বড় খবর

আইসোলেশন ওয়ার্ডের গুরুত্ব কী? কীভাবে গড়ে ওঠে এই ওয়ার্ড?

COVID-19 এর অতি সংক্রামক চরিত্রের কারণে যাঁরা এই ভাইরাস বহন করছেন, এবং যাঁরা সন্দেহভাজন মাত্র, তাঁদের নির্দিষ্ট স্থানে পৃথক রাখা অত্যন্ত জরুরি

coronavirus isolation ward
প্রতীকী ছবি
দেশব্যাপী করোনাভাইরাস জনিত ২১ দিনের লকডাউন চলাকালীন এই মহামারীর মোকাবিলায় উঠেপড়ে লেগেছে ভারত। যে পদক্ষেপটি সর্বাপেক্ষা গুরুত্ব পাচ্ছে, তা হলো আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপন করা। ভারতীয় রেল তো প্রত্যন্ত এলাকায় এবং গ্রামাঞ্চলে ট্রেনের মধ্যেই আইসোলেশন ওয়ার্ড গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করছে।

এইসব পদক্ষেপ মাথায় রেখে এক নজরে দেখে নেওয়া, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরির প্রস্তুতি-উপাদান (লজিস্টিকস) সম্পর্কে ঠিক কী বলেছে।

আইসোলেশন ওয়ার্ড কী? কী তার প্রয়োজনীয়তা?

COVID-19 এর অতি সংক্রামক চরিত্রের কারণে যাঁরা এই ভাইরাস বহন করছেন, এবং যাঁরা সন্দেহভাজন মাত্র, তাঁদের নির্দিষ্ট স্থানে পৃথক রাখা অত্যন্ত জরুরি, যতক্ষণ না সন্দেহভাজনদের ‘ক্লিন চিট’ দেওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের নীতি অনুযায়ী, করোনা আক্রান্তরা ততক্ষণ অবধি হাসপাতালে থাকবেন, যতক্ষণ না দু’বার তাঁদের নমুনা পরীক্ষার ফল নেতিবাচক হচ্ছে।

এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জরুরি। এর কারণ, কিছু আক্রান্ত আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ হয়ে উঠলেও ভাইরাস বহন করতে পারেন, যার অর্থ হলো অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারেন তাঁরা। উদাহরণস্বরূপ ধরা যেতে পারে চণ্ডীগড়ের প্রথম করোনা আক্রান্তের কথা, যিনি প্রথমবার ‘করোনা পজিটিভ’ হওয়ার পরেও ফের একবার তাঁর দেহে মেলে COVID-19, যদিও দ্বিতীয়বার কোনও উপসর্গ দেখা যায় নি।

সুতরাং নির্দিষ্ট ইন্টেন্সিভ কেয়ার বেড চিহ্নিত করা জরুরি, যাতে আক্রান্ত এবং সন্দেহভাজনদের আলাদা করে দেওয়া যায়।

রোগীকে আইসোলেট করতে গেলে কী করতে হয়?

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক অনুযায়ী, সম্পদ-বিহীন পরিস্থিতিতে COVID-19 রোগীদের এমন ওয়ার্ডে রাখতে হবে যেখানে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে, এবং পাশাপাশি দুটি বেড-এর মধ্যে ন্যূনতম এক মিটারের দূরত্ব রয়েছে। এই রোগীদের সর্বসময় ট্রিপল-লেয়ার সারজিক্যাল মাস্ক পরে থাকতে হবে। একইভাবে সন্দেহভাজনদের আলদা ওয়ার্ডে রাখতে হবে ওই একই পরিস্থিতিতে। মন্ত্রকের তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে “কোনও অবস্থাতেই এই দুই গোষ্ঠীকে মেশানো চলবে না”।

অন্যদিকে, এই রোগীদের দেখাশোনা করার সময় স্বাস্থ্যকর্মীদের ইনফেকশন প্রিভেনশন কন্ট্রোল (infection prevention control বা আইপিসি) কমিটি দ্বারা নির্দেশিত আইপিসি বিধি মেনে চলতে হবে। যেসব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের রোগীদের রাখা হবে, সেখানকার কর্মীদের হাত ধোয়া, শ্বাসযন্ত্রের পরিচালনা, পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই), এবং বায়ো-মেডিক্যাল বর্জ্যের ব্যবস্থাপনা।

রোগী এবং সন্দেহভাজন রোগীর মতোই স্বাস্থ্যকর্মীদেরও তিন লেয়ারের সারজিকাল মাস্ক এবং দস্তানা অবশ্য পরিধেয়, এবং যাঁরা আইসোলেশন এবং ক্রিটিক্যাল ওয়ার্ডে কর্মরত, তাঁদের জন্য পিপিই এবং N-95 মাস্ক অত্যাবশ্যক। যেসব কর্মী ওয়ার্ডকে জীবাণুমুক্ত করার এবং সাফাইয়ের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদেরও পিপিই ব্যবহার করতেই হবে।

এই ধরনের ওয়ার্ডে সাফাই হয় কী দিয়ে?

মন্ত্রকের নির্দেশ মতো, অন্তত দু’বার করে এই ধরনের ওয়ার্ডের পরিবেশ পরিষ্কার করা জরুরি, যার অঙ্গ হলো ধুলো কমাতে জলের ব্যবহার, এবং ফেনাইল-যুক্ত জীবাণুনাশক ও সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট দিয়ে মেঝে পরিষ্কার করা।

আইসোলেশন ওয়ার্ডের গঠন প্রক্রিয়া

আদর্শ পরিস্থিতিতে প্রত্যেক COVID-19 রোগীকে আলাদা ঘরে রাখা উচিত, কিন্তু স্থানাভাবের কারণে যখন ‘কমন অয়ারদ’-এ রাখতেও হয়, তখনও প্রতিটি বেড-এর মধ্যে অন্তত এক মিটারের দূরত্ব থাকা আবশ্যক। অর্থাৎ দশটি বেড রাখতে হলে ঘরের আয়তন হতে হবে ২,০০০ বর্গফুট। প্রতিটি আইসোলেশন ওয়ার্ডের আলাদা প্রবেশ এবং নির্গমন পথ থাকবে, এবং কখনোই সেগুলি সার্জারি-পরবর্তী ওয়ার্ড, বা ডায়ালিসিস ইউনিট বা লেবার রুমের পাশাপাশি অবস্থিত হবে না।

“বহিরাগতরা যান না, এমন কোনও নিরিবিলি জায়গায় অবস্থিত হতে হবে এই ওয়ার্ড,” বলছে মন্ত্রক। এই ঘরগুলির দুই-দরজার প্রবেশপথ থাকতে হবে, সঙ্গে পর্যাপ্ত বাতাস খেলার জায়গা। ঘর যদি শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত হয়, তবে ঘন্টায় অন্তত ১২ টি ‘এয়ার চেঞ্জ’ হতে হবে, এবং ‘এক্সস্ট এয়ার’ ফিলটার করাতে হবে।

তবে যেসব রোগীর শ্বাসযন্ত্র চালু রাখার জন্য বিশেষ কোনও প্রক্রিয়ার প্রয়োজন, তাঁদের যে ঘরে রাখা হবে, সেখানে নেগেটিভ প্রেশার থাকা বাঞ্ছনীয়, এবং সেন্ট্রাল এয়ার-কন্ডিশনিং থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া উচিত। পৃথক শীতাতপ ব্যবস্থা যদি না করা যায়, তবে তিন-চারটি এক্সস্ট ফ্যানের সাহায্যে ঘরটিকে বাতাসমুক্ত করা প্রয়োজন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, আইসোলেশন ওয়ার্ডে কর্মরত চিকিৎসাকর্মীদের অন্য কোনও ওয়ার্ডে কাজ করার অনুমতি দেওয়া যাবে না।

আইসোলেশন ওয়ার্ডে অত্যাবশ্যকীয় সরঞ্জামের মধ্যে পড়ছে চোখের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সরঞ্জাম, মুখের ঢাকনা, গ্লাভস বা দস্তানা, চুল ঢাকার সরঞ্জাম, বস্তুকণার রেস্পিরেটর, মেডিক্যাল মাস্ক, গাউন, ব্যবহৃত সরঞ্জামের জন্য কনটেইনার, সাবান, এবং অ্যালকোহল-যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার।

আইসোলেশন ওয়ার্ডে ঢোকা বেরোনো

আইসোলেশন ওয়ার্ডে ঢোকার আগে চিকিৎসাকর্মীদের নিশ্চিত করতে হবে যে তাঁরা সমস্ত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছেন, হাত পরিষ্কার করেছেন, এবং পিপিই পরিধান করেছেন। নিয়মানুযায়ী আগে হাত ধোয়া, তারপর গাউন, মাস্ক, এবং রেস্পিরেটর পরা, তারপর চোখের নিরাপত্তা, শেষে গ্লাভস পরা।

আইসোলেশন ওয়ার্ড ছেড়ে বেরোনোর সময় এমনভাবে পিপিই খুলতে হবে, যাতে নিজেই নিজেকে সংক্রামিত করার কোনও সুযোগ না থাকে। এটি করার আদর্শ উপায় হলো সবচেয়ে দূষিত পিপিই সরঞ্জামগুলি আগে খোলা, গ্লাভস খোলা মাত্রই হাত পরিষ্কার করা, তারপর মাস্ক এবং রেস্পিরেটর খোলা, বর্জ্য পদার্থগুলিকে বন্ধ, শুকনো পাত্রে ফেলা। গাউন যদি ফেলার মতো হয়, মন্ত্রকের পরামর্শ হলো দস্তানা এবং গাউন একসঙ্গে খোলা, তারপরেই হাত পরিষ্কার করা, এরপর চোখের ঢাকনা, মাস্ক এবং রেস্পিরেটর খোলা, এবং ফের একবার হাত ধোয়া।

Get the latest Bengali news and Explained news here. You can also read all the Explained news by following us on Twitter, Facebook and Telegram.

Web Title: Coronavirus pandemic covid19 india isolation wards

The moderation of comments is automated and not cleared manually by bengali.indianexpress.com