/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/01/tobacco-2026-01-01-12-01-53.jpg)
ITC share price fall today: তামাকের শেয়ারে এই পতনের কারণটা কী?
ITC share price fall today: নতুন বছরের শুরুতেই শেয়ার বাজারে বড় চমক দেখা গেল তামাক খাতে। ২০২৬ সালের প্রথম কার্যদিবসেই আইটিসি ও গডফ্রে ফিলিপসের মতো বড় তামাক কোম্পানির শেয়ারে তীব্র পতন লক্ষ্য করা গেছে। বাজার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই আইটিসি শেয়ার ৬ শতাংশের বেশি পড়ে যায় এবং গডফ্রে ফিলিপসের শেয়ার প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত নেমে আসে। এই আকস্মিক পতনের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় সরকারের সিগারেটের ওপর নতুন এক্সাইজ ডিউটি বৃদ্ধির ঘোষণা।
ডিসেম্বর মাসে সংসদে সেন্ট্রাল এক্সাইজ সংশোধনী বিল ২০২৫ পাস হয়, যার ফলে সিগারেট এবং অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের ওপর কর কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই নতুন আইন অনুযায়ী, আগে যে অস্থায়ী লেভি ব্যবস্থা চালু ছিল, তা বাতিল করে স্থায়ীভাবে এক্সাইজ ডিউটি বাড়ানোর পথ পরিষ্কার করা হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত তামাক কোম্পানিগুলির ওপর।
অর্থ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে
অর্থ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন এক্সাইজ ডিউটি বর্তমান জিএসটির ওপর অতিরিক্ত হিসেবে বসবে। বর্তমানে সিগারেটের ওপর ৪০ শতাংশ জিএসটি রয়েছে এবং তার সঙ্গে যুক্ত হবে নতুন এক্সাইজ কর। সিগারেটের দৈর্ঘ্যের ওপর নির্ভর করে প্রতি একহাজার স্টিকের ওপর কর ধার্য হবে প্রায় ২,০৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৮,৫০০ টাকা পর্যন্ত। এর ফলে সিগারেটের মোট করের হার আরও বেড়ে যাবে।
আরও পড়ুন- নামেই উন্নত দেশ, এখন কি জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের বড় ঘাঁটি অস্ট্রেলিয়া?
বর্তমানে ভারতে সিগারেটের খুচরো দামের প্রায় ৫৩ শতাংশ কর হিসেবে নেওয়া হয়, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ করা ৭৫ শতাংশের তুলনায় কম। নতুন কর বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার ধূমপান নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি রাজস্ব বৃদ্ধির দিকেও নজর দিয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ এর সরাসরি প্রভাব পড়বে তামাক কোম্পানির বিক্রি এবং মুনাফার ওপর।
আরও পড়ুন- ইন্টারনেট থামেনি এক মুহূর্তও! ২০২৫ সালের সবচেয়ে ভাইরাল ১০ মুহূর্ত, যা গোটা বিশ্বকে নড়িয়ে দিয়েছে
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এক্সাইজ ডিউটির ফলে ৭৫ থেকে ৮৫ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের সিগারেটের দাম ২২ থেকে ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। আইটিসির মোট বিক্রির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই ক্যাটাগরির সিগারেট থেকে আসে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রতি স্টিকের দাম ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা সাধারণ ক্রেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে এবং চাহিদা কমার আশঙ্কা তৈরি করবে।
আরও পড়ুন- শরীর দিচ্ছে সতর্কতা! এই ৬ লক্ষণ অবহেলা করলে বাড়তে পারে থাইরয়েডের সমস্যা!
এই আশঙ্কার কারণেই শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীরা আগেভাগেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, সিগারেটের দাম বাড়লে বিক্রি কমবে, ফলে কোম্পানির আয়ে প্রভাব পড়বে। এই অনিশ্চয়তা থেকেই নতুন বছরের প্রথম দিনেই তামাকের শেয়ারে এই পতন ঘটল। আইটিসি শুধুমাত্র তামাক ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল নয়, খাদ্যপণ্য, হোটেল এবং অন্যান্য খাতেও তাদের উপস্থিতি রয়েছে। তবুও বাজারের একটি বড় অংশ আইটিসিকে এখনও তামাক কোম্পানি হিসেবেই দেখে। তাই সিগারেট সংক্রান্ত যে কোনও নীতিগত পরিবর্তন সরাসরি আইটিসির শেয়ারের ওপর প্রভাব ফেলে। গডফ্রে ফিলিপসের ক্ষেত্রে এই নির্ভরতা আরও বেশি হওয়ায় তাদের শেয়ারে পতনের মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি।
আরও পড়ুন- বরফে জমিয়ে রাখা কোন খাবারগুলো ক্ষতি করছে আপনার শরীরের?
নতুন কর কাঠামো ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। এর আগে কোম্পানিগুলি কীভাবে দাম সমন্বয় করে এবং বিক্রির কৌশল বদলায়, তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। বাজার এখন সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি সতর্কতার সময়, যেখানে নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রভাব বোঝা অত্যন্ত জরুরি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ২০২৬ সালের শুরুতে তামাক খাত যে চাপে পড়েছে, তা স্পষ্ট। সরকারি কর নীতির পরিবর্তন কীভাবে দীর্ঘমেয়াদে এই খাতকে প্রভাবিত করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে আপাতত আইটিসি ও গডফ্রে ফিলিপসের শেয়ার পতনের প্রধান কারণ হিসেবে নতুন এক্সাইজ ডিউটি বৃদ্ধিকেই দায়ী করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us