Quad summit: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর তিন দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কোয়াড শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন-সহ অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে তিনি এই সম্মেলনে বৈঠক করেছেন। শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) ডেলাওয়্যারের উইলমিংটনে কোয়াড নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, এই গোষ্ঠী কোনও রাষ্ট্রের বিরোধী নয়।
দ্বন্দ্ব মাথায় রেখে বার্তা
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে 'দ্বন্দ্ব এবং উত্তেজনা' আছে। প্রধানমন্ত্রীর একথা বলার কারণ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের আগ্রাসী আচরণের বিরোধিতা করতে কোয়াড গোষ্ঠী তৈরি করা হয়েছে, এমন দাবি ইতিমধ্যেই অনেকে করেছেন। তা নিয়ে জল্পনাও বর্তমানে তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে কার্যত রাশিয়া এবং চিনকে বার্তা দিতেই ঘুরিয়ে রাশিয়া এবং চিন-বিরোধী গোষ্ঠী তৈরির দাবি নস্যাৎ করলেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদী যা বলেছেন
উইলমিংটনে ষষ্ঠ কোয়াড লিডারস সামিটে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, 'আমরা এমন এক সময়ে বৈঠক করছি যখন গোটা বিশ্ব দ্বন্দ্ব আর উত্তেজনায় ভরপুর। এই সময়ে, কোয়াডের সদস্যদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়া মানবতার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কারও বিরুদ্ধে নই। আমরা সবাই আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা, সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখতে চাই। আর, সকল বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানকেই গুরুত্ব দিই।'
গোলটেবিল বৈঠক
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'একটি মুক্ত, সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল তৈরিই আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা একসঙ্গে স্বাস্থ্য-সুরক্ষা, উন্নত প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তনের মত বিভিন্ন ব্যাপারে যৌথ উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের বার্তা খুবই স্পষ্ট। আমরা অংশীদারিত্ব, সহায়তাকে জোরদার করছি।' প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী একটি গোলটেবিল বৈঠকও করেন।
আরও পড়ুন- নিখোঁজের সন্ধান! ওয়ানাদে ডিএনএই ভরসা প্রশাসনের
বাইডেন যা বলেছেন
বাইডেন বলেছেন, 'আমরা গণতন্ত্র মেনে কীভাবে কাজ করতে হয়, জানি। আমার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরপরই সদস্যদের কাছে কোয়াডকে উন্নত করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তার চার বছর পর, আমরা এই গোষ্ঠীর চার সদস্য দেশ আগের চেয়ে অনেক বেশি কৌশলগতভাবে একজোট। আমরা এবারের বৈঠকে ঠিক করছি, আঞ্চলিক অংশীদারদেরকে নতুন সামুদ্রিক প্রযুক্তি দেব। যাতে, তারা জানতে পারে যে তাদের জলে কী ঘটছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কোস্ট গার্ডদের মধ্যে সহযোগিতা চালু করব, তা বাড়িয়ে তুলব। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শিক্ষার্থীদের কোয়াড ফেলোশিপ দেব। যদি চ্যালেঞ্জ আসে, পৃথিবী বদলে যাবে, কিন্তু কোয়াড থাকবে।'