scorecardresearch

বড় খবর

অর্জুনকে ‘গদ্দার’ বলতে চান না মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু

শুভ্রাংশু এদিন বলেন, তাঁর বাবা বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর রায় পরিবারের সব সদস্যদের ‘গদ্দার’ বলা হয়েছিল। কিন্তু, তিনি চান না, অর্জুন সিং-এর পরিবারের কাউকে ‘গদ্দার’ বলা হোক।

অর্জুনকে ‘গদ্দার’ বলতে চান না মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু
প্রত্যয়ী শুভ্রাংশু মনে করছেন, এবার 'লিড' আরও বাড়বে এবং ২ লক্ষেরও বেশি ভোটে জিতবেন দীনেশ ত্রিবেদী।

মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন ভাটপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিং, কিন্তু তাঁকে ‘গদ্দার’ বলতে চান না মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু রায়। কারণ, “এ ধরনের ভাষায়” বিশ্বাস করেন না শুভ্রাংশু। তবে আক্রমণ না করলেও অর্জুন বিয়োগে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে ব্যারাকপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের যে আদৌ কোনও ক্ষতি হবে না, সে কথা জানিয়ে দিলেন বীজপুরের বিধায়ক। বরং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শুভ্রাংশুর দাবি, এবার আরও ভাল ফল হবে তৃণমূলের।

‘তৃণমূলেই আছি’

সাংবাদিক বৈঠকে এদিন রীতিমতো সংযম দেখিয়েছেন মুকুল-পুত্র। শুভ্রাংশু বলেন, তাঁর বাবা বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর রায় পরিবারের সব সদস্যকে ‘গদ্দার’ বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি চান না অর্জুন সিং-এর পরিবারের কাউকে ‘গদ্দার’ বলা হোক। এরপরই তিনি জানিয়ে দেন, তৃণমূলেই আছেন এবং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য প্রশ্নাতীত। কিন্তু, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব কি তিনি মেনে নেবেন? সাংবাদিকদের পরিবর্তে নিজেই এই প্রশ্ন তোলেন মুকুল-পুত্র, এবং নিজেই এর উত্তর দেন। তিনি জানান, দলনেত্রী যাঁকে নেতা নির্বাচন করে তাঁর কাছে পাঠাবেন, তাঁকেই তিনি নেতা হিসাবে মেনে নেবেন। নেত্রীর প্রতি তিনি কতটা ‘নিবেদিত প্রাণ’, সেকথা বোঝাতে শুভ্রাংশু বলেন, দিলীপ ঘোষ বা সুজন চক্রবর্তীকে নেতা করে পাঠানো হলেও, তিনি তাঁদের হয়েই প্রচার করবেন।

আরও পড়ুন: মা মাটি মানুষ এখন মানি-মানি-মানি, বললেন অর্জুন

অর্জুন বিয়োগ পর্ব

অর্জুন সিং তৃণমূল ছাড়ায় নির্বাচনের ফলাফলে কী প্রভাব পড়বে? শুভ্রাংশুর স্পষ্ট জবাব, ২০১৪ সালে ১ লক্ষ ৭০ হাজার ভোটে জিতেছিলেন দীনেশ ত্রিবেদী। বীজপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তিনি এগিয়ে ছিলেন ৭৮ হাজার ভোটে। প্রত্যয়ী শুভ্রাংশু মনে করছেন, এবার ‘লিড’ আরও বাড়বে, এবং ২ লক্ষেরও বেশি ভোটে জিতবেন দীনেশ ত্রিবেদী। তাহলে কি অর্জুন দল ছাড়ার কোনও প্রভাবই পড়বে না? মুকুল-পুত্রের দাবি, এলাকায় যেটুকু উত্তেজনা ছিল, প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই তা শান্ত হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ, অর্জুন সিং প্রার্থী হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়াতে পারত বলে ইঙ্গিত দিতে চেয়েছেন তিনি।

গত লোকসভা নির্বাচনে অর্জুনের কেন্দ্র ভাটপাড়ায় ৫ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিলেন দীনেশ ত্রিবেদী, সে কথাও এদিন মনে করিয়ে দিয়েছেন শুভ্রাংশু। আর এরপরই তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, এবার ওই কেন্দ্র থেকেও জিতবে তৃণমূল। আর “যাঁর এলাকায় আগে থেকেই পিছিয়ে ছিল দল এবং যিনি চলে গিয়েছেন, তাঁকে নিয়ে কথা বলতে চান না” বীজপুরের বিধায়ক। অর্জুন সিং চলে যাওয়ায় অবাঙালি ভোটে প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও এদিন কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন শুভ্রাংশু। কিন্তু, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কি এলাকা অশান্ত হতে পারে? অশান্তি হবে কি না সে বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য না করে শুভ্রাংশু জানান, “যাই হোক, তৃণমূল জিতবে”।

আরও পড়ুন: মুকুলের মাস্টারস্ট্রোক, বিজেপির রথে অর্জুন

বাবার সঙ্গে যোগাযোগ

এদিন শুভ্রাংশু স্পষ্ট জানান, তাঁর সঙ্গে বাবার নিয়মিত কথা হয়। কিন্তু, সেসব কথা নেহাত ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক। তিনি বাবার শারীরিক কুশল জানতে চান। মুকুল নিয়ম মেনে ওষুধ খাচ্ছেন কি না অথবা ইনসুলিন নিচ্ছেন কি না, সে বিষয়ে খোঁজ নেন ‘পুত্র’ শুভ্রাংশু। তবে, এসব নিছক পিতা-পুত্র সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই নৈকট্য কখনও ছায়া ফেলবে না রাজনীতির ময়দানে, দাবি শুভ্রাংশুর। তাই আসন্ন নির্বাচনে ‘বাবার দলকে’ হারানোর বিষয়ে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী মুকুল-পুত্র।

Stay updated with the latest news headlines and all the latest Politics news download Indian Express Bengali App.

Web Title: Mukul roys son subhrangshu doesnt want to call arjun singh traitor