Bankey Bihari Temple Dispute: ফের গন্ডগোল, কেন আদালতে ফিরল বৃন্দাবনের বাঁকেবিহারীজি মহারাজ মন্দির মামলা

Bankey Bihari Temple Dispute: বাঁকেবিহারী জি মহারাজ মন্দিরের পরিচালন কমিটির ভূমিকা নিয়ে কেন আবার সুপ্রিম কোর্টে মামলা? সংবিধানের কোন ধারায় উঠছে প্রশ্ন, জানুন পুরোটা।

Bankey Bihari Temple Dispute: বাঁকেবিহারী জি মহারাজ মন্দিরের পরিচালন কমিটির ভূমিকা নিয়ে কেন আবার সুপ্রিম কোর্টে মামলা? সংবিধানের কোন ধারায় উঠছে প্রশ্ন, জানুন পুরোটা।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Bankey Bihari Temple Dispute: বাঁকে বিহারি মন্দিরের সমস্যা ফের আদালতে।

Bankey Bihari Temple Dispute: বাঁকে বিহারি মন্দিরের সমস্যা ফের আদালতে।

Bankey Bihari Temple Dispute: বৃন্দাবনের শ্রীবাঁকেবিহারী জি মহারাজ মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, উত্তর ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক কেন্দ্র। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম ঘটে এই মন্দিরে। সেই মন্দিরের পরিচালনা ও ধর্মীয় রীতিনীতি ঘিরে যে দীর্ঘদিনের আইনি বিতর্ক, তা আবার নতুন করে আদালতের দরজায় পৌঁছেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত অন্তর্বর্তী মন্দির পরিচালন কমিটির ক্ষমতার সীমা নিয়েই এবার উঠেছে প্রশ্ন।

Advertisment

মন্দিরের ঐতিহ্য

এই মন্দিরের পরিচালনার ঐতিহ্য প্রায় পাঁচ শতাব্দী পুরনো। ষোড়শ শতক থেকে গোস্বামী বা সেবায়েতরাই বংশানুক্রমে মন্দিরের পূজা, ব্যবস্থাপনা ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বর্তমান মন্দির কাঠামো নির্মিত হয় এবং সেই সময় থেকেই গোস্বামীদের অধিকার আদালত স্বীকৃত একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। ১৯৩৯ সালের আদালত অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গোস্বামিদের নিয়ন্ত্রণেই মন্দির দীর্ঘদিন পরিচালিত হয়েছে।

আরও পড়ুন- নামেই উন্নত দেশ, এখন কি জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের বড় ঘাঁটি অস্ট্রেলিয়া?

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মতবিরোধ ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। ২০০৪ সালে মন্দিরকে একটি স্বায়ত্তশাসিত পাবলিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ঘোষণার চেষ্টা করা হলেও, ২০১০ সালে সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর ২০১৬ সাল থেকে মন্দির পরিচালনা নিয়ে ফের আইনি জটিলতা শুরু হয়। কার্যত দীর্ঘ সময় ধরে আদালতের নিযুক্ত বা অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার মাধ্যমে মন্দির চলতে থাকে।

আরও পড়ুন- ইন্টারনেট থামেনি এক মুহূর্তও! ২০২৫ সালের সবচেয়ে ভাইরাল ১০ মুহূর্ত, যা গোটা বিশ্বকে নড়িয়ে দিয়েছে

২০২২ সালে জনসমাগম ও নিরাপত্তা বড় ইস্যু হয়ে ওঠে। জন্মাষ্টমীর সময় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর প্রশাসনিক ব্যবস্থার অভাব সামনে আসে। এই প্রেক্ষিতে জনস্বার্থ মামলা হয় এবং মন্দির ও তার আশপাশের এলাকা উন্নয়নের বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। তবে মন্দিরের দেবতার নামে থাকা বিপুল অর্থ ব্যবহারের প্রশ্নে আদালত স্পষ্টভাবে সীমারেখা টেনে দিয়েছিল।

আরও পড়ুন- শরীর দিচ্ছে সতর্কতা! এই ৬ লক্ষণ অবহেলা করলে বাড়তে পারে থাইরয়েডের সমস্যা!

২০২৩ এবং ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট একাধিক আদেশের মাধ্যমে আগের অবস্থান পুনর্বহাল করে এবং স্পষ্ট করে দেয় যে বাঁকেবিহারী মন্দিরের প্রশাসন অন্য কোনও মামলার সঙ্গে গুলিয়ে দেখা যাবে না। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারের আনা আইন ও অধ্যাদেশের কিছু অংশ স্থগিত করা হয়। এই পটভূমিতেই আদালত নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার স্বার্থে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অন্তর্বর্তী মন্দির পরিচালন কমিটি গঠন করে। আদালত তখনই জানিয়ে দেয়, ধর্মীয় আচার ও রীতি গোস্বামিদের হাতেই থাকবে।

আরও পড়ুন- বরফে জমিয়ে রাখা কোন খাবারগুলো ক্ষতি করছে আপনার শরীরের?

কিন্তু সমস্যা শুরু হয় এই কমিটির কার্যপদ্ধতি নিয়ে। সাম্প্রতিক রিট আবেদনে বলা হয়েছে, কমিটি তার প্রশাসনিক সীমা ছাড়িয়ে ধর্মীয় বিষয়েও হস্তক্ষেপ করছে। বিশেষ করে গোস্বামি প্রতিনিধিদের মনোনয়ন পদ্ধতি, দর্শনের সময় বাড়ানো, নির্দিষ্ট সিঁড়ি ও প্রবেশপথ বন্ধ করার মতো সিদ্ধান্তগুলিকে ধর্মীয় আচারে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আবেদনকারীদের দাবি, এগুলি সংবিধানের ২৫ ও ২৬ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী।

এই মামলার মূল প্রশ্ন হল, অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার নামে কোনও প্রশাসনিক কমিটি কতদূর যেতে পারে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা কি মন্দিরের শতাব্দীপ্রাচীন রীতিনীতি ও পূজা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারে? নাকি আদালতের আগের নির্দেশ অনুযায়ী সেই অধিকার কেবল সেবায়েতদের হাতেই থাকবে?

এই বিতর্ক শুধু একটি মন্দিরের বিষয় নয়। এটি আসলে ভারতের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, আদালতের ভূমিকা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক সীমারেখা নিয়ে একটি বড় প্রশ্ন তুলে ধরছে। সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী ব্যাখ্যা ও নির্দেশের ওপর নির্ভর করছে, ভবিষ্যতে এই মন্দিরের প্রশাসনিক কাঠামো কোন পথে যাবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বাঁকেবিহারী জি মহারাজ মন্দিরের মামলা আবার আদালতে ফিরেছে কারণ প্রশাসনিক নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্যের মাঝের সূক্ষ্ম সীমা নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। এই মামলার রায় শুধু বৃন্দাবনের জন্য নয়, সারা দেশের বহু ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে।

Bankey Bihari Temple Dispute