/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2019/11/Ersin-Celik-759.jpg)
ছবির শুটিংয়ের সময়ে পরিচালক এরসিন সেলিক। ফোটো- টুইটার
ঢিল, গোলা-বারুদ, একের পর এক গুলিতে রক্তাক্ত চারিদিক। বন্দুক হাতে দাঁড়িয়ে আছে স্কুল ফেরত ছেলে-মেয়েরা। রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছেন কুর্দরা। নিজের দেশে কুর্দদের স্বাধীনতার লড়াই। সিরিয়ান পরিচালক এরসিন সেলিকের ছবি 'দ্য এন্ড উইল বি স্পেকটাক্যুলার' দেখানো হয়েছে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উতসবে। তবে সাধারণভাবে শুটিং হয়নি এই ছবির। এদিন সে গল্পই শোনালেন পরিচালক এরসিন সেলিক।
হঠাত্ করে ছবিটার দেখানোর সময় ও হল পরিবর্তন করা হল, কোনও সমস্যা? পরিচালক বললেন, ''রবীন্দ্রসদনের প্রোজেক্টরে টেকনিক্যাল সমস্যার কারণেই সরানো হয়েছে ছবিটা। আসলে অনেক অতিথিদের আমন্ত্রন জানানো হয়েছিল তাই বাধ্য হয়েই ছবিটা সরানো হয়েছে।'' সিরিয়ায় ছবি তৈরি করা কতটা সমস্যার, সিনেমা হলের অবস্থা কেমন? এরসিন জানালেন, ''এই কুর্দিশ ছবিটা কিন্তু আসলে যুদ্ধক্ষেত্রেই তৈরি। হ্যাঁ, সিরিয়ায় ছবি তৈরি করাটা সমস্যার। মানুষের জীবনের গল্প বলাটা জরুরি। বিশেষ করে নিজের দেশে থাকার জন্য কুর্দরা লড়াই করেছে। নর্থ সিরিয়ার কিছু জায়গায় থাকলেও, দেশে প্রফেশনাল সিনেমা হলের সংখ্যা কম।''
/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2019/11/ersin-in-line-3.jpg)
আরও পড়ুন, দেশি-বিদেশি ৫টি ছোটদের ছবি যা দেখা জরুরি
এত সমস্যা, প্রচুর মানুষ অন্য দেশে গিয়ে বাস করে। আপনি কখনও নিজের দেশ ছেড়ে বাইরে কোথাও চলে যাওয়ার কথা ভাবেননি? বললেন, ''কোনওদিনও না। এই দেশ, এই সংস্কৃতি আমার পরিচয়। আজ যা কিছু আমার সবটা এই জায়গা থেকে শেখা। অন্য কোথাও চলে গেলে দেশটার জন্য অনুভূতিটা বদলে যাবে। এটা করতে পারবনা। বিশ্বাস করি সিনেমা বাস্তবের প্রতিচ্ছবি, সেটা সামনে আনাটা প্রয়োজন।''
ছবির মুখ্য চরিত্র জিলান। দাদাকে হারিয়ে নিজের হাতে বন্দুক তুলে নিয়েছে সে, বাস্তবটা সুন্দর করার জন্য লড়াই করছে। তুরস্ক সেনা ও পুলিশের সঙ্গে কুর্দদের অসম সংঘর্ষ। সালটা ২০১৫, দিয়ারবাকিরে যুদ্ধ চলেছিল টানা ১০০ দিন। মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েছিল প্রায় ২০০ জন কুর্দবাসী। তবুও কি কাম্য সমানাধিকার এসেছিল।
/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2019/11/ersin-inle-1.jpg)
আরও পড়ুন, বিরল ভাষার ছবির স্ক্রিনিংয়ে নজির গড়ল চলচ্চিত্র উৎসব
আসলেই তাই, ছবিটা তৈরি হয়েছিল বেশিরভাগ নন অ্যাক্টরদের নিয়ে। শুটিং শেষ করে যুদ্ধে গিয়েছিল তারা, আর ফেরেননি। তুরস্ক সেনার গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল পাঁচ অভিনেতার শরীর। কথাগুলো বলতে বলতে চোখের কোণটা চিকচিক করে ওঠে এরসিনের। সত্য়িই 'দ্য এন্ড উইল বি স্পেকট্যাকুলার'।