scorecardresearch

বড় খবর

সংঘ পরিবার ও পাক অধিকৃত কাশ্মীর

জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তথা বিজেপির প্রথম অবতার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় যে সব ইস্যুতে জওহরলাল নেহরু মন্ত্রিসভা ত্যাগ করেছিলেন, কাশ্মীর তার অন্যতম।

সংঘ পরিবার ও পাক অধিকৃত কাশ্মীর
ছবি- ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লোকসভায গত সপ্তাহে বলেছেন জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করে দেওয়ার অর্থ এই নয় যে আদত জম্মু কাশ্মীর, যার মধ্যে পাক ও চিন অধিকৃত অংশ রয়েছে, তার দাবি থেকে ভারত সরে এল। ভারতের অবস্থান এরকমই। তবে আর এস এস এবং ভারতীয় জনসংঘের কাছে কাশ্মীর ও পাক অধিকৃত কাশ্মীর বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ।

জনসংঘ

জম্মু কাশ্মীরের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যতার বিষয়টি বিজেপির কাছে আদর্শগতভাবে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই নিজেদের দলের সূত্রপাতের কারণেও জরুরি। জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তথা বিজেপির প্রথম অবতার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় যে সব ইস্যুতে জওহরলাল নেহরু মন্ত্রিসভা ত্যাগ করেছিলেন, কাশ্মীর তার অন্যতম। জনসংঘের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯৫১ সালে, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নেহরুকে বলেছিলেন, ভারত যদি পাকিস্তানের হাত থেকে কাশ্মীর উদ্ধার না করতে পারে তা হবে জাতীয় লজ্জার বিষয়। ২৩ জুন শ্যামাপ্রসাদ শ্রীনগর জেলে মারা যান শ্যামাপ্রসাদ। নিষেধাজ্ঞা না-মেনে কাশ্মীরে প্রবেশের জন্য তাঁকে গ্রেফতার করেছিল শেখ আবদুল্লার সরকার। এর পর থেকেই জনসংঘ ও বিজেপির স্লোগান ছিল- “যাহাঁ হুয়ে বলিদান মুখার্জি, উয়ো কাশ্মীর হামারা হ্যায়।”

কানপুরে ১৯৫২ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রথম বার্ষিক কনক্লেভে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কেন্দ্রের নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই নীতির কারণেই (জম্মু-কাশ্মীর) রাজ্যের এক তৃতীয়াংশ হামলাকারী পাকিস্তানের দখলে চলে গিয়েছে।

আরও পড়ুন, সংবিধানের ৩৭১ নং অনু্চ্ছেদে আছেটা কী?

১৯৫৩ সালের ১৫ অগাস্ট এলাহাবাদ (বর্তমান প্রয়াগরাজ) বৈঠকে জনসংঘ একটি প্রস্তাব পাশ করে যেখানে বলা হয়, “পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পাঁচভাগের দু ভাগ ফেরত না দিলে ভারত-পাকিস্তান মৈত্রী সম্ভব নয়।”

যোধপুরে ১৯৫৫ সালের তৃতীয় কনক্লেভে জনসংঘ ফের তাদের দাবি তোলে, বলা হয়, “সরকারকে স্পষ্ট ও সুনিশ্চিতভাবে ঘোষণা করতে হবে যে পাকিস্তান কাশ্মীরের যে এক তৃতীয়াংশ দখল করে রেখেছে তার ফিরিয়ে আনার জন্য সমস্ত রকম চেষ্টা করা হবে।”

১৯৫৬ সালের এপ্রিল মাসে জয়পুরের চতুর্থ কনক্লেভে জনসংঘ ফের দাবি তোলে নেহরু সরকারের উচিত পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পুনর্দখলের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা উচিত।

১৯৫৭ সালের এপ্রিল মাসে জৌনপুরে জাতীয় কার্যকরী সমিতির বৈঠকে দলের পক্ষ থেকে সরকারকে বলা হয় “পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পুনর্দখল করতে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হোক।” ১৯৫৭ সালের নির্বাচনে জনসংঘের ইস্তেহারেও বলা হয়, “ভারতের উচিত কাশ্মীরের এক তৃতীয়াংশ ফেরত চাওয়া।”

১৯৫৮ সালের এপ্রিলে ষষ্ঠ সারা ভারত কনক্লেভে এবং ডিসেম্বরে ১৯৫৯ সালের সুরাটের বৈঠকে একই কথা উচ্চারিত হয়।

জনসংঘ ১৯৬২ সালের লোকসভা ভোটের ইস্তেহারে প্রতিশ্রুতি দেয় যে তারা “পাক অধিকৃত কাশ্মীর ফেরত আনার যথাসাধ্য চেষ্টা” করবে।

১৯৬২ সালের মে মাসে জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তান-চিন জোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে এবং দাবি করা হয়, “পাক অধিকৃত কাশ্মীর ফেরত আনার জন্য সবরকম চেষ্টা করা উচিত”।

১৯৬৬ সালের জানুয়ারি মাসে জনসংঘের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে বলা হয়, “কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে ফেরত আনা। ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনার একমাত্র বিষয়বস্তু হওয়া উচিত কাশ্মীর।”

১৯৬৭ সালের লোকসভা ভোটের ইস্তেহারে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের কোনও উল্লেখ করা হয়নি, বলা হয়েছিল, জনসংঘ ভারত ও পাকিস্তানের সংহতিতে বিশ্বাস করে।

আরও পড়ুন, জম্মু কাশ্মীর বিশেষ মর্যাদা হারিয়ে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত: একটি টাইমলাইন

১৯৭১ সালের ইস্তেহারে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের কথা উল্লেখই করা হয়নি। কিন্তু ১৯৭২ সালের নভেম্বরের জয়পুর বৈঠকে সিমলা চুক্তির নিন্দা করা হয়, এবং “১৯৪৭ থেকে পাকিস্তান যে কাশ্মীর দখল করে রেখেছে তা মুক্ত না করে ভারতীয় সেনাকে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপের নিন্দা “করা হয়।

আর এস এস

আর এস এসের অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভা, কেন্দ্রীয় কার্যকরী মণ্ডল (কেকেএম) এবং অখিল ভারতীয় কার্যকরী মণ্ডল (এবিকেএম)-ও বারবার পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ইস্যুটি বারবার তুলেছে।

১৯৬০ সালে কেকেএম সরকারকে বলে, “পাক অধিকৃত কাশ্মীরে মঙ্গলা বাঁধ নির্মাণে সম্মতি দেওয়ার মাধ্যমে কৌশলগত ওই এলাকার উপর থেকে দাবি ছেড়ে দেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে।”

১৯৬২ সালে আরএসএস একটি প্রস্তাব পাশ করে, যাতে লেখা ছিল, “পাকিস্তান নিজেই কাশ্মীরে আক্রমণকারী। যদি ভারত আক্রমণকারীদের সামনে নতমস্তক হয়, তাহলে তারা অন্যদের আটকাতে পারবে না।”

১৯৬৩ সালে এবিপিএস বলেছিল “কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাক আলোচনার মুখ্য বিষয় হওয়া উচিত এক তৃতীয়াংশ কাশ্মীর থেকে আক্রমণকারী ভারতকে সরানো বিষয়ে”।

১৯৯০ সালে এবিকেএম একটি প্রস্তাব পাশ করে, তাতে বলা হয়, “কাশ্মীরের উত্তেজনা প্রশমিত হতে পারে পাকিস্তান যদি জোর করে অধিকার করে রাখা কাশ্মীরের পাঁচ ভাগের দুভাগ ছেড়ে দেয়”।

১৯৯৪ সালে সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাব পাশ হয়, যেখানে বলা হয় “জম্মুকাশ্মীরের যে অংশ পাকিস্তান জোর করে অধিগ্রহণ করে রেখেছে তা তাদের দ্রুত ছেড়ে দেওয়া উচিত”। এর পর এবিপিএসের তরফ থেকে আশা প্রকাশ করা হয় “এর পর থেকে কাশ্মীর ইস্যুতে এতদিন যে মনোভাব নিয়ে আসা হয়েছে, তা তেকে এবার বেরিয়ে আসবে সরকার”।

১৯৯৫ সালে এবিকেএম বলে, “খুবই আশ্চর্যের যে সংসদে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মীর নিয়ে যে সাহসী আলোচনা, তা এত দ্রুত উবে গেল”।

আরও পড়ুন, মর্যাদাহীন জম্মু কাশ্মীর হারাল তাদের নিজস্ব পতাকাও

১৯৯৭ সালে রাজ্যের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এবিপিএস সাবধান করে দেয় যে তাহলে “আমাদের দেশের সামনে পদক্ষেপ করার সমস্ত রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে”।

২০০৩ সালে আরএসএসের এবিকেএম আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কিত এক প্রস্তাবে সরকারকে বলে “১৯৯৪ সালে ভারতের সংসদে গৃহীত প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের প্রতিবেশীদের উদ্দেশে নতুন নীতির খসড়া প্রয়োজন”।

২০০৫ সালে এবিকেএম সরকারকে ১৯৯৪ সালের প্রস্তাবের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলে “কোনও আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না সরকার, এমনটাই প্রত্যাশিত”।

বিজেপি

২০১৯ ও ২০১৪ সালে বিজেপির ইস্তেহারে পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে ফেরত নেওয়ার কথা বলা হয়নি। ২০০৯ সালের ইস্তেহারে বিজেপি বলেছিল, “১৯৯৪ সালে সংসদের সর্বসমস্ত প্রস্তাব এখনও আমাদের সরকারের ভবিষ্যৎ আলোচনা ও কর্মপদ্ধতির ভিত্তি হিসেবেই থাকছে”।

কিন্তু বিজেপির ১৯৮৪, ১৯৮৯, ১৯৯১, ১৯৯৮, ১৯৯৯, ২০০৪ সালের লোকসভা ভোটের ইস্তেহারে পাক অধিকৃত কাশ্মীর প্রসঙ্গ ছিল না।

Read the Full Story in English

Stay updated with the latest news headlines and all the latest Explained news download Indian Express Bengali App.

Web Title: Pak occupied kashmir rss jan sangh bjp