/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2018/09/jailed_759.jpg)
প্রণয়ের সম্পর্ক বেশিদূর গড়ায়নি। বড় জোর সপ্তাহ কয়েকের প্রেম ছিল তাঁদের মধ্যে। তাও ২০১২ সালে। দুই পরিবারের সাংস্কৃতিক ব্যবধান বাড়িয়ে দিয়েছিল দুটো মনের দূরত্ব। কিন্তু প্রাক্তন 'হিন্দু' প্রেমিকের বাড়িতে দীর্ঘদিন পোস্ট করে পাঠানো হতো গো মাংস। প্রেমিকের এবং তাঁর পরিবারের ধর্ম বিশ্বাসে আঘাত দেওয়ার এবং বর্ণ বৈষম্যমূলক আচরণ করার অভিযোগে লন্ডনবাসী শিখ মহিলা আমনদীপ মুধর কে শাস্তি হিসেবে ২ বছরের কারাদণ্ড দিল ব্রিটিশ আদালত।
বিগত বেশ কিছু বছর ধরে প্রাক্তন প্রেমিকের বাড়িতে হুমকি দিয়ে এবং অসম্মানজনক কথা বলে ফোন করার অভিযোগ রয়েছে আমনদীপের বিরুদ্ধে। সোশাল মিডিয়াতেও প্রেমিকের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করতেন ২৬ বছরের আমনদীপ।
স্থানীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, সাংস্কৃতিক তফাতের কারণ দেখিয়ে তার প্রেমিক সম্পর্ক শেষ করার পর, অভিযুক্ত তরুণী আমনদীপ মুধর এবং তার পরিবার ব্যাপকভাবে ওই ছেলেটিকে হুমকি দিতে থাকে। এমকি তার বোন এবং মাকে ধর্ষণ করার হুমকিও দেওয়া হয়। হুমকি দেওয়া হয় তাদের বাড়ি ও গাড়ি বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়ার।
মামলার শুনানি চলাকালীন আইনজীবী সু কেভেন্টার বলেন ২০১৫ সালের পর থেকে আমনদীপের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলে প্রাক্তন প্রেমিকের পরিবারের সঙ্গে আমনদীপের যোগাযোগের চেষ্টা নিষিদ্ধ হয়। নিষেধ না মেনেই প্রেমিকের এক বোনকে লক্ষ্য করে সোশাল মিডিয়ায় একটি মেসেজ করেন আমনদীপ। এর পর সন্দীপ ডোগরা নামের এক বন্ধুর সাহায্য নিয়ে ফেসবুক এবং ইন্সটাগ্রামে একাধিক আপত্তিকর পোস্ট করেন আমনদীপ।
প্রাক্তন প্রেমিকের বাড়িতে পার্সেল করে গো মাংসও পাঠান আমনদীপ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে প্রেমিকের বোনের ছেলেকে উত্যক্ত করার। অভিজগকারীর পরিবার আদালতে জানান, দিনের পর দিন তাঁরা মানসিক আতঙ্কের মধ্যে কাটিয়েছেন।
আমনদীপ এবং সন্দীপ ডোগরা দু'জনকেই হাজতবাসের শাস্তি দিয়েছে আদালত। আমনদীপের ওপর ৬ মাসের জন্য কারফিউ জারী করা হয়েছে। কারফিউ চলা কালীন তাঁর গতিবিধি নিয়ন্ত্রিত থাকবে।