scorecardresearch

বড় খবর

সেজে উঠেছে আলোর শহর চন্দননগর! প্রতিমা থেকে মণ্ডপ সজ্জা, দৈবকপাড়ায় চমকের ছড়াছড়ি

আজ সপ্তমী। জগদ্ধাত্রী পুজো ঘিরে সেজে উঠেছে আলোর শহর চন্দননগর

সেজে উঠেছে আলোর শহর চন্দননগর! প্রতিমা থেকে মণ্ডপ সজ্জা, দৈবকপাড়ায় চমকের ছড়াছড়ি
দৈবকপাড়া সর্বজনীন জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির প্রতিমা- নিজস্ব চিত্র

আলোর শহর চন্দননগর তৈরি তার সর্ববৃহৎ উৎসব জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্য। গোটা শহর ইতিমধ্যেই সেজে উঠেছে আলোর রোশনাইয়ে। কোভিড আতঙ্ক অতীত। ছন্দে ফিরেছে পৃথিবী। উৎসবের আনন্দে তাই আর কোন ঘাটতি রাখতে নারাজ শহরবাসী। গত দু’বছর সেভাবে পজোর আনন্দ চেটেপুটে উপভোগ করতে পারেননি শহরবাসী। তাই চলতি বছর উৎসবের সবটুকু আমেজ পরতে পরতে উপভোগ করতে চাইছে চন্দননগর।

শুক্রবার বিকেলে চন্দননগর জগদ্ধাত্রী পুজোর গাইড ম্যাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। চন্দননগর স্ট্যান্ডে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, পুলিশ কমিশনার অমিত পি জাভালগি, জেলাশাসক পি দিপাপ প্রিয়া, মেয়র রাম চক্রবর্তী। সাদা পায়রা এবং বেলুন উড়িয়ে জগদ্ধাত্রী পুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

চন্দননগর সেন্ট্রাল জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির অধীনে মোট পুজোর সংখ্যা ১৭১ টি। এছাড়াও এর বাইরে বেশ কিছু পুজো অনুষ্ঠিত হয়। সব মিলিয়ে চন্দননগরে কমবেশি প্রায় ২৫০ পুজো হয়। আলোক সজ্জা থেকে প্রতিমা সবেতেই এক অন্যকে টেক্কা দিতে তৈরি। প্রতিটি বারোয়ারির প্রতিমা-মণ্ডপ সহ আলোক সজ্জা একেবারেই ভিন্ন।

তবে এসবের মাঝেও নজর কেড়েছে দৈবকপাড়া সর্বজনীন জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটি। এবারের পুজো পা দিয়েছে ৫০ বছরে। থিম ভাবনা থেকে প্রতিমা সজ্জা সবেতেই রয়েছে চমকের ছড়াছড়ি। পঞ্চমী থেকেই মণ্ডপের দখল নিয়েছে দর্শনার্থীরা। কলকাতার পুজোর রেওয়াজ মেনেই পঞ্চমী থেকে মণ্ডপে মণ্ডপে উপচে পড়ছে ভিড়। প্রতিবছরই দৈবকপাড়া সর্বজনীন জগদ্ধাত্রী  পুজোয় জগদ্ধাত্রী প্রতিমার মুখ বদল হয়। সম্পূর্ণ প্রতিমা তৈরি হয় হাতেই।

হাটখোলা দৈবকপাড়ার এই বছরের থিম “উদযাপন”। জ্বালানি কাঠ কেটে তৈরি করা হচ্ছে মণ্ডপ। উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে স্টিল, প্লাই, কাপড় ও সুতো। মন্ডপ, প্রতিমার পাশাপাশি আলোকসজ্জাতেও থাকছে নতুন চমক। মণ্ডপ সজ্জার দায়িত্বে শিল্পী বিমল সামন্ত।

আরও পড়ুন: [ রেল কোচকে বদলে ফেলা হল রেস্তোরাঁয়! ঘরের কাছেই জিভে জল আনা খাবার খেতে যাচ্ছেন তো? ]

তাঁর কথায়, “এমন একটা সময়ে আমরা এসেছে যেখানে ৪৯ বছর পার করে ৫০ তম বর্ষে সেলিব্রেশনে মেতেছি আমরা সবাই। তাই এবারের পুজোর থিম উদযাপন, মণ্ডপ সজ্জাতেও রয়েছে চমক। কাছেই আমবাগান থেকে আমডালকে কেটে মণ্ডপ সজ্জা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ব্যবহার করা হয়েছে স্টিল, প্লাই, কাপড় ও সুতো। এমন ভাবেই মণ্ডপ সজ্জা তৈরি করা হয়েছে যা দর্শনার্থীদের মন ছুঁয়ে যাবে। একই সঙ্গে আলোক সজ্জার ক্ষেত্রেও থাকছে নতুনত্বের ছোঁয়া। আশা করি এবারে আমাদের এই পুজো সকলেরই ভাল লাগবে”।

গোটা চন্দননগর জুড়েই উৎসবে মেতে উঠেছে শহরবাসী। পাশেই মানকুণ্ডু, ভদ্রেশ্বরে বেশ কয়েকটি পুজো কমিটি অন্যান্য বছরের মতই সাড়ম্বরে পালন করছে তাদের পুজো। তার মধ্যে রয়েছে মানকুণ্ডু স্পোর্টিং ক্লাব, নতুনপাড়া, ভদ্রেশ্বর তেঁতুল তলা। কোভিড পর্ব মিটতেই যেভাবে দুর্গাপুজোয় মানুষজন গা ভাসিয়েছেন তা দেখে প্রশাসনের অনুমান চলতি বছর পুজোয় ৫ লাখের বেশি দর্শনার্থী ভিড় করবেন আলোর শহরে।

পুজো উপলক্ষে ঢেলে সাজানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সাদা পোশাকের পুলিশ কর্মী এবং মহিলা পুলিশ কর্মী মোতায়েত থাকছে শহর জুড়ে। পাশাপাশি বাইকে করেও চলবে নজরদারি। পুজো মণ্ডপ এবং সংলগ্ন এলাকায় পাঁচশোর বেশি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। নজরদারি চালানো হবে ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে। ২৪ ঘন্টায় খোলা থাকবে কন্ট্রোল রুম।

Stay updated with the latest news headlines and all the latest Westbengal news download Indian Express Bengali App.

Web Title: Chandannagore is ready to celebrate jagadhtari puja after covid outbreak