scorecardresearch

বড় খবর

‘বাংলাকে হয় মোদীর হাত ধরে ১৯৪০ সালে ফিরতে হবে, অথবা মমতার সঙ্গে ছয়ের দশকে’

Exclusive Interview of Yogendra Yadav, National President of Swaraj India: হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে বিবাদ লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টাকেই দেশদ্রোহ হিসাবে দেখা উচিত। রাস্তায় দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করা কখনও দেশদ্রোহ হতে পারে না।

‘বাংলাকে হয় মোদীর হাত ধরে ১৯৪০ সালে ফিরতে হবে, অথবা মমতার সঙ্গে ছয়ের দশকে’
মমতা সরকারের আমলে এই রাজ্যের অগ্রগতি তো একেবারেই হয়নি, বরং ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে জাতীয় রাজনীতির এক ঝাঁক ভিভিআইপি যখন কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সভা করছেন, ঠিক তখনই শহরে এসেছেন ‘দুর্নীতি বিরোধী লড়াইয়ের মুখ’ তথা এক ‘ভিন্ন ধারার’ রাজনীতিক। নরেন্দ্র মোদী সরকারের চরম সমালোচক হওয়া সত্ত্বেও ব্রিগেডের সভায় তিনি থাকেননি। কারণ তিনি মনে করেন, দিল্লিতে মোদী ও পশ্চিমবঙ্গে মমতার মধ্যে কোনও ফারাক নেই। মহাজোটেরও কোনও দিশা নেই। বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি রীতিমতো আশঙ্কিত। আর তাই বিকল্প হিসাবে ‘আই ক্যান’ প্রচারাভিযানে গতি আনতে বাংলায় এসেছেন তিনি। রবিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে এ বিষয়ে সাংবাদিক বৈঠকও করেছেন তিনি। আর এর আগেই বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলাকে একান্ত সাক্ষাৎকার দিলেন একদা আম আদমি পার্টির অন্যতম শীর্ষ নেতা তথা বর্তমানে স্বরাজ ইন্ডিয়া-র জাতীয় সভাপতি যোগেন্দ্র যাদব।

রাজনীতিক/রাষ্ট্রবিজ্ঞানী/শিক্ষাবিদ- কোন পরিচয়টি আপনার জন্য সবচেয়ে যথার্থ?

আমরা সকলেই একাধিক পরিচয় নিয়ে বাঁচি। আর এটাই সবচেয়ে আনন্দের বিষয়। তবে আমি নিজেকে বরাবরই রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে দেখতে চেয়েছি। একজন রাজনৈতিক কর্মীকে মাঠে নেমে কাজ করতে হয় এবং পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে পদক্ষেপ করতে হয়। আমি এ দু’টিই করে থাকি।

আপনার ‘স্বরাজ ইন্ডিয়া’র খবর কী?

২০১৬ সালের অক্টোবরে গঠিত স্বরাজ ইন্ডিয়া একটি রাজনৈতিক দল। কিন্তু, আমরা এটিকে আর পাঁচটা রাজনৈতিক দলের মতো করে গড়ে তুলতে চাই না। অন্যান্য দলগুলি এক একটা ভোট যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আমরা তা হব না। আমাদের দল অবশ্যই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে। তবে শুধু মাত্র নির্বাচনেই আটকে থাকবে না। ভোটের বাইরেও দেশের রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপে ভিন্নভাবে অংশগ্রহণ করবে।

আরও পড়ুন: ‘এমনও তো হতে পারে, মমতাকে জেলে যেতে হল’

বিষয়টা ঠিক স্পষ্ট হল না। আপনারা কি ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে লড়ছেন?

আমরা আসলে অন্য কিছু করতে চাইছি। ‘I Can’ (Indian Citizens’ Action for Nation) নামে আমরা একটা রাজনৈতিক প্রচার চালু করেছি। দেশের জন্য কাজ করতে ইচ্ছুক নাগরিকরা, ‘I Can’-এ যুক্ত হতে পারেন। বলতে পারেন, লোকসভা নির্বাচনকে আমরা এ ক্ষেত্রে একটা সুযোগ হিসাবে দেখছি। এর ফলে, সাধারণ মানুষ যে কতটা বদল ঘটাতে পারেন, সেটাই দেখা যাবে। আরও নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, দেশের যে সব মানুষ বর্তমান পরিস্থিতিকে বদলাতে চান, অথচ রাজনৈতিক দলের প্রতি ভীত, যাঁরা কোনও দলের সদস্য হতে চান না, অথচ কিছু কাজ করতে চান, আমরা তাঁদের আহ্বান করছি। আমরা বলছি, আসুন স্বরাজ ইন্ডিয়া বা অন্য কোনও দলের সদস্য হতে হবে না, বরং (‘I Can’-এ) একসঙ্গে প্রকৃত ইস্যু নিয়ে লড়াই করা যাক। এইসব মানুষদের থেকেই আমরা কয়েকজনকে প্রর্থী হিসাবে বেছে নেব। তবে, এটা যেহেতু স্বরাজ ইন্ডিয়ার বাইরে একটা পৃথক প্রচার, তাই কে প্রার্থী হবেন, তা স্বারাজ ইন্ডিয়া ঠিক করবে না।

তাহলে প্রার্থী হবে কে?

কোনও নির্দল ব্যক্তিও এ ক্ষেত্রে প্রার্থী হতে পারেন। আবার অন্য কোনও রাজনৈতিক দল থেকেও প্রার্থী করা হতে পারে। আমরা এমন এক ঝাঁক প্রার্থী বাছব, যাঁরা আসন্ন নির্বাচনে প্রকৃত ইস্যুগুলি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বেন।

সাংবাদিক বৈঠকে যোগেন্দ্র যাদব।

নির্বাচনী রাজনীতিতে সাধারণ রাজনৈতিক দলগুলির থেকে আপনাদের ফারাকটা ঠিক কোথায়?

একটা সাধারণ দল প্রার্থী দেয়, তাঁদের হয়ে প্রচার করে এবং সরকার গড়তে চায়। কিন্তু, আমরা সে কথা বলছি না। আমরা বলছি, প্রকৃত ইস্যু নিয়ে গণচেতনা গড়ে তুলব এবং সাধারণ মানুষ যাতে আরও বেশি করে এই ইস্যু নিয়ে সরব হয়, সে জন্য একটা মঞ্চ গড়ে তুলব।

আপনার কথা অনুযায়ী, ২০১৯-এ স্বরাজ ইন্ডিয়া একটি আদর্শগত লাড়াই লড়বে। তাই তো?

না। এটা শুধু আদর্শগত লড়াই নয়। কারণ, আমরা আমাদের প্রার্থীদের জন্য রীতিমতো প্রচার করব। তাই, এটাকে শুধু মাত্র আদর্শগত লড়াই বলা যাবে না। বরং বলতে পারেন, স্বরাজ ইন্ডিয়া নির্বাচনে অংশ নেবে, প্রচার করবে, কিন্তু কত জন প্রার্থীকে সংসদে পাঠানো যায়, তা নিয়ে বিশেষ মনোনিবেশ করবে না। এছাড়া, প্রার্থী বাছাই নিয়েও ভিন্ন পথ অবলম্বন করবে আমাদের দল।

আরও পড়ুন- ‘বুদ্ধিজীবীদের ওপর ভরসা করে রাজনীতি করা যায় না’

আচ্ছা, আপনাদের কোনও প্রার্থী যদি ভোটে জিতে যায়, তাহলে কি তাঁকে ‘স্বরাজ ইন্ডিয়া’র সাংসদ বলা যাবে?

না, না। কারণ, সম্ভবত নির্বাচন কমিশনের ২০বি ফর্ম অনুযায়ী, কেউ প্রার্থী হলে তিনি দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় পড়েন এবং সংসদে তাঁকে সংশ্লিষ্ট দলটির সদস্য হিসাবে হুইপ মেনে চলতে হয়। কিন্তু, আমরা অন্য রকম ভাবছি। আমরা কোনও একটা আন্দোলনকারী গোষ্ঠী থেকে অথবা কোনও রাজনৈতিক দল থেকেও প্রার্থী বেছে নিতে পারি।

সে কি! বিজেপি-কংগ্রেস-তৃণমূল বা বামেদের থেকেও প্রার্থী দিতে পারেন আপনারা, তাই তো?

আমি মনে করি না তেমন হবে বলে। কারণ, আমাদের প্রারম্ভিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, ভারতের মূল ভাবনা থেকে বিজেপি শত হস্ত দূরে। ওঁরা আমাদের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। তাই, প্রত্যাশিতভাবেই আমরা ওঁদের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি, মহাজোটকেও আমরা উপযুক্ত বিকল্প বলে মনে করি না। কারণ, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে এই মহাজোটের কোনও ঘোষিত নীতিই নেই। ফলে, বিজেপি ও মহাজোটের কাউকেই আমরা প্রার্থী করব না। আসল কথা হল, বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়বে এমন কোনও ব্যক্তি সংসদে বসে নেই। লড়াকু মানুষরা বরং রয়েছেন পথে ঘাটে আন্দোলনের মধ্যে। আর তাঁরাই পারবেন প্রকৃত ইস্যুগুলিকে চিনিয়ে দিতে এবং লড়াই করতে।

আপনি নিজের নাম বলেছেন কেন?

১৯৩৮ সালে এক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় আমার ঠাকুর্দা প্রাণ হারিয়েছিলেন। এই ঘটনা আমার গান্ধীবাদী বাবার উপর প্রচন্ড প্রভাব ফেলেছিল। এ জন্যই তিনি আমার নাম রেখেছিলেন সেলিম। আমার দিদির নামেও ‘মুসলিম ছোঁয়া’ রাখতে চেয়েছিলেন বাবা। কিন্তু, মা বলেন, তাহলে মেয়ের বিয়ে হবে না। (হাসলেন…) কিন্তু, আমার নাম সেলিমই থেকে যায়। এরপর স্কুলে বন্ধুরা আমাকে রাগাতে থাকে সেলিম নামের জন্য। অনেক কটু কথাও শুনতে হত। এরপর আমিই বাড়িতে এসে বলতাম, নাম না বদলে দিলে স্কুলে যাব না। এভাবেই পাঁচ বছর বয়সে নাম বদলে হয়ে গেলাম যোগেন্দ্র যাদব।

আরও পড়ুন- ‘আমার অমিত শাহকে ফোন করার প্রয়োজন পড়ে না’

সেদিনের সেই পাঁচ বছরের শিশুর কাছে নাম বদলে নেওয়াটাই ছিল সহজ সমাধান। কিন্তু, আজকের যোগেন্দ্র যাদব এই পর্বটাকে কীভাবে দেখেন? এত বছর পরও পরিস্থিতির কি কোনও পরিবর্তন হল?

না। পরিস্থিতি অনেক বেশি খারাপ হয়েছে এখন। দেশভাগের পর গত শতকের পাঁচের দশকে তবু একজন বাবা ছেলের নামকরণের ক্ষেত্রে এমনটা ভাবতে পারতেন। কিন্তু, আজ এই বিষয়টা ভাবাই যায় না। সংঙ্কীর্ণ স্বার্থের জন্য জাতপাত ও ধর্মের দেওয়াল তুলে রাজনীতি করা হচ্ছে। বর্তমান সময় আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। জানেন, হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে বিবাদ লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টাকেই দেশদ্রোহ হিসাবে দেখা উচিত। রাস্তায় দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করা কখনও দেশদ্রোহ হতে পারে না।

আপনি কি মনে করেন, এই বিভেদকামীদের পরাজিত করার ক্ষমতা ভারতের আছে?

দীর্ঘ মেয়াদীভাবে দেখলে নিশ্চই আছে। আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সে কথাই বলে। কিন্তু, স্বল্প সময়ের মধ্যে এটা হবে কি না, আমি নিশ্চিত নই। এ বিষয়ে দেশের নির্দিষ্ট কিছু অংশ নিয়ে আমি বিশেষ চিন্তিত। এই যেমন, বাংলা। দেশভাগের সময়ে বাংলায় সাম্প্রদায়িত সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়েছে একাধিকবার। আর এখন বিজেপি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সেই দিনগুলি ফিরিয়ে আনতে চাইছে। আমার ধারণা, লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি আরও প্রকটভাবে বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে চাইবে।

আপনি কি মনে করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন বিজেপির এই প্রচেষ্টাকে রুখতে পারবে?

বাংলার জন্য দুঃখের কথা এটাই। বামেদের তিন দশকের জমানায় দরিদ্র মানুষের জীবন ধারণের মানোন্নয়ন হয়নি। এরপর সেই বামেদের তাড়িয়ে রাজ্যবাসী তৃণমূল ক্ষমতায় এনেছে। কিন্তু, মমতা সরকারের আমলে এই রাজ্যের অগ্রগতি তো একেবারেই হয়নি, বরং ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে। বাংলার সামনে এখন দুটি বিকল্প হয় মমতার হাত ধরে ১৯৬০ থেকে ১৯৭২-এর নৈরাজ্যের দিনগুলিতে ফিরে যাওয়া। অথবা বিজেপির হাত ধরে ১৯৪০ সালের সাম্প্রদায়িক হিংসার সময়ে ফেরা।

আপনি কি মনে করেন, এখানেই আপনার স্বরাজ ইন্ডিয়ার গ্রহণযোগ্যতা?

হ্যা, অবশ্যই। বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অতীত সুমহান। ফলে, স্বরাজ ইন্ডিয়া যে আদর্শ নিয়ে পথে নেমেছে, তাতে যোগ্য বিকল্প দিতে পারব আমরাই।

আরও পড়ুন: ‘যে সিপিএম-কে হারিয়েছেন, সেই সিপিএম-কে আর ফেরত আসতে দেব না’

মমতার ডাকে কলকাতায় অ-বিজেপি রাজনৈতিক দলগুলির নজিরবিহীন সভা হল। এ বিষয়ে আপনার কী প্রতিক্রিয়া? আপনি কি ডাক পেয়েছিলেন?

না, আমি আমন্ত্রণ পাইনি। মহাজোট নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। তবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের বিবৃতি পড়লাম। দেখলাম, নরেন্দ্র মোদী সরকারের ফ্যাসিবাদী ভূমিকার সমালোচনা করা হয়েছে। বর্তমান এনডিএ সরকার গণতন্ত্রকে কবর দিচ্ছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে। কিন্তু, মমতা নিজে পশ্চিমবঙ্গে কী করছেন? তিনি তো তাঁর রাজ্যে ওই একই ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তিনি কি নৈরাজ্য সৃষ্টি করছেন না? আজই তো দক্ষিণ ২৪ পরগণায় আমাদের কর্মীদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে তৃণমূলের কর্মীরা।

আপনি মোদী-মমতাকে একই মুদ্রার দু’পিঠ বলছেন। কিন্তু, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তো এই মুহূর্তে জাতীয় স্তরে মোদীর অন্যতম চ্যালেঞ্জার। আপনি কি সহমত?

নিঃসন্দেহে সহমত। নির্বাচনী পাটীগণিত অনুযায়ী বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূলই বিজেপি-র অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী। বিশেষত, ২০১৯-এর ভোটে মোদী-শাহ পূর্ব ভারত থেকে বেশি আসন জেতার চেষ্টা করছেন। আর সেখানে ক্ষয়িষ্ণু বাম ও কংগ্রেসকে বাদ দিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই প্রধানত লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছেন। কিন্তু, প্রশ্ন হল মমতা কি শুধুই নির্বাচনী দৃষ্টিকোণ থেকেই মোদীর বিরোধী, না কি আদর্শগত দিক থেকেও?

দিল্লির আপ মন্ত্রিসভা বনাম শীর্ষ আমলাদের দ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে আপনার কী মত?

দিল্লির নির্বাচিত সরকারকে বিরক্ত করতে উপরাজ্যপালের অফিসকে বিজেপি নিজেদের মতো করে ব্যবহার করে। তবে এর পাশাপাশি এটাও ঠিক, দিল্লির আপ সরকার নিজেদের কৃতকর্মের জন্যও যথেষ্ট ভুগছে। তাদের প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। আমার ধারণা, আপ সরকার কাজ করেনি, আর তা থেকে সাধারণের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিতেই এ নিয়ে বেশি হইচই করা হচ্ছে।

আপনার পুরানো দল আম আদমি পার্টির ভবিষ্যৎ কেমন দেখছেন?

দেখুন, আম আদমি পার্টি একটি বৈপ্লবিক আদর্শ নিয়ে গঠিত হয়েছিল। রাজনীতির চেনা নিয়মের বাইরে হাঁটতে চেয়েছিল। কিন্তু, সেই সুউচ্চ আদর্শ আজ মৃত। তারা এখন আর বিকল্প পথ দেখাতে পারে না। আপ এই মুহূর্তে তৃণমূল বা বিজেডি-র মতো একটি আঞ্চলিক দল। অরবিন্দ কেজরিবালের দল। প্রতিটি আঞ্চলিক দলই ভাল ও খারাপ উভয় রকম সময়ের মধ্যে দিয়ে যায়। আপের ক্ষেত্রেও এমনটাই হবে।

এমন আদর্শচ্যুতি কি আপ-এর ভবিষ্যতকে বিশেষভাবে অন্ধকারে ঠেলে দেবে?

যে দেশে লালু প্রসাদ যাদব, জয়ললিতার দল টিকে থাকে এবং ক্ষমতাতেও থাকে, সেখানে আপ-এর অন্ধকার ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা করা উচিত নয়। আমাদের দেশে দুর্নীতি স্বাভাবিকভাবে ইস্যু হয় না। তবে, মানুষ যখন বিকল্প পায়, তখনই দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায় দেয়। কিন্তু, এমন বিকল্প খুবই কম।

আপনি না কি ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক পরামর্শদাতার ভূমিকা নিয়েছিলেন?

একেবারেই অসত্য। আমি কখনও এমন ভূমিকা গ্রহণ করিনি। যদি সত্যিই এ কাজ করে থাকতাম, সে ক্ষেত্রে লিখিত নথি থাকত। এমন নথি কেউ দেখাতে পারবে?

আরও পড়ুন- আমি জানি ও ফিরবেই: জেএনইউ-য়ের হারানো ছাত্র নাজিবের মায়ের সাক্ষাৎকার

তিন রাজ্য জয়ের পর ২০১৯ সালের রাহুল গান্ধীকে কেমন দেখছেন? কোনও ফারাক চোখে পড়ছে?

সত্যি কথা বলতে, ওঁকে নিয়ে ভাবার মতো সময় পাইনি।

শেষ প্রশ্নটি প্রখ্যাত সেফোলজিস্ট যোগেন্দ্র যাদবকে। ফলে, উত্তরটিও তাঁর থেকেই আশা করব। ২০১৯-এ কী হতে চলেছে?

আমি সত্যনিষ্ঠ রাজনৈতিক কর্মী যে সেফলজি চর্চা করে। দু’টি সত্ত্বা পৃথক নয়। স্পষ্টভাবে বলছি, আসন্ন লোকসভায় বিজেপি ২০০ আসনও টপকাবে না। এই মুহূর্তে যা আসন সংখ্যা, সেখান থেকে অন্তত ১০০ আসন হারাবে বিজেপি। এই পরাজয় নিশ্চিত। কিন্তু, কে জিতবে বলা যাবে না। কে সরকার গড়বে তাও বলা যাবে না। কংগ্রেসের পক্ষে এককভাবে জেতা কখনও সম্ভব না। তাই, জোটই ভবিষ্যৎ। কিন্তু, সেই জোটের চরিত্র কেমন হবে, কে নেতৃত্ব দেবে, সে বিষয়টি দেখতে হবে।

Stay updated with the latest news headlines and all the latest Election news download Indian Express Bengali App.

Web Title: Exclusive interview of yogendra yadav