Dilip Kumar: রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পেশোয়ার সফর, 'ভারতের আনুগত্যের প্রমাণ' কার্গিল যুদ্ধে কাকে ফোন করেছিলেন দিলীপ কুমার?

পাকিস্তানের সঙ্গে দিলীপ কুমারের সম্পর্ক বিভিন্ন সময়ে আলোচিত হয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার মাঝেও দিলীপ কুমার শান্তি, মানবিকতা এবং সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনের প্রতীক হয়ে থাকেন।

পাকিস্তানের সঙ্গে দিলীপ কুমারের সম্পর্ক বিভিন্ন সময়ে আলোচিত হয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার মাঝেও দিলীপ কুমার শান্তি, মানবিকতা এবং সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনের প্রতীক হয়ে থাকেন।

author-image
IE Bangla Entertainment Desk
New Update
dilip-kumar-3

কেন তাঁকে ভারত ছাড়তে বলা হয়?

হিন্দি সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমার কেবল অসামান্য অভিনয়-গুণের জন্যই নয়, বরং তাঁর মানবিকতা এবং সমাজসেবার কাজের জন্যও সমানভাবে প্রশংসিত ছিলেন। পাকিস্তানে জন্ম নেওয়ায় তিনি দুই দেশেই সমান শ্রদ্ধা পেয়েছেন। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময় তাঁর সেই মর্যাদা বড় ভূমিকা নেয়। সে বছর কার্গিল সংঘাত শুরু হলে তিনি শান্তি ফিরিয়ে আনতে ব্যক্তিগত উদ্যোগ নেন।

Advertisment

পাকিস্তানের প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খুরশিদ কাসুরির আত্মজীবনীতে উল্লেখ রয়েছে, কার্গিল যুদ্ধ চলাকালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী নওয়াজ শরিফকে জরুরি ফোন করেন। কথোপকথনের শেষদিকে দিলীপ কুমারও, শরিফের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান-ভারত দ্বন্দ্ব বাড়লে ভারতে বসবাসকারী মুসলিমরা নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন, তাই পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানান। এই আলোচনার পর কিছুদিন উত্তেজনা কমলেও, যুদ্ধ আরও তিন মাস চলেছিল।

Govindaa-Sunita Ahuja: ৬৩ বছর বয়সে নতুন বিতর্ক! গোবিন্দার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক স্ত্রী সুনিতা, কোন অভিনেত্রীতে আসক্ত অভিনেতা?

এই প্রথম নয়, পাকিস্তানের সঙ্গে দিলীপ কুমারের সম্পর্ক বিভিন্ন সময়ে আলোচিত হয়েছে। দেশভাগের পর তাঁর বাবা পরিবারকে পেশোয়ারে ফেরানোর কথা ভাবলেও, দিলীপ পরিষ্কার জানিয়ে দেন- “ভারতেই থাকব, ভারতেই মরব।” পরে ১৯৮৮ সালে পেশোয়ারের প্রথম ব্লাড ব্যাংকের উদ্বোধনে, তিনি বিশেষ অতিথি হিসেবে যান। পাকিস্তান সরকার তাঁর সফরকে, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় উন্নীত করায় আন্তর্জাতিক মহলে শিরোনাম তৈরি হয়।

তবে ১৯৯৮ সালে পাকিস্তান তাঁর হাতে ‘নিশান-ই-ইমতিয়াজ’ সম্মান তুলে দিলে, ভারতীয় রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়। শিবসেনা প্রধান বাল ঠাকরে সরাসরি বলেন- দিলীপের পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়া উচিত বা পাকিস্তানে চলে যাওয়া উচিত। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দিলীপ জানান, “৬৫ বছর ভারতে থাকার পরও আমাকে আনুগত্য প্রমাণ করতে বলা অপমানজনক।” বাজপেয়ী তাঁকে পুরস্কার রেখে দেওয়ার পরামর্শ দেন, এমনকি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এও বলছিলেন, “আপনি একজন শিল্পী, সীমানার ঊর্ধ্বে।” পেশোয়ারে তাঁর শৈশবের বাড়িটি আজও সংরক্ষিত স্মৃতিসৌধ। ২০২৫ সালে এটি জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব ওঠে।

Dev Viral Video: স্টেজের নিচে বসেই কেঁদে ফেললেন তরুণী, দেবের ভাইরাল ভিডিওতে উন্মাদনা চরমে

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার মাঝেও দিলীপ কুমার শান্তি, মানবিকতা এবং সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনের প্রতীক হয়ে থাকেন। ২০২১ সালে ৯৮ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হলেও তাঁর উত্তরাধিকারের মূল্য আজও অমলিন।

india pakistan Dilip Kumar