিল চূড়ান্ত টিকাকরণ। কিন্তু তারপরেও ডেল্টা হানা দেয় ইজরায়েলে। ফলে নতুন করে কোভিড চাপাতে উদ্যোগ নেয় সরকার।
অপরদিকে, ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে কোভিড বিধি শিথিল করার উদ্যোগ নিয়েছে ইউনাইটেড কিংডম। সে দেশে দৈনিক সংক্রমণ উদ্বেগের কারণ হলেও করোনা বিধি শিথিল করতে বদ্ধপরিকর জনসন সরকার। এমনটাই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা এখন টেলিগ্রামে, পড়তে থাকুন