বড় খবর

চিনের উপর ট্রাম্পের গোঁসা- বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মগুলি কীরকম?

২০১১ সাল পর্যন্ত, চিন জিডিপি-র হিসেবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়। পণ্যরফতানিতে প্রথম, বাণিজ্য পরিষেবা রফতানি কারক হিসেবে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে এফডিআই গন্তব্য হিসেবে তারা প্রথম স্থানে।

China, WTO
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১৬৪টি সদস্য দেশের দুই তৃতীয়াংশই উন্নয়নশীল দেশ

নিজেদের উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় রেখে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মাধ্যমে চিন কেবলই আমেরিকার কাছ থেকে সুযোগ নিয়ে এসেছে, শুক্রবার এই অভিযোগ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, বেজিং এরকম করলে আমেরিকাও তা করবে। এ ব্যাপারে ডবলুটিও-কেই দুষেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

“চিন অবিশ্বাস্য ভাবে আমাদের এবং অন্য দেশগুলির কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছে। যেমন, আপনারা জানেন ওরা নিজেদের উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে। আমি বলেছি, ঠিক আছে, তাহলে আমাদেরও উন্নয়নশীল রাষ্ট্র করে দাও।” হোয়াইট হাউজে দৈনন্দিন কোভিড ১৯ সংক্রান্ত সাংবাদিক সম্মেলন করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

করোনা সংক্রমিতদের হাসপাতাল থেকে ছাড়া হবে কখন?

তিনি আরও বলেন, “আপনারা যদি চিনের ইতিহাসের দিকে তাকান, তাহলে দেখবেন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগ দেবার পর থেকে ওদের অর্থনীতি রকেটের গতিতে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।”

ট্রাম্প এই প্রথমবার এ অভিযোগ করেননি। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে তিনি টুইটারে লেখেন, “পৃথিবীর ধনীতম দেশ যখন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম ভাঙার জন্য নিজেদের উন্নয়নশীল দেশ বলে দাবি করেছে, তখনই সে সংস্থা ভেঙে পড়েছে। আমি আজই মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছি, এ সব দেশ যেন আমেরিকাকে ব্যবহার করে যাতে ব্যবস্থাকে ঠকাতে না পারে, সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়।”

কারা উন্নত, কারা উন্নয়নশীল- কীভাবে স্থির হয়?

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা এই বিভাজন করে না। সদস্য রাষ্ট্রগুলি নিজেরা জানায় তারা কোনও আওতায় পড়ে। তবে অন্য সদস্য রাষ্ট্র এসব ব্যাপারে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১৬৪টি সদস্য দেশের দুই তৃতীয়াংশই উন্নয়নশীল দেশ।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কিছু চুক্তিতে উন্নয়নশীল দেশগুলিকে বিশেষ সুবিধা ও অধিকার দেওয়া রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল, অন্য উন্নয়নশীল দেশগুলির বাণিজ্য সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ বা চুক্তি প্রয়োগ করবার বর্ধিত সময়সীমা।

এই চুক্তির আওতায় উন্নত দেশগুলি অন্য দেশের তুলনায় উন্নয়নশীল দেশগুলিকে অতিরিক্ত সুবিধাদান করতে পারে। তবে কোনও দেশ নিজেদের উন্নয়নশীল বলে দাবি করলেই সকলের কাছ থেকে সমান সুবিধা পাবে না।

চিনকে কি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত?

সংস্থার ১৪৩ তম সদস্য হিসেবে ২০০১ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য হয় চিন। সংস্থার এক নথি থেকে জানা যাচ্ছে শুরুর প্রথম দশ বছরে, ২০১১ সাল পর্যন্ত, চিন জিডিপি-র হিসেবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়। পণ্যরফতানিতে প্রথম, বাণিজ্য পরিষেবা রফতানি কারক হিসেবে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে এফডিআই গন্তব্য হিসেবে তারা প্রথম স্থানে।

করোনা সংক্রমিতদের হাসপাতাল থেকে ছাড়া হবে কখন?

তাহলে কি এখনও এদের উন্নয়নশীল বলা উচিত? WTO এর উত্তরে সাউথ সেন্টারের প্রাক্তন ডিরেক্টর মার্টিন খোরকে উদ্ধৃত করেছে। তিনি বলেছেন, “চিনকে যদি একটি উন্নত দেশের কর্তব্য মানতে বাধ্য করা হয় এবং উন্নয়নশীল দেশের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়, পশ্চিমি দেশগুলি খুব তাড়াতাড়ি অন্য যে সব দেশ চিনের চেয়ে (অন্তত মাথা পিছু আয়ের হিসেবে) এগিয়ে তাদেরও একই কথা বলবে। উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখবার জন্য চিনের যে লড়াই, তা কেবল চিনা জনগণের জন্য নয়, অন্য উন্নয়নশীল দেশের মানুষের জন্যও।”

ইতিমধ্যে চিন জানিয়ে দিয়েছে, উন্নয়নশীল দেশের অধিকার তারা ছাড়বে না। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় চিনের রাষ্ট্রদূত ডক্টর ঝ্যাং শিয়াংচেন জানিয়েছেন, “আমরা আমাদের ক্ষমতানুসারে বহুবিধ বাণিজ্যে আমাদের ভূমিকা রেখে চলেছি।  একই সঙ্গে আমরা স্পষ্ট জানি আমাদের দেশ বহুবিধ চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছে, যথাযথ উন্নয়নের ফাঁক থেকে যাচ্ছে আমাদের দেশে। ফলে আমাদের সাধ্যাতীত কোনও শপথ আমরা করব না, এবং একই সঙ্গে উন্নয়নশীল সদস্য হিসেবে আমরা আমাদের অধিকারও ছাড়ব না।”

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা এখন টেলিগ্রামে, পড়তে থাকুন

Get the latest Bengali news and Explained news here. You can also read all the Explained news by following us on Twitter, Facebook and Telegram.

Web Title: Wto trump china wto developing status

Next Story
করোনাভাইরাসের জেরে কমে গেল ভূকম্পনের আওয়াজLockdown, Seiesmic Noise
The moderation of comments is automated and not cleared manually by bengali.indianexpress.com