/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2020/04/India-coronavirus-759.jpg)
প্রতীকী ছবি।
বাংলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্য়া ৫০০ পেরোল। এই মুহূর্তে রাজ্য়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫০৪ জন। বাংলায় করোনা-মুক্ত হয়েছেন ১০৯ জন, করোনায় মৃত্য়ু হয়েছে ২০ জনের। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই জানালেন মুখ্য়সচিব রাজীব সিনহা। এদিন, মুখ্য়সচিব আরও জানিয়েছেন, ''আমাদের পজিটিভ কনফার্মেশন রেট ৫.৪ শতাংশ, আমাদের রিকভারি রেট ১৮ শতাংশ। রাজ্য়ে ডাবলিংয়ের হার ৬ দিন থেকে ৯ দিনে পৌঁছেছি''।
এদিন মুখ্য়সচিব আরও জানিয়েছেন, ''পূর্ব মেদিনীপুরে ৮টি কনটেনমেন্ট জোন করা হয়েছে। এর মধ্য়ে ৫ টি জোন থেকে গত ৯ এপ্রিল থেকে কোনও কেস আসেনি। ২১ দিন হলে আমরা শিথিল করব কিছুটা। উত্তর ২৪ পরগনায় ৫৭টা কনটেনমেন্ট জোন রয়েছে, এর মধ্য়ে ১৩টি জোন থেকে কোনও কেস হয়নি গত ২ সপ্তাহে। কলকাতায় ২২৭টি কনটেনমেন্ট জোন রয়েছে, এর মধ্য়ে ১৮টি জোন থেকে কোনও কেস হয়নি গত ২ সপ্তাহে। হাওড়ায় ৫৬টি কনটেনমেন্ট জোন রয়েছে, ১৩টি জোন থেকে গত ২ সপ্তাহে কেস হয়নি''।
লকডাউনের জেরে দেশের নানা প্রান্তে বাংলার বহু মানুষ আটকে পড়েছেন। তাঁদের ফেরাতে যথাসম্ভব চেষ্টা করবে রাজ্য সরকার। সোমবার টুইটে এমনই আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে, লকডাউনে ভিন রাজ্যে আটকে পড়া বাংলার পরিয়ায়ী শ্রমিকদের সহায়তার কথাও জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সাহায্য করেছেন এই পরিস্থিতিতে আটকে পড়া পর্যটকদেরও।
আরও পড়ুন: হাওড়ায় বজ্রআঁটুনি, ৪ থানা এলাকা সম্পূর্ণ বন্ধ
করোনা সংক্রমণ রুখতে সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য হাওড়া, শিবপুর, গোলাবাড়ি ও মালিপাঁচঘড়া এই চার থানা এলাকাকে সম্পূর্ণ লকডাউনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাওড়ার ডিসি (সদর) প্রিয়ব্রত রায়। তিনি বলেন, “এই এলাকাগুলিতে একমাত্র ওষুধের দোকান খোলা থাকবে। আর খাদ্যদ্রব্য-সহ প্রয়োজনীয় সমস্ত কিছুই বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। যে সব ওষুধের ক্ষেত্রে প্রেসক্রিপশন লাগে কেবল সেগুলি কিনতেই দোকানে যাওয়া যাবে। এলাকায় হোম ডেলিভারির জন্যে স্থানীয় ক্লাব থেকে স্বেচ্ছাসেবক চাওয়া হয়েছে”।
আরও পড়ুন: কোটায় আটকে থাকা বাংলার পড়ুয়াদের ফেরাবে রাজ্য: মুখ্যমন্ত্রী
এদিকে, করোনা পরিস্থিতিতে শাসক-বিরোধী সংঘাতে সরগরম রাজ্য় রাজনীতি। করোনা অতিমারীতে বাংলাকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রবিবার এমন সুরেই তৃণমূল সুপ্রিমোকে বিঁধলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বলেন, রাজ্যকে এই করোনাভাইরাস থেকে বাঁচাতে হলে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে করোনা সম্পর্কে প্রচার চালাচ্ছেন তার বিরোধিতা করা দরকার।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী আজ সকাল পর্যন্ত ভারতে করোনা পজেটিভের সংখ্যা মোট ২৭ হাজার ৮৯২। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬ হাজার ১৮৫ জন। দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৮৭২ জনের। দেশের করোনা হটস্পটগুলিতে লকডাউন বাড়বে। যেসব জেলায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ হয়নি সেগুলিতে লকডাউন শিথিল হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীদের ভিডিয়ো বৈঠকে এমন সিদ্ধান্তই হতে চলেছে বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা এখন টেলিগ্রামে, পড়তে থাকুন