scorecardresearch

বড় খবর

Explained: সিবিআইকে এবার না বলল এনডিএ-র শরিক, জানেন কেন, কী ভাবে?

সিবিআইয়ের তদন্তে সার্বিক অনুমতি কী?

Meghalaya withdraw consent to CBI
কড়া পদক্ষেপ মেঘালয়ের।

একে একে নয়। নবমে মেঘালয়। মেঘরাজ্যও সিবিআইয়ের তদন্তে সাধারণ অনুমতি বা সার্বিক অনুমতি অথবা জেনারেল কনসেন্ট প্রত্য়াহার করে নিল। এনডিএ শরিক ন্যাশনাল পিপলস অ্যালায়েন্স বা এনপিপি-র কনরাড সাংমা মুখ্যমন্ত্রী সে রাজ্যে। সেখানে জোটের আসন ৪৬, যার মধ্যে এনপিপি ২৩। আর বিজেপি ক্ষীণ, মাত্র ২টি। কনরাডের এই পদক্ষেপের অর্থ কেন্দ্র তথা বিজেপির বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা, বলছেন অনেকেই। সিবিআইয়ের তদন্তে সার্বিক অনুমতি প্রত্যাহার মানে, এবার থেকে প্রতিটি মামলার তদন্তে আলাদা করে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থাকে সে রাজ্যের অনুমতি নিতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ২০১৮-র ১৬ নভেম্বর সিবিআইয়ের তদন্তে সাধারণ অনুমতি প্রত্যাহার করে নেয়। তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে এখনও। দিল্লি পুলিশ স্পেশাল এসটাবলিশমেন্ট আইনের ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই প্রত্যাহার করেছে এই নটি রাজ্যই। এ নিয়ে এ রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রের দড়ি টানাটানি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে। শীর্ষ আদালতে কেন্দ্রীয় সরকার বলেছিল, ‘এই ক্ষমতাবলে সাধারণ অনুমতি প্রত্যাহারের ক্ষমতা রাজ্যের আছে ঠিকই, কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থে এটিকে কাজে লাগানো যেতে পারে না।’ এই প্রেক্ষাপটে মেঘালয়ের এই সার্বিক অনুমতি প্রত্যাহার রীতিমতো তাৎপর্য রাখে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের অনেকের।

সিবিআইয়ের তদন্তে সার্বিক অনুমতি কী?

দিল্লি স্পেশাল পুলিশ এসটাবলিশমেন্ট অ্যাক্ট বা ডিএসপিই ১৯৪৬। এই আইনে সিবিআই গঠিত। আইন মোতাবেক কোনও রাজ্যে তদন্ত শুরুতে রাজ্য সরকারের অনুমতি প্রয়োজন। এর ৬ নম্বর ধারায় বিষয়টি স্পষ্ট করে লেখা রয়েছে। সিবিআইকে রাজ্য সরকারের এই অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি মামলা-অনুযায়ী হতে পারে, কিংবা সাধারণ বা সার্বিক অনুমতি দিতে পারে কোনও রাজ্য। সাধারণত সিবিআইয়ের অনর্গল তদন্তের স্বার্থে রাজ্যগুলির সার্বিক অনুমতি রয়েছে, এমনটাই ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু কোনও রাজ্য আইনের ৬ নম্বর ধারায় এই সার্বিক অনুমতি প্রত্যাহার করে নিতে পারে। ন’টি রাজ্য যা করেছে।

আরও পড়ুন Explained: ইউক্রেনের পরমাণু চুল্লিতে অগ্নিকাণ্ড এবং তার বিপদ

কেন রাজ্যগুলি এ পথে হেঁটেছে?

মেঘালয় এই পদক্ষেপ করেছে ৪ মার্চ, শুক্রবার। এছাড়া আগেই বলেছি ২০১৮-তে এই কাজটি করেছে পশ্চিমবঙ্গ। বাকি সাতটি হল, মহারাষ্ট্র, পঞ্জাব, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড, ছত্তীশগঢ়, কেরল এবং মিজোরাম। মেজোরাম এবং মেঘালয় ছাড়া, অন্যগুলিতে বিজেপি বিরোধী শক্তি ক্ষমতায়। মিজোরাম হল এ পথে প্রথম। ২০১৫ সালে তারা সার্বিক অনুমতি প্রত্যাহার করে নেয়। তখন কংগ্রেস শাসিত ছিল মিজোরাম। মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন লাল থানহাওলা। এর পর, ২০১৮ সালে এনডিএ-র শরিক মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট ক্ষমতায় আসে। কিন্তু সিবিআইয়ের সার্বিক ক্ষমতা-ভাগ্যে আর শিকে-টি ছেড়েনি।

অন্ধ্রপ্রদেশ, ১৯১৮ সালের নভেম্বর। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কার্যত সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। এই সার্বিক অনুমতি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় সে রাজ্যে। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই পদক্ষেপ করেন। মমতা বলেছিলেন, চন্দ্রবাবু নাইডুর একেবারে ঠিক কাজ করেছেন। বিজেপি সিবিআই এবং অন্য এজেন্সিগুলিকে রাজ্যনৈতিক স্বার্থে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে ব্যবহার করছে। অন্ধ্রে ২০১৯-এ চন্দ্রবাবুর তখত থেকে সরে গিয়েছেন, এসেছেন ওয়াই এস জগনমোহন রেড্ডি। কিন্তু কিন্তু অনুমতির মালাটি আর সিবিআইয়ের গলায় ফেরত আসেনি।

২০১৯ সালে ছত্তীশগড় সরকার এ সিদ্ধান্ত নেয়। ভুপেশ বাঘেল মুখ্যমন্ত্রী সেখানে, কংগ্রেসী। ২০২০ সালে এই পদক্ষেপ করে পঞ্জাব, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, কেরল এবং ঝাড়খণ্ড। সবারই এক কথা, কেন্দ্রের হাতের পুতুলের মতো কাজ করছে সিবিআই, তাই অনুমতি প্রত্যাহার।

আরও পড়ুন Explain: দার্জিলিংয়ে বান ডেকেছে ‘অজয়ে’, হামরো পার্টির উত্থানের নেপথ্য কারণটা জানেন?

সার্বিক অনুমতি প্রত্যাহারের জের কী?

এর মানে হল, কারওর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে গেলে রাজ্যের অনুমতির দরকার হবে। যত বার এমনটা করবে সিবিআই, তত বার অনুমতির প্রয়োজন হবে। ‘কোনও রাজ্যে তদন্তের ক্ষেত্রে, সেই রাজ্য যদি অনুমতি না দেয়, তা হলে সিবিআই একজন পুলিশ আধিকারিকের প্রায় সব ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে সেখানে।’ বলছেন এক প্রাক্তন সিবিআই আধিকারিক।’

সার্বিক অনুমতি প্রত্যাহার। পদে পদে সিবিআই রাজ্যের বাধার মুখোমুখি হওয়ার পথ খুলে দেওয়া। এবং তাই পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে কেন্দ্রের লড়াই চলছে সুপ্রিম কোর্টে। সেই লড়াইয়ের ফলাফলের উপরই অনেক কিছু নির্ভর করছে, বলছেন বিশ্লেষকদের অনেকেই।

Stay updated with the latest news headlines and all the latest Explained news download Indian Express Bengali App.

Web Title: Explained what is general consent for cbi now withdrawn by meghalaya