/indian-express-bangla/media/media_files/2025/08/29/salman2-2025-08-29-16-36-32.jpg)
কে এই অভিনেত্রী...
সিনেমার জগতে "টাইপকাস্টিং" প্রায়ই এক ধরনের সতর্ক সংকেতের মতো কাজ করে। এটি এমন এক সৃজনশীল ফাঁদ, যা একজন অভিনেতার সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে দিতে পারে। অনেক সময় প্রতিশ্রুতিশীল ক্যারিয়ারকেও বাঁধা দেয়। হিন্দি চলচ্চিত্রে এই সমস্যাটি বিশেষভাবে গেড়ে বসেছে। যেখানে প্রতিভা বা অভিনয় দক্ষতা সত্ত্বেও একজন শিল্পীকে বছরের পর বছর একই ধরনের চরিত্রে আটকে থাকতে হয়। অভিনেত্রী কাঞ্চনের যাত্রাপথও এর ব্যতিক্রম নয়। বড় পর্দায় নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও ভাগ্য এবং ইন্ডাস্ট্রির সীমিত দৃষ্টিভঙ্গি তার পথ পরিবর্তন করে দেয়।
ছোটবেলা থেকেই কাঞ্চন অভিনয়ের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। কলেজ জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি মডেলিং শুরু করেন, সেখান থেকেই সিনেমায় প্রবেশের প্রথম সুযোগ আসে। প্রবীণ নির্মাতা সাওয়ান কুমারের নজরে পড়েন। তিনি সলমন খান অভিনীত সনম বেওয়াফা ছবির জন্য নায়িকার ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর চরিত্র খুঁজছিলেন। কাঞ্চনের অডিশন তাকে মুগ্ধ করে, এবং খুব শিগগিরই তিনি ছবিতে নির্বাচিত হন। সিনেমাটি বছরটির অন্যতম বড় হিট হয় এবং কাঞ্চনের অভিনয়ও দর্শক ও প্রযোজকদের নজর কাড়ে।
Param Sundari Review: প্রেম, কমেডি আর ক্লিশের জগাখিচুড়ি- কেমন হল‘পরম সুন্দরী? পড়ুন রিভিউ
এরপর তিনি একে একে, 'দো হংসো কা জোড়া', 'আওলাদ কে দুশমন', 'কসম তেরি কসম' এবং 'পাণ্ডব' ছবিতে অভিনয় করেন, যেখানে অক্ষয় কুমারের সঙ্গেও স্ক্রিন শেয়ার করেন। তবে তার সবচেয়ে স্মরণীয় কাজ ছিল ডেভিড ধাওয়ানের সুপারহিট 'কুলি নং ১'(১৯৯৫)। গোবিন্দা–কারিশমা জুটির পাশাপাশি করিশমার ছোট বোনের চরিত্রে কাঞ্চন দর্শকের মন জয় করেছিলেন। আজও দর্শকরা হুসন হ্যায় সুহানা গানের দৃশ্যে তাকে মনে রাখেন।
কিন্তু সাফল্যের সঙ্গেই আসে নতুন চ্যালেঞ্জ। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে বলিউড, সাহসী ও গ্ল্যামারাস নায়িকাদের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ফলস্বরূপ, কাঞ্চনের জন্য আসতে শুরু করে একঘেয়ে পার্শ্বচরিত্রের প্রস্তাব- নায়িকার বন্ধু, খলনায়কের মেয়ে বা গৌণ চরিত্র। কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি দক্ষিণী সিনেমায় হাত বাড়ান। মোহনলালের বিপরীতে গন্ধর্বম ছবিতে অভিনয় করে সফল হন এবং প্রেমা পুস্তকম ও লাকি চান্স-এর মতো প্রকল্পে কাজ করেন। তবুও টাইপকাস্টিংয়ের ছায়া তাকে ছেড়ে যায়নি।
পরবর্তীতে তিনি রাম অর শ্যাম, ইতিহাস এবং মহব্বত অর জঙ্গ ছবিতে অভিনয় করলেও বড় সাফল্য পাননি। ধীরে ধীরে হতাশ হয়ে পড়েন এবং অবশেষে চলচ্চিত্র জগৎ থেকে সরে দাঁড়ান। বর্তমানে তার সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য জানা না গেলেও শোনা যায়, তিনি মুম্বাইয়ের একটি স্কুলে নাট্য শিক্ষিকা হিসেবে কাজ করছেন। অভিনয়ের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রেখেছেন বটে, তবে একসময়ের ঝলমলে আলো থেকে অনেক দূরে।