বড় খবর


বিধায়ক পদে ইস্তফা দিয়েই তৃণমূল সাংসদের বাড়িতে শুভেন্দু, বাড়ল জল্পনা

এ দিন শুভেন্দু-সুনীল সাক্ষাৎ, জিতেন্দ্র তিওয়ারির উপস্থিতি- রাজনৈতিক দিক থেকে বেশ তাৎপর্যবাহী।

শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দু অধিকারী।

বিধায়ক পদ ছেড়ে তৃণমূলেরই আরেক ‘বেসুরো’ সাংসদ সুনীল মণ্ডলের বাড়িতে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। সাংসদের মাতৃবিয়োগের স্মরণসভা অনুষ্ঠানে যোগ দেন শুভেন্দুবাবু। তার আগেই সেখানে যান ‘বিদ্রোহী’ জিতেন্দ্র তিওয়ারি ও দলের নেতা দিপ্তাংশু চৌধুরী। ছিলেন কালনার তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বজিৎ কুণ্ডুও। দিন কয়েক আগেই বর্ধমান পূর্বের তৃণমূল সাংসদ সুনীল মণ্ডলের মুখেও শোনা গিয়েছে দলীয় নেতৃত্বের প্রতি বিরক্তি। শুভেন্দু অধিকারী প্রস্তস্তি করলেও ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরকে তোপ দেগেছিলেন সুনীল মণ্ডল। সেই প্রেক্ষিতে এ দিন শুভেন্দু-সুনীল সাক্ষাৎ, জিতেন্দ্র তিওয়ারির উপস্থিতি- রাজনৈতিক দিক থেকে বেশ তাৎপর্যবাহী।

বুধবার সকাল থেকেই সুলীল মণ্ডলের বাড়িতে বর্ধমান পূর্ব ও পশ্চিমের একাধিক তৃণমূল নেতা, কাউন্সিলার, জেলা পরিষদের সদস্যদের আনাগোনা নজরে পড়েছে। অবশ্যই এর মধ্যে বৃহৎ ও উল্লেখযোগ্য শুভেন্দু অধিকারী। নিতান্ত পারিবারিক অনুষ্ঠান হলেও রাজনীতির চর্চার নানা ইঙ্গিত সেখান থেকে মিলেছে। সেই অনুসারে বলা যায় শুভেন্দুর বিধায়ক পদ ত্যাগের পর আসন্ন ভোটের আগে এই দুই জেলায় তৃণমূলের অস্বস্তি ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার অপেক্ষা।

আরও পড়ুন: তৃণমূল বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা শুভেন্দু অধিকারীর

গুসকরা পুরসভার ‘বিক্ষুব্ধ’ তৃণমূল কাউন্সিলর নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘অনুব্রত মণ্ডলকে ধার দিয়েছিলাম। দলের সবাইকে সেকথা জানিয়েও ছিলাম। কিন্তু ফেরৎ চাইতেই যত ঝামেলা। আমাকে ১৩ দিন জেলে থাকতে হল। দল পুরনোদের সম্মান দেন না। চায় না আমরা দলে থাকি। তাই বাধ্য হয়েই আমরা বিজেপিতে নাম লেখাতে চলেছি।’ প্রকাশ্যে না হলেও জোড়া-ফুল শিবিরের বহু নেতার মনের কথা যে এটাই কান পাতলেই এ দিনের অনুষ্ঠান থেকে সেই আভাস স্পষ্ট।

গত মঙ্গলবার দুর্গাপুরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিধাননগরের বিভিন্ন জায়গায় সুনীল মণ্ডল ও শুভেন্দু অধিকারীর পোস্টার ঘিরে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সেই সময়ই কিছুটা তৃণমূল বিরোধিতা শোনা যায় সাংসদের গলায়। বলেছিলেন, ‘‌পোস্টার লিখতে কাকে বারণ করব? এইসব মানুষের ক্ষোভের প্রকাশ। যে যাকে ভালবাসে তার নামেই পোস্টার পড়ছে।’ শুভেন্দু অধিকারীকেও ‘সাচ্চা অনুগামী’ বলে জানান।

আরও পড়ুন- রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আশঙ্কা, হস্তক্ষেপ চেয়ে রাজ্যপালকে চিঠি শুভেন্দুর

পিকে বাংলার রাজনীতি বোঝেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সুনীল মণ্ডল। তাঁর যুক্তি ছিল, ‘যে পয়সা নিয়ে রাজনীতি করে সে কি রাজনীতি বোঝে?সাংগঠনিক শক্তি যদি কোনও দলে মজবুত না হয় তাহলে সে দল বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না।’

তাহলে কী তৃণমূল ত্যাগের পথে সাংসদ সুনীল মণ্ডল? ইতিমধ্যেই একাধিক বিধায়ক ও সাংসদ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে রীতিমতো বিদ্রোহ করছেন। জল্পনা ছড়িয়েছে কমপক্ষে ৫৫ জন বিধায়ক পর্যায়ক্রমে দল ছাড়তে পারেন। শুধু বিধায়কই নয় ৮ জন সাংসদ দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে চলেছেন বলে জোর চর্চা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা এই তালিকায় নাম থাকতে পারে বর্ধমান পূর্বের তৃণমূল সাংসদের। শুভেন্দু-সুনীল সাক্ষাৎ যেন সেই জল্পনাকেই আরও পোক্ত করল।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা এখন টেলিগ্রামে, পড়তে থাকুন

Web Title: Suvendu adhikari tmc bjp sunil mondal

Next Story
বাংলার পরিস্থিতি কাশ্মীরের থেকেও খারাপ, ইরাক-ইরানের মতো হয়েছে: দিলীপdilip ghosh, দিলীপ ঘোষ
The moderation of comments is automated and not cleared manually by bengali.indianexpress.com