/indian-express-bangla/media/media_files/2025/04/29/CsslMeGngPJ3PVVLp5aH.jpg)
India’s Missile: ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র।
India’s 5 Most Advanced Missiles: ভারত এখন শুধু জনসংখ্যা কিংবা অর্থনীতিতেই নয়, প্রযুক্তিগত ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। বিশেষ করে মিসাইল টেকনোলজিতে ভারতের অগ্রগতি এখন বিশ্বের নজর কাড়ছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে থাকা কিছু মিসাইল এতটাই আধুনিক, শক্তিশালী ও দ্রুতগামী যে, যে কোনও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তা শত্রুপক্ষের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে।
চলুন জেনে নিই, ভারতের এমনই ৫টি সুপার হাইটেক মিসাইল সম্পর্কে—
১. অগ্নি-V: ভারতের ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্রহ্মাস্ত্র
অগ্নি-V ভারতের দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল, যার পাল্লা প্রায় ৮,০০০ কিলোমিটার। এই মিসাইল পরমাণু অস্ত্র বহন করতে সক্ষম এবং এতে রয়েছে MIRV প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে একসঙ্গে আঘাত হানা সম্ভব। এছাড়া, এটি সম্পূর্ণ ক্যেনিস্টারাইজড লঞ্চ সিস্টেমের মাধ্যমে লঞ্চ করা যায়, ফলে এটি মোবাইল লঞ্চার থেকেই তৎক্ষণাৎ ফায়ার করা সম্ভব।
২. ব্রহ্মোস: শব্দের চেয়েও দ্রুতগতির মিসাইল
রাশিয়া-ভারত যৌথ উদ্যোগে তৈরি BrahMos হলো বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। এটি স্থল, জল ও আকাশ— তিন মাধ্যম থেকেই উৎক্ষেপণযোগ্য। ৫০০ কিমি-এর বেশি পাল্লার এই মিসাইল ২.৮ Mach গতিতে ছুটে যায় এবং ১ মিটার কম রেডিয়াসে নিখুঁত আঘাত হানতে পারে। রাডার ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা এটিকে আরও ভয়ংকর করে তোলে।
আরও পড়ুন- অলিতে গলিতে লস্যি-জুসের দোকান! এই পানীয় খেয়ে আপনি কি অজান্তেই নিজের বিপদ বাড়াচ্ছেন?
৩. নাগ: ট্যাংক ধ্বংসের নির্ভুল অস্ত্র
নাগ হল ভারতীয় সেনার নিজস্ব Anti-Tank Guided Missile (ATGM)। এটি “ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট” প্রযুক্তিতে তৈরি, যার মানে মিসাইল লঞ্চ করার পর কোনও ম্যানুয়াল গাইডেন্সের প্রয়োজন হয় না। Thermal Imaging Seeker এর মাধ্যমে এটি দিনরাত ও সকল আবহাওয়ায় শত্রুর ট্যাংক সনাক্ত করে ধ্বংস করতে সক্ষম।
আরও পড়ুন- রাস্তায় কাটা ফল কিনে খাচ্ছেন? সাবধান! জেনে নিন গরমে কাটা ফল খাওয়ার জের কী হতে পারে?
৪. অস্ত্র: আকাশে শত্রু বিমানের যমদূত
অস্ত্র হল ভারতের প্রথম দেশীয়ভাবে নির্মিত Air-to-Air মিসাইল। এটি ১০০ কিমি দূর থেকে শত্রুর ফাইটার জেট টার্গেট করতে পারে। এতে রয়েছে অ্যাডভান্স রাডার হোমিং ও ECCM প্রযুক্তি, যার ফলে শত্রুর ইলেকট্রনিক জ্যামিংও ব্যর্থ হয়। তেজস, সুখোই-৩০MKI এবং মিরাজ-২০০০ জেটেও এটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়।
আরও পড়ুন- একবার রং করার পর চুল কীভাবে দীর্ঘদিন কালো ও উজ্জ্বল রাখবেন? রইল সহজ টিপস
৫. শৌর্য: হাইপারসনিক ধ্বংসের দূত
শৌর্য একটি Hypersonic Ballistic Missile, যার গতি Mach 7.5— অর্থাৎ শব্দের চেয়ে সাত গুণ বেশি। এটি পরমাণু ও প্রচলিত অন্যান্য বিস্ফোরক, উভয় ধরনের অস্ত্রই বহন করতে পারে। এর কম উচ্চতায় ও দ্রুত গতিতে ওড়ার ক্ষমতা এটিকে শত্রুর রাডার থেকে আড়াল করে রাখে। এর পাল্লা ৭০০-৮০০ কিমি, যা সীমান্তের ওপারেও সুনির্দিষ্টভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
আরও পড়ুন- চাবি ছাড়া ঝুলবে তালা! আঙুল ছুঁলেই আনলক, নিরাপত্তার নয়া ফান্ডা
এই পাঁচটি মিসাইল ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শুধু শক্তিশালীই করেনি, বরং প্রতিপক্ষের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করছে। তা হল, ভারত তার নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন।