scorecardresearch

বড় খবর

রাশিয়ার গোলায় ইউক্রেনের ধ্বংসাবশেষ দেখছেন বিশ্ববাসী, সাংবাদিকরা প্রতিমুহূর্তে দেখছেন ইউরোপের বর্ণবিদ্বেষ

ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে প্রতিদিন বর্ণবিদ্বেষের গোলায় ক্ষতবিক্ষত হচ্ছেন এশীয়, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকার মানুষ।

রাশিয়ার গোলায় ইউক্রেনের ধ্বংসাবশেষ দেখছেন বিশ্ববাসী, সাংবাদিকরা প্রতিমুহূর্তে দেখছেন ইউরোপের বর্ণবিদ্বেষ
কীভাবে কালাশনিকভ চালাতে হয়, কিয়েভের এক নাগরিককে শেখাচ্ছেন সেনাবাহিনীর জওয়ান।

বারুদ তো নয়। যেন আস্ত বর্ণবিদ্বেষের গোলা। ইউক্রেনের যুদ্ধকে ঘিরে যা প্রতিদিনই আছড়ে পড়ছে এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকার মানুষের ওপর। ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে যুদ্ধের যে বীভত্সতা রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিদিন এঁকে দিয়ে যাচ্ছে ধ্বংসের চেহারা, সেই ক্ষত দিয়েও ঢাকা যাচ্ছে না ইউরোপের বর্ণবিদ্বেষকে।

যুদ্ধের তেজ যত বাড়ছে, ততই ইউরোপের এই লুকিয়ে রাখা বর্ণবিদ্বেষ দরজা খুলে বেরিয়ে আসছে, প্রতিদিন। যা জানলে, যে কোনও এশীয়, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার মানুষের প্রশ্ন জাগতে বাধ্য, এটাই নিজেদের সুসভ্য বলে দাবি করা আসল ইউরোপ?

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা নিয়ে পশ্চিমী দুনিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে ভাষায় সংবাদ বেরোচ্ছে, তাতে ইউরোপবাসী তার বর্ণবিদ্বেষ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার বাসিন্দাদের। ঠিক কীরকম সেই বর্ণবিদ্বেষ? একটা ছোট্ট উদাহরণই তা স্পষ্ট করে দেবে।
এই যেমন, ইউক্রেনের উপপ্রধান আইনজীবী ডেভিড সাকভারেলিডজে সেদেশের পরিস্থিতি ইউরোপের সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরছেন। ঠিক কী বলছেন তিনি! ডেভিড বলছেন, ‘এই লড়াই আমাকে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। কারণ, আমি দেখছি নীল চোখের সোনালি চুলের মানুষজন এই যুদ্ধে প্রাণ হারাচ্ছেন।’ যার অর্থ, কালো বা বাদামি চামড়ার মানুষ বা কালো মণির মানুষ প্রাণ হারালে তিনি এতটা আবেগপ্রবণ হতেন না। এখন যতটা হচ্ছেন।

এটা যে শুধুমাত্র একজনের বলা কথা, তা না। তা আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে ইউরোপেরই এক সাংবাদিকের লেখায়। যেখানে ইউক্রেনেরই ঘটনা সম্পর্কে ইউরোপের এক সাংবাদিক লিখছেন, ‘যাঁরা আক্রান্ত, তাঁরা অনেকটা আমাদেরই মত দেখতে। যেটা আমাদের সবচেয়ে বেদনা দিচ্ছে। যুদ্ধ আর কেবলমাত্র দরিদ্র এবং প্রত্যন্ত জনগোষ্ঠীর ব্যাপার না। এটা যে কারও সঙ্গেই ঘটতে পারে।’ এই লেখা যেন স্পষ্ট বলে দিচ্ছে, ইউরোপ যতই উন্নত হোক। তার মানসিকতা আজও পিছিয়ে আছে মধ্যযুগের বর্বরতার অন্ধকারে!

শুধু এই? এমনই হাজারো উক্তি আর প্রতিক্রিয়া এখন ছেয়ে ফেলেছে ইউক্রেন যুদ্ধকে। যা বুঝিয়ে দিচ্ছে, নামেই আমরা সবাই একই পৃথিবীর বাসিন্দা। আসলে ইউরোপ বা সাদা চামড়ার মানুষ এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার বাসিন্দাদের ঠিক কী চোখে দেখে! অথবা, আদৌ মানুষ হিসেবে দেখে কি না, সেই প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে!

আরও পড়ুন- পুতিনের পরমাণু যুদ্ধের হুমকি কতটা গুরুতর?

যেমন ইউরোপেরই এক প্রশাসনিক কর্তা যুদ্ধ পরিস্থিতি দেখে প্রতিক্রিয়ায় বলছেন, ‘যাঁরা পালাচ্ছেন, তাঁদের পোশাক দেখেই আমরা তাঁদের দিকে তাকাতে বাধ্য হচ্ছি। এঁরা সম্ভ্রান্ত, মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। এঁরা উত্তর আমেরিকা অথবা মধ্যপ্রাচ্য থেকে পালাতে চাওয়া কোনও উদ্বাস্তু নন। তাঁরা দেখতে আমাদের প্রতিবেশী ইউরোপীয় পরিবারের লোকজনের মতই।’

এমনকী, ইউরোপের সাংবাদিকদের কথাতেও এই সব শব্দ ঘুরেফিরে আসছে। তাঁরা হামেশাই বলছেন, যাঁরা পালাচ্ছেন, তাঁরা কেউ ইরাক, আফগানিস্তানের মতো ডাকাতদের এলাকা না। এঁরা ইউরোপের আর সভ্য পৃথিবীর বাসিন্দা। বিশ্বের অন্যান্য প্রান্ত থেকে যে সাংবাদিকরা এই যুদ্ধ পরিস্থিতি কভার করতে ইউক্রেনে গিয়েছেন, তাঁরা তো এসব দেখেশুনে হতবাক। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পরও পেশাগত সীমারেখা যেন ধাক্কা খাচ্ছে তাঁদেরও। নিজেদেরকেই তাঁরা প্রশ্ন করছেন, এটা পৃথিবী! অন্য গ্রহে চলে আসেননি তো?

Read story in English

Stay updated with the latest news headlines and all the latest World news download Indian Express Bengali App.

Web Title: Ukraine crisis news coverage panned as racist