scorecardresearch

বড় খবর
এক ফ্রেমে কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রী ও কয়লা মাফিয়া, বিজেপিকে বিঁধলেন অভিষেক

Explained: ভারতীয় রাজনীতির উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক ! কীভাবে উত্তরপ্রদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতেন মুলায়ম?

১৯৮৯ সালে প্রথমবার উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হন।

Explained: ভারতীয় রাজনীতির উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক ! কীভাবে উত্তরপ্রদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতেন মুলায়ম?

উত্তরপ্রদেশে তখন রাজনৈতিক, সামাজিক উথালপাতাল পরিস্থিতি। সেই সময় দেশের এই বৃহত্তম রাজ্যের শাসন ক্ষমতায় বসেছিলেন মুলায়ম সিং যাদব। পরবর্তীতে তাঁর নীতি এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে সমর্থকদের কাছে তিনি ‘নেতাজি’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। উত্তরপ্রদেশকে কেন্দ্র করে তাঁর নীতি এবং ভাবনা ক্রমশ গোটা দেশকে নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করে। সোমবারই প্রয়াত হয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। উত্তরপ্রদেশের তিন বারের মুখ্যমন্ত্রী থেকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় এই মন্ত্রীর প্রয়াণে অবসান ঘটেছে একটা রাজনৈতিক যুগের।

মুলায়মের উত্থান
মুলায়ম সিং যাদবের উত্থান ১৯৭০-এর পরবর্তী সময়ে। সেই সময় উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে ক্রমশই অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি বা ওবিসিদের রাজনৈতিক উত্থান ঘটছে। ক্রমশ জমি হারাচ্ছে কংগ্রেস। দাপট বাড়ছে মুসলিম ও দলিত রাজনৈতিক সমীকরণের। আর, এই মুসলিমদের উত্থানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে উত্তরপ্রদেশ এরপর দেখেছে ভারতীয় জনতা পার্টির উত্থান। ভারতীয় রাজনীতি প্রথমবার দেখেছে রাম জন্মভূমি আন্দোলন নিয়ে দেশজুড়ে আগ্রাসী প্রচার। তার মধ্যেই যেন জ্যোতিষ্কের মত টিকে রইলেন মুলায়ম। কীভাবে উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে নিয়ন্ত্রণ করতেন তাঁর সমর্থকদের প্রিয় ‘নেতাজি’?

কুস্তির আখড়া থেকে রাজনৈতিক ময়দান
১৯৩৯ সালের ২২ নভেম্বর উত্তরপ্রদেশের এটাওয়ায় জন্মেছিলেন মুলায়ম সিং যাদব। কুস্তির আখড়ায় নিয়মিত যাতায়াত তো ছিলই। পলিটিক্যাল সায়েন্সে এমএ এবং বিএড ডিগ্রি ছিল। শিক্ষক পদে চাকরি করতেন। সংযুক্ত সোশ্যালিস্ট পার্টির (এসএসপি) প্রার্থী হিসেবে এটাওয়ার যশবন্তনগর থেকে ১৯৬৭ সালে প্রথমবার বিধায়ক হয়েছিলেন। কিন্তু, ১৯৬৯ সালে কংগ্রেসের বিশ্বম্ভর সিং যাদবের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। ১৯৭০ সালেই রামনরেশ যাদবের নেতৃত্বাধীন উত্তরপ্রদেশ মন্ত্রিসভায় পশুপালন এবং সমবায় দফতরের মন্ত্রী হন।

আরও পড়ুন- জাতীয় রাজনীতিতে ইন্দ্রপতন, প্রয়াত মুলায়ম সিং যাদব, শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

বারবার দলবদল
১৯৭৪ সালের অন্তর্বর্তী নির্বাচনে তিনি যোগ দেন চৌধুরী চরণ সিংয়ের ভারতীয় ক্রান্তি দল (বিকেডি)-এ। তাঁর দলের টিকিটেই জিতে নেন যশবন্তনগর আসন। ফের ১৯৭৭ সালে জনতা পার্টির হয়ে জয়ী হন। ১৯৮০ সালে কংগ্রেস প্রার্থী বলরাম সিং যাদবের কাছে মুলায়ম হেরে যান। এরপর তিনি লোকদলে যোগ দেন। আর, লোকদলের হয়ে উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদের সদস্য হন। পাশাপাশি, বিরোধী দলনেতা পদেও বসেন। ১৯৮৯ সালে উত্তরপ্রদেশের দশম বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুলায়ম ভিপি সিংয়ের নেতৃত্বাধীন জনতা দলে যোগ দেন। আর, জনতা দলের উত্তরপ্রদেশের প্রধান নিযুক্ত হন। বিরোধী নেতা হিসেবে তিনি গোটা উত্তরপ্রদেশে পরিচিত হয়ে ওঠায়, রাজ্যজুড়ে ‘ক্রান্তি রথযাত্রা’ শুরু করেন মুলায়ম। তাঁর মিছিলের থিম সং ছিল- ‘নাম মুলায়ম সিং হ্যায়, লেকিন কাম বড়া ফউলদি হ্যায়…’

হলেন মুখ্যমন্ত্রী
তাঁর নেতৃত্বাধীন জনতা দল ৪২১ আসনের মধ্যে উত্তরপ্রদেশে ২০৮ আসন জিতে নেয়। বিজেপি পায় ৫৭ আসন। বিএসপি জেতে ১৩ আসন। মুলায়ম ফের যশবন্তনগর থেকে জয়ী হন। ১৯৮৯ সালের ৫ ডিসেম্বর উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন মুলায়ম। হন, উত্তরপ্রদেশের ১৫তম মুখ্যমন্ত্রী। সেই প্রথম কংগ্রেস উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে দাঁত ফোটাতে ব্যর্থ হয়। তারপর থেকে কংগ্রেস আর উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় ফিরতে পারেনি।

Read full story in English

Stay updated with the latest news headlines and all the latest Explained news download Indian Express Bengali App.

Web Title: Mulayam singh yadav came to dominate up amid intense social and political churn