scorecardresearch

কনটেনমেন্ট জোন ও কেন্দ্রশাসিত এলাকার পদক্ষেপ

কনটেনমেন্ট জোনকে ঘিরে থাকে বাফার জোন, যেখানে নতুন সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে। বাফার জোনের বাইরে আর কোনও পরিধি থাকে না। বাফার জোনে নজরদারির সঙ্গে অতিরিক শ্বাসকষ্টজনিত কষ্ট যাঁদের ছিল, তাঁদের ফলোআপের বিষয়টিও রাখা হয়েছে।

কনটেনমেন্ট জোন ও কেন্দ্রশাসিত এলাকার পদক্ষেপ
প্রতীকী ছবি

এই করোনা অতিমারীর সময়ে বেশ কিছু শব্দ, শব্দবন্ধ মানুষের মুখে মুখে ফিরছে, যার মধ্যে কোয়ারান্টিন, হটস্পট, বা এমনকি আইসোলেশনের মত পরিচিত কিন্তু সদা ব্যবহার্য নয়। কনটেনমেন্ট জোন তেমনই একটি শব্দবন্ধ।

 কাকে বলে কনটেনমেন্ট জোন?

সংক্রমণের ভরকেন্দ্র, সংক্রমিতদের সংস্পর্শে যাঁরা এসেছেন তাঁদের তালিকাভুক্তি ও ম্যাপিং, ভরকেন্দ্রের নিকটবর্তী সংক্রমিত ও সংস্পর্শতিদের ভৌগোলিক বিবরণ এবং শহর বা ছোট শহর বা গ্রামীণ এলাকার প্রশাসনিক সীমার ভিত্তিতে কনটেনমেন্ট জোন স্থিরীকৃত হয়ে থাকে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লকডাউন ও সতর্কতামূলক নীতি

Rapid Response Team ( RRT)-েক সংক্রমিত , সংস্পর্শিত এবং তাঁদের মানচিত্রকরণের কাজ করতে বলা হয়ে থাকে। এর ফলে অ্যাকশমের পরিধি নির্ণয়ের সুবিধা হয়। ভৌগোলিক সীমা সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত এবং পরিসীমা নিয়ন্ত্রণ রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে।

 স্থানীয় সংক্রমণ পর্যায়ে কী করা হচ্ছে?

সংক্রমিত এলাকায় কার্যকর নজরদারি চালানো হচ্ছে কনটেনমেন্ট জোনের মধ্যে ও বাইরে। সমস্ত সন্দেহজনক কেসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরির ক্ষমতা বাড়াবার চেষ্টা করা হচ্ছে। এবং সম্ভাব্য ও সংক্রমিত সমস্ত ঘটনাতেই আইসোলেট করবার জন্য মেডিক্যাল কেয়ার তৈরি হচ্ছে। আশা কর্মীরা সারা দেশে সার্ভের কাজ করছেন।

ক্লাস্টার কনটেনমেন্ট কী?

এটি একটি কৌশল যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে প্রথমেই রোগ ধরা পড়বার পর তাকে আটকে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে সংক্রমণ শৃঙ্খল ভেঙে যায় এবং নতুন এলাকায় রোগ না ছড়ায়। এর মধ্যে রয়েছে ভৌগোলিক কোয়ারান্টিন, সামাজিক দূরত্ব, কার্যকর নজরদারি বৃদ্ধি, সংক্রমিতদের পৃথক করা,  সমস্ত সম্ভাব্যদের পরীক্ষা করা, সম্ত সংস্পর্শিতদের বাড়িতে কোয়ারান্টিনের বন্দোবস্ত করা এবং প্রতিষেধক জনস্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা।

করোনায় মৃত্যু সঠিকভাবে চিহ্নিত করা কেন জরুরি

ক্লাস্টার কনটেনমেন্টের উপর প্রভাব ফেলে কোন বিষয়গুলি?

ক্লাস্টারের আকার, প্রথম কেস বা ক্লাস্টার কবে ঘটেছিল, তার নির্ণয়, ল্যাবরেটরিতে তার নিশ্চয়তাপ্রাপ্তি, সংক্রমিতদের আইসোলেশন ও কোয়ারান্টিন, এলাকার ভৌগোলিক চরিত্র, জনঘনত্ব ও চলাচল (পরিযায়ী জনসংখ্যার চলাচল ধরে), সরকার কত দ্রুত প্রয়োজনীয় রিসোর্স জোগাড় করতে পারে এবং কনটেনমেন্ট অপারেশন সফল করতে কেন্দ্র যে তালিকা দিয়েছে তার অন্তর্ভুক্ত মৌলিক পরিকাঠামো ও প্রয়োজনীয় উপকরণ জোগাড় করবার উপর।

What is a buffer zone বাফার জোন কী?

কনটেনমেন্ট জোনকে ঘিরে থাকে বাফার জোন, যেখানে নতুন সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে। বাফার জোনের বাইরে আর কোনও পরিধি থাকে না। বাফার জোনে নজরদারির সঙ্গে অতিরিক শ্বাসকষ্টজনিত কষ্ট যাঁদের ছিল, তাঁদের ফলোআপের বিষয়টিও রাখা হয়েছে।  বাফার জোনে এরকম ক্ষেত্রে প্যাসিভ নজরদারিও বাড়ানো হবে। বাফার জোনের সমস্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা মানচিত্রীকরণ পদ্ধতির মধ্যে ঢোকানো হবে। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য, হাতের স্বাস্থ্য, সামাজিক দূরত্ব এসবই বাফার জোনে বাড়ানো হবে।

বাফার জোনের ব্যাসের পরিধি কী হবে?

ক্লাস্টার জোন যদি ছোট ও বদ্ধ হয়, যেমন স্কুল, মিলিটারি ছাউনি, হস্টেল বা কনটেনমেন্ট জোনের হাসপাতাল – তাহলে কনটেনমেন্ট জোন নিজেই তৈরি হবে। বাফার জোন অতিরিক্ত ৫ কিলোমিটার এলাকা ব্যাস হিসেবে চিহ্নিত হবে।

প্রথম যিনি করোনাভাইরাস দেখেছিলেন

জনবসতি এলাকায় একটি ক্লাস্টার হলে প্রশাসনিক এলাকা কনটেনমেন্ট জোন হিসেবে চিহ্নিত হবে এবং অতিরিক্ত ৫ কিলোমিটার ব্যাস বাফার জোন হবে।

একই প্রশাসনিক এলাকায় একাধিক ক্লাস্টার (জনবসত, স্কুল, অফিস, হাসপাতাল) থাকলে জেলা শহর প্রশাসনিক এলাকা চিহ্নিত করে কনটেনমেন্ট জোন চিহ্নিত হবে এবং জেলা শহরের সংলগ্ন জেলা শহর বাফার জোন হিসেবে চিহ্নিত হবে, যেমনটা পাঞ্জাবের মোহালির জওহরপুরে করা হয়েছে।

ক্লাস্টার গ্রামীণ এলাকায় হবে, তার তিন কিলোমিটার পরিধির মধ্যে কনটেনমেন্ট জোন ও অতিরিক্ত সাত কিলোমিটার পরিধি জুড়ে বাফার জোন স্থির করা হয়েছে।

এ ধরনের জোনগুলিতে সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় নজরদারি কীভাবে চলবে? কতটা চলাচলের অনুমতি থাকবে

সক্রিয় নজরদারি- জনবসতি এলাকা আশা-অঙ্গনওয়াড়ি-এএনএম কর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে, যাঁরা ৫০টি (অসুবিধাজনক এলাকায় ৩০টি) করে বাড়ি দেখবেন। অতিরিক্ত বাহিনী বাফার জোন ছাড়া পার্শ্ববর্তী জেলায় জড়ো হবে। এই কর্মীদের প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসকদের অধীনে ১-৪ অনুপাতে কাজ করতে হবে যাতে সংশ্লিষ্ট জোনের কোনও বাড়ি বাদ না পড়ে।

নিষ্ক্রিয় নজরদারির জন্য ম্যাপিংয়ের সময়ে ওই এলাকার সমস্ত স্বাস্থ্য পরিষেবার তালিকাভুক্তি করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি সমস্ত ক্লিনিকের সম্ভাব্য কোভিড ১৯ কেস জেলা পর্যায়ের কন্ট্রোল রুমে জানাতে হবে।

একটি পরিধি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করতে হবে যাতে কনটেনমেন্ট জোনের বাসিন্দারা মেডিকাল ইমার্জেন্সি ও প্রয়োজনীয় পরিষেবা ছাড়া অন্য কারণে না বেরোন। সমস্ত যান ও পায়ে চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করতে হবে। পরিধি সীমার বাইরে কোনও গাড়ি গেলে তা সোডিয়াম হাইপোক্লারাইট দিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

এরকম হটস্পট কত?

কেন্দ্র দু ধরনের হটস্পট নির্ধারণ করেছে- বড় আকারের প্রাদুর্ভাবের হটস্পট এবং ক্লাস্টারের মধ্যে আরেকটি হটস্পট। প্রথমোক্ত ক্ষেত্রে যেসব শহর বা গ্রামে  ১৫টির বেশি কেস পাওয়া গিয়েছে যারা মহামারীর সঙ্গে যুক্ত নয় এবং দ্বিতীয় ক্ষেত্রটি হল যেখানে নির্ধারিত এলাকা থেকে ১৫টির কম সংক্রমণের ঘটনা মিলেছে।

 চণ্ডীগড়ে কী হচ্ছে?

চণ্ডীগড়ে ২১টি ঘটনা ঘটেছে এবং বৃদ্ধির হারের দিতে তাকিয়ে একে বড়সড় প্রকোপের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

চণ্ডীগড়ে গাড়ির যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং জনগণের বড় অংশের পরীক্ষা হবে। সীমান্তও দুএকটি রাস্তা ছাড়া সর্বত্র সিল করে দেওয়া হবে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা এখন টেলিগ্রামে, পড়তে থাকুন

Stay updated with the latest news headlines and all the latest Explained news download Indian Express Bengali App.

Web Title: Containment zone buffer zone cluster union territories