scorecardresearch

বড় খবর

‘পুরো খড়্গপুর এখন তৃণমূল বিরোধী’, বিস্ফোরক দাবি পদত্যাগী পুর-চেয়ারম্যান প্রদীপের

‘এখানে বিজেপির হয়ে প্রার্থী হলে চোখ বন্ধ করে ৪০ হাজার ভোটে জিততাম। কিন্তু আমি দল ছাড়িনি। দলের দুর্দিনেও থেকেছি, দলের সুদিনেও থেকেছি। কী আর বলব এটুকু সম্মান আশা করেছিলাম।’

‘পুরো খড়্গপুর এখন তৃণমূল বিরোধী’, বিস্ফোরক দাবি পদত্যাগী পুর-চেয়ারম্যান প্রদীপের
খড়্গপুর পদত্যাগী পুর-চেয়ারম্যান প্রদীপ সরকার।

বিজেপির তৎকালীন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সাংসদ নির্বাচিত হয়ে খড়্গপুরের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। ওই আসনের উপনির্বাচনে জয় পেয়ে প্রথমবারের জন্য খড়্গপুরে বিধায়ক পায় তৃণমূল কংগ্রেস। বিধায়ক হন প্রদীপ সরকার। তিনিই খড়্গপুর পুরসভার চেয়ারম্যানও। দলের নির্দেশে বুধবার এসডিওর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন প্রদীপ সরকার। সঙ্গে ছিলেন প্রায় ২ হাজার কর্মী-সমর্থক। দলের নির্দেশে হতবাক প্রদীপ সরকার একান্তে কথা বললেন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলার সঙ্গে।

প্রশ্ন- পদত্যাগ করলেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে। কি বলবেন?

প্রদীপ সরকার- খড়্গপুরের ১৮ জন কাউন্সিলর স্বাক্ষর করতে পারে আমার বিরুদ্ধে, কিন্তু খড়্গপুরের মানুষ আমার বিপক্ষে নয় এটা প্রমান হয়ে গিয়েছে। গতকাল পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সময়ও আমার সঙ্গে দুহাজার মানুষ পায়ে হেঁটে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে তা বিরল। লোকে পদত্যাগ দিতে যায় লুকিয়ে, আমি প্রকাশ্যে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছি। যেমন মনোনয়নপত্র নির্বাচনে দিতে যাই ঠিক তেমন ভাবে কর্মীরা আমার সঙ্গে গিয়েছে। এই বার্তা দিতে গিয়েছে হতে পারে একটা কাউন্সিলর টাকার বিনিময়ে বা কোথাও চাপের কাছে সই করতে পারে কিন্তু খড়্গপুরের মানুষ প্রদীপ সরকারের সঙ্গে আছে, তৃণমূলের সঙ্গে আছে।

প্রশ্ন- সমস্যার উৎস কোথায়?

প্রদীপ সরকার- সমস্যা হল কিছু কাউন্সিলর নতুন হয়েছে যাঁরা কোনও দিন তৃণমূল করেনি। এসসি বা আই প্যাক যোগ অর্থাৎ কোনও কারণে টিকিট পেয়েছে। তাঁরা ভেবেছিল এটা একটা ব্যবসা বা রোজগারের জায়গা। ভেবেছিল পরের মাস থেকে ৫০ হাজার বা ১ লক্ষ টাকা করে রোজগার হবে। খরচ করেছিল ৫-১০ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে পঞ্চম অর্থ কমিশনের টাকা ঠিক সময় মতো পাচ্ছি না। এরা ভেবেছিল লক্ষ লক্ষ টাকা আসবে আর লক্ষ লক্ষ টাকা রোজগার হবে। এবার টাকা না এলে আমি তো টাকা দিতে পারব না। আমি যেটুকু পেরেছি করেছি।

প্রশ্ন- খড়্গপুরের মানুষ কি বলছে?

প্রদীপ সরকার- ৬ মাসের মধ্যে দিদির নির্দেশে দুর্গাপুজো কার্নিভাল, ছটপুজো, দশেরা উৎসব পালন হয়েছে। খড়্গপুর সাজিয়ে তুলেছি। বিরোধী বিজেপি এত স্ট্রং তবু আমার বিরুদ্ধে একটা ডেপুটেশন দিতেও ভয় পায় যে প্রদীপের বিরুদ্ধে কী বলব। দিলীপ ঘোষ-হিরন থাকা সত্বেও সেই জায়গায় আমার কিছু কাউন্সিলর আমি জয়েনিং করিয়েছি, টিকিট দিয়েছি, তাঁরা কোনও চাপ বা অর্থের প্রলোভনে সই করে দিল। কলকাতা কি ভাবল এই ১৮ জন সই করেছে মানে আমার বিরুদ্ধে নো কনফিডেন্স জানাচ্ছে। আমার নৈতিক ভাবে থাকা উচিত নয়। এজন্য আমি পদত্যাগ করতে নিজেই ইচ্ছুক ছিলাম। খড়্গপুরের মানুষ তো এটাকে মেনে নিচ্ছে না। বর্তমানে পুরো খড়্গপুর বিরোধী হয়ে গেল তৃণমূলের। সবাই ক্ষেপে লাল। এসডিও কি করবেন জানি না।

প্রশ্ন- হঠাৎ পটপরিবর্তন…..

প্রদীপ সরকার- পয়সাই জীবনে সব হয়ে যাচ্ছে। ইচ্ছা করে একটা ভাল লোককে সরিয়ে দেওয়া হল। খবর নিলে জানতে পারবেন যে অন্যায় ভাবে সরানো হল তাতে পুলিশের একাংশেরও ভূমিকা আছে। খারাপ লাগে। আজ আমি ঘরে বসে বিধায়ক হতে পারতাম। বিজেপি সরাসরি আমাকে বিধানসভায় প্রার্থী হতে অফার দিয়েছিল। এখানে বিজেপির হয়ে প্রার্থী হলে চোখ বন্ধ করে ৪০ হাজার ভোটে জিততাম। কিন্তু আমি দল ছাড়িনি। দলের দুর্দিনেও থেকেছি, দলের সুদিনেও থেকেছি। কী আর বলব এটুকু সম্মান আশা করেছিলাম।

প্রশ্ন- মূলত কজন কাউন্সিলর আছেন এই ঘটনার পিছনে?

প্রদীপ সরকার- ওরা তো কখনও তৃণমূল করেনি। তৃণমূলের ভাবমূর্তি বুঝবে কি করে? এমন ৬-৭ জন কাউন্সিলর রয়েছেন।

প্রশ্ন- জেলা নেতৃত্ব বা কলকাতার শীর্ষ নেতৃত্ব কোনও তদন্ত করেছে?

প্রদীপ সরকার- আমি তো সেটাই বলেছিলাম। দল তদন্ত করুক। তদন্তে দল যদি দেখে আমি দোষী আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। যদি দেখে ওরা দোষী ওদেরকে বলা হোক। দল তদন্ত করলে ভাল হত। কেন করল না আমি জানি না।

প্রশ্ন- আপনার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ কি?

প্রদীপ সরকার- পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এমন ধরনের জিনিস হল। আমাকে তো বলতে পারছে না কী কারণে আমাকে পদত্যাগ করতে হবে। আমার তো কাজ না করার কোনও অভিযোগ বা আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনও অভিযোগ নেই। মানুষের সঙ্গে ব্যবহারও খারাপ করিনি। ৮ বছর পুরসভা চালালাম কি এমন হয়ে গেল ২ মাসে ওই কাউন্সিলর বুঝে গেল আমি খারাপ। চক্রান্ত তো হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রে অনেক লোক যুক্ত আছে। দল আমাকে পুরপ্রধান করেছে, দল আমাকে পদত্যাগ করতে বলেছে। আমি দিয়েছি।

প্রশ্ন- দলের সঙ্গেই থাকবেন?

প্রদীপ সরকার- অবশ্যই। একজন কর্মী হিসাবে কাজ করব।

প্রশ্ন- খড়্গপুরের মতো জায়গায় বিজেপি এই ঘটনায় অ্যাডভান্টেজ পাবে তো?

প্রদীপ সরকার- অনেক অনেক অ্যাডভান্টেজ হয়ে গেল। এটা দেখে কাল মেদিনীপুরে অনাস্থা এনে চিঠি দিয়েছে। এটা দেখে অন্যত্র ঘটবে। এটাই তো আমি চাইছিলাম না। এমন কিছু হয়নি যে আমাকে পদত্যাগ করতে হবে। বসেও মিটিয়ে নেওয়া যেত। একজন কাউন্সিলর বলছেন টাকা পাচ্ছি না। কাজ করতে পারছি না। সরকার না দিলে আমি কোথা থেকে টাকা এনে দেব। সবাই যদি বিক্রি হয়ে যায় আমি কি করতে পারি।

প্রশ্ন- চক্রান্তকারীদের চিহ্নিত করবেন না?

প্রদীপ সরকার- আমি কি করব? দল করবে। দলের যদি মনে হয় প্রদীপ সরকারকে দরকার। দল ঠিকই কাজে লাগাবে। আর যদি মনে হয় দরকার নেই। কাজে লাগাবে না। আমি সবটাই দলের ওপর ছেড়ে দিয়েছি।

Stay updated with the latest news headlines and all the latest Westbengal news download Indian Express Bengali App.

Web Title: Kharagpurs resigned municipality chairman pradeep sarkars interview