/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/19/bondi-beach-attack-2025-12-19-14-39-18.jpg)
Bondi Beach attack: বন্ডাই বিচ হামলা পশ্চিমের দেশগুলোতে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
Bondi Beach attack: ডিসেম্বর মাসে অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই বিচ এলাকায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হামলা দেশটির নিরাপত্তা ও সামাজিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে এই আক্রমণটি ইসলামিক স্টেট বা আইএস-এর মতাদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিল। এই ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী হামলা নয়, বরং অস্ট্রেলিয়ায় আইএস ভাবধারার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের দিকটি আবার সামনে এনে দিয়েছে।
জঙ্গিদের দীর্ঘদিনের ঘাঁটি
অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক জঙ্গিদের কেন্দ্র। নাইন ইলেভেন–পরবর্তী সময়ে দেশটি সরাসরি বড় ধরনের জিহাদি হামলার মুখে পড়েনি। বালি বিস্ফোরণ বা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘর্ষে অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের প্রভাব থাকলেও, দেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসবাদ তেমনভাবে শিকড় গাড়েনি। কিন্তু ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটের উত্থানের পর পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে গিয়েছে।
আরও পড়ুন- ইন্টারনেট থামেনি এক মুহূর্তও! ২০২৫ সালের সবচেয়ে ভাইরাল ১০ মুহূর্ত, যা গোটা বিশ্বকে নড়িয়ে দিয়েছে
২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় একাধিক আইএস-অনুপ্রাণিত হামলা ঘটে। এগুলোর বেশিরভাগই ছিল একক হামলাকারী বা ছোট সেলভিত্তিক আক্রমণ, যেখানে ছুরি, গাড়ি বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এই সময়ের আগে অস্ট্রেলিয়া কার্যত কোনও দেশীয় জিহাদি হামলার অভিজ্ঞতা পায়নি। আইএস তাদের প্রচারে স্পষ্টভাবে পশ্চিমী দেশগুলিতে স্থানীয়ভাবে আঘাত হানার আহ্বান জানিয়েছে। আর, তারপরই শুরু হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায় হামলা।
আরও পড়ুন- শরীর দিচ্ছে সতর্কতা! এই ৬ লক্ষণ অবহেলা করলে বাড়তে পারে থাইরয়েডের সমস্যা!
অস্ট্রেলিয়ায় আইএস-এর প্রভাব বোঝার সবচেয়ে বড় সূচক ছিল মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া বিদেশি যোদ্ধাদের সংখ্যা। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ২৩০ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিক সিরিয়া ও ইরাকে গিয়ে জঙ্গি গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছিল এবং আরও প্রায় ২৫০ জনকে যাওয়া থেকে আটকানো হয়েছিল। তুলনামূলকভাবে, অনেক বেশি মুসলিম জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও ভারতের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম। এই পার্থক্যের পিছনে ভাষা, অনলাইন প্রচার এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মতো বিষয়গুলিকে বিশেষজ্ঞরা দায়ী করেছেন।
আরও পড়ুন- বরফে জমিয়ে রাখা কোন খাবারগুলো ক্ষতি করছে আপনার শরীরের?
আইএস-এর ইংরেজি ভাষার প্রচার সামগ্রী অস্ট্রেলিয়ার মতো ডিজিটালি সচেতন সমাজে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। শহুরে এলাকায় বসবাসকারী কিছু তরুণ, যাঁরা পরিচয় সংকট বা সামাজিক বিচ্ছিন্নতায় ভুগছিলেন, তাঁদের এই প্রচার সহজেই প্রভাবিত করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল স্থানীয় কিছু ‘হোমগ্রোন’ প্রচারক, যারা বিদেশে বসেও অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে যোগাযোগ রেখে চরমপন্থা ছড়িয়েছেন।
আরও পড়ুন- মানসিক স্বাস্থ্যের জেরেও বাড়তে পারে হাঁপানি? চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলল গবেষণায়!
এই প্রেক্ষাপটে 'নীল প্রকাশ' নামের এক অস্ট্রেলীয় নাগরিকের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ওই ব্যক্তি সিরিয়া থেকে আইএস-এর পক্ষে প্রচার চালিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। সে হামলায় যুক্ত ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তার মতো চরিত্ররা দেখিয়ে দেয় যে, শারীরিকভাবে দেশে না থেকেও কীভাবে ডিজিটাল মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদী প্রভাব বজায় রাখা সম্ভব।
বন্ডাই বিচ হামলায় অভিযুক্তদের একজনের ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিচয় মেলায় নতুন করে অস্ট্রেলিয়ার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সন্দেহের চোখে দেখার প্রবণতা তৈরি করেছে। অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এই ধরনের প্রতিক্রিয়া বিপজ্জনক হতে পারে। ড. মহম্মদ হানিফ মামলার মতো ঘটনায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত কঠোর সন্ত্রাস দমন আইন কীভাবে নিরপরাধ ব্যক্তিদের জীবন বিপর্যস্ত হতে পারে।
আইএস-এর উত্থানের পর অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম কঠোর সন্ত্রাস দমন আইন চালু করেছিল। নাগরিকত্ব বাতিল, আগাম আটক, নজরদারি বৃদ্ধি এবং ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এই পদক্ষেপগুলি আইএস কার্যকলাপ কমাতে সাহায্য করলেও, নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্কও তীব্র হয়েছে।
বর্তমানে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি মনে করছে, আইএস সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হলেও তাদের মতাদর্শ এখনও বিপজ্জনক। একক হামলাকারী বা অনুপ্রাণিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে হিংসা ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েই গেছে। বন্ডাই বিচ হামলা সেই বাস্তবতাকেই আবার মনে করিয়ে দিল এবং অস্ট্রেলিয়ার সামনে নতুন করে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরল।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us