/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2020/05/amphan-lead-1.jpg)
আমফান বিপর্যস্ত রাজ্যে মৃত্যু সংখ্যা ছুঁল ৮৬। এদিকে কলকাতার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে চলেছে গাছ কাটার কাজ। ঝড়ের দাপটে বিদ্যুতের খুঁটি উপরে শহরের একাধিক জায়গায় এখনও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
আমফান সরে গেলেও শনিবারে রাজ্যে রয়েছে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস। মৌসম ভবনের তরফে জানান হয়েছে শুক্রবারই নিজের শক্তিক্ষয় করে নিন্মচাপে পরিণত হয়েছে সুপার সাইক্লোন আমফান। এই মুহুর্তে পড়শি বাংলাদেশের উপর অবস্থান করছে। মৌসম ভবনের একটি বিবৃতিতে জানান হয়েছে যে, "আগামী ১২ ঘন্টায় আরও উত্তর এবং উত্তরপূর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ক্রমশই দুর্বল হয়ে নিম্মচাপে পরিণত হবে আমফান।"
শুক্রবারই মমতার অনুরোধের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আমফান বিধ্বস্ত বাংলা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড বাংলার পাশে দাঁড়িয়ে হাজার কোটির অর্থ সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সুপার সাইক্লোনে মৃতদের পরিজনদের ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মোদী।
ইতিমধ্যে, আমফান বিধ্বস্ত ভারতের রাজ্যগুলির ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পাঁচ লক্ষ ইউরো সাহায্য করার কথা ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সেখানের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের কমিশনার জেনেজ লেনারিক এক বিবৃতিতে বলেন, " ঘূর্ণিঝড় দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এবং তাদের প্রয়োজনীয় সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মহামারী থেকে আক্রান্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"
শুক্রবার কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় আমফান ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে ব্যাহত বিদ্যুৎ এবং জল সরবরাহ অবিলম্বে চালু করার দাবিতে বিক্ষোভ দেখান শহরবাসী। বুধবার আমফানের তাণ্ডবলীলায় ধ্বংস হয়ে যায় রাজ্যের বহু অংশ, ভেঙে পড়ে অগণিত গাছ এবং ইলেকট্রিকের খুঁটি। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম আশ্বাস দিয়েছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারবে কলকাতা, কারণ দিনরাত এক করে কাজ করছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে ফের মুখ খুললেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। শুক্রবার তিনি বলেছেন, কোনোরকম ‘অনিয়ম’ যাতে না হয়, তাই ঘূর্ণিঝড় আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের টাকা সরাসরি পাঠিয়ে দেওয়া হোক তাঁদের অ্যাকাউন্টে।এদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে আমফান জনিত ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করে ঘোষণা করেন, অগ্রিম সাহায্য হিসেবে ১,০০০ কোটি টাকা রাজ্যকে প্রদান করবে কেন্দ্র, এবং ঘূর্ণিঝড়ে মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, এর আগে রাজ্য সরকারের তরফে ঘোষণা করে হয়েছিল যে মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২.৫ লক্ষ টাকা, এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। মোদীর ঘোষণার পরেই তাঁর মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ।
সুপার সাইক্লোনের তাণ্ডবলীলায় লন্ডভন্ড বাংলা। এই বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে বাংলার মুখ্য়মন্ত্রীকে ফোন করলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। মহা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে রাজ্যের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে মমতার কাছে খোঁজখবর নেন রাষ্ট্রপতি। বঙ্গবাসীর খোঁজ নেওয়ায় টুইটারে রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মমতা। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।
/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2020/05/11438mamata-kovind-hasina-759.jpg)
অন্যদিকে, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যাইয়ের নেতৃত্বে বাংলা লড়ছে’, বাংলায় এসে শুক্রবার এ ভাষাতেই মমতার দরাজ প্রশংসা করেছেন মোদী। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ”আমরা একদিকে অতিমারীর বিরুদ্ধে লড়াই করছি, আবার ঘূর্ণিঝড়ে বিপর্যয় হয়েছে…আমরা চাই বাংলা এগিয়ে চলুক। কেন্দ্র বরাবর পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে রয়েছে। এই পরিস্থিতি ছাড়া বাংলা ভালভাবে লড়াই করছে। এই কঠিন সময়ে আমরা বাংলার পাশে রয়েছি”।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us
সুপার সাইক্লোন আমফানের প্রকোপে ছারখার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকা। নেই বিদ্যুৎ-জলের ব্যবস্থা। গাছ পড়ে যোগাযোগ বিছিন্ন হয়েছে বহু এলাকায়। শহরের একাংশে বাড়ছে বিক্ষোভ। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যেকে স্বাভাবিক করতে এবার সেনা সাহায্য চাইল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।শনিবার টুইটে স্বরাষ্ট্রদফতরের পক্ষ থেকে জানা হয় যে, পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করার জন্য সেনা সমর্থন চাইছে বাংলা।
ঘূর্ণিঝড় আমফানে বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন ঘিরে শাসক-বিরোধী সংঘাতে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি। শনিবার ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। যা ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায় গড়িয়ার কাছে ঢালাই ব্রিজ এলাকায়। পুলিশ ও বিজেপি কর্মীদের মধ্য়ে বচসা বেধে যায়। পুলিশি বাধার প্রেক্ষিতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন দিলীপ। বিজেপি সভাপতির বিরুদ্ধে পাল্টা তোপ দেগেছেন তৃণমূলের ফিরহাদ হাকিম।
ভারতের ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় আমফানের জেরে প্রাণহানির ঘটনায় এবার শোকপ্রকাশ রাষ্ট্রসংঘ প্রধান আন্তোনিও গুতেরেসের। কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম কোনও ঘূর্ণিঝড় স্থলভাগে এমন দাপট দেখাতে সক্ষম হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে বাংলায় মৃত্যু হয়েছে ৮৬ জনের। ১০ লক্ষেরও বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। বাংলাদেশেও মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের। তছনছ হয়েছে সেখানকার উপকূল। শুক্রবার গুতারেস টুইটারে প্রাণহানির ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতি প্রকাশের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
এক্সপ্রেস ফোটো
আমফানে ধ্বস্ত পশ্চিমবঙ্গ। বাড়ছে মৃত্যুও। শুক্রবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাকে আমফান পরবর্তী পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করতে ইতিমধ্যেই পুনের ফিফথ ব্যাটেলিয়ন জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলার দুই দল আসছে বাংলায়। এয়ার ফোর্সের বিমানে করে উড়িয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে তাঁদের। ব্যাটালিয়নের এক অফিসার জানিয়েছেন, দু'টি এনডিআরএফ দল নিয়ে আস বিমানটি পুনের লোহগাঁও বিমানবাহিনী ঘাঁটি থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছ'টায় ছেড়েছিল এবং কলকাতায় অবতরণের পরে আমফান বিধ্বস্ত অঞ্চলে তাঁদের মোতায়েন করা হবে।
একে করোনা আতঙ্কের হিমসিম অবস্থা। তার মাঝেই আমফান ধাক্কা। বিপর্যস্ত দক্ষিণবঙ্গ। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেরবার রাজ্য প্রশাসন। দুর্গতদের সাহায্যের কাজে ব্যস্ত সরকারি কর্মীরা। এই অবস্থায় এ রাজ্যে আগামী ২৬ মে পর্যন্ত শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন প্রবেশ বন্ধ রাখার আর্জি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই রেলকে চিঠি দিয়ে এই আবেদন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসাবেই আমফান পরবর্তী সময়ে আগামী কয়েকদিন এ রাজ্যে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন প্রবেশ করাতে রাজি নন মুখ্যমন্ত্রী। কী জানিয়েছেন মমতা?/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2020/05/98802mamata-1-3.jpg)
বুধবারই শহরে আঘাত হেনেছে সুপার সাইক্লোন আমফান। আর সেই ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে এবার রাজ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮৬, এমনটাই সূত্রের খবর। আজ ঘূর্ণিঝড় আমফানে বিপর্যস্ত দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আমফান বিপর্যস্ত কলকাতার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে চলেছে গাছ কাটার কাজ। ঝড়ের দাপটে বিদ্যুতের খুঁটি উপরে শহরের একাধিক জায়গায় এখনও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। বেহালা, টালিগঞ্জ ও যাদবপুর অঞ্চলে যেখানে সিইএসসি ওভারহেড তারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে সেখানে এখনও অবস্থার উন্নতি হয়নি। সিইএসসি-এর তরফে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে আরও দুই দিন সময় লাগবে তাঁদের। পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেছেন, "যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ করার কাজ চলছে। আমি প্রত্যেকের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখছি।" বালিগঞ্জের ম্যান্ডেভিল গার্ডেন অ্যাপার্টমেন্টে দু'দিন যাবৎ জল না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন সেখানকার বাসিন্দারা। পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সেখানে গিয়ে আবাসিকদের সবরকম সহায়তার আশ্বাস দেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়।