বড় খবর

বাংলাদেশের ‘গুলির’ পাল্টা জবাব দেয়নি ভারত, মন্তব্য বিএসএফের

বিজিবির সেই গুলির পাল্টা জবাবে একটা গুলিও চালায়নি ভারত, নেয়নি প্রতিশোধও। জওয়ান বিজয়ভান সিংয়ের মৃত্যুর পর এমনটাই জানানো হল বিএসএফের পক্ষ থেকে।

নিহত বিএসএফ জওয়ানের দেহ নিয়ে আসছেন বিএফএফ সেনারা। ছবিসূত্র- বিএসএফ

সীমান্তে চলা ভারত-বাংলাদেশ ‘ফ্ল্যাগ মিটিং’-এর সময়ই বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারালেন বিএসএফ জওয়ান বিজয়ভান সিং। আহত হলেন এক। কিন্তু বিজিবির সেই গুলির পাল্টা জবাবে একটা গুলিও চালায়নি ভারত, নেয়নি প্রতিশোধও। জওয়ান বিজয়ভান সিংয়ের মৃত্যুর পর এমনটাই জানানো হল বিএসএফের পক্ষ থেকে। বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদ জেলার ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এহেন গুলি নিক্ষেপকে কেন্দ্র করেই সীমান্তে শুরু হল তরজা

ঠিক কী হয়েছিল?

বিএসএফ সূত্রে জানানো হয়, সীমান্তবর্তী পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন তিন ভারতীয় মৎস্যজীবী। তাঁদের মধ্যে দু’জন ফিরে এসে কাকমারিচরের বিএসএফের শিবিরে যোগাযোগ করে জানান যে বিজিবি তাঁদের জোর করে ধরে নিয়ে যায়। বিজিবি এই দুই মৎস্যজীবীকে মুক্তি দিয়ে ‘ফ্ল্যাগ মিটিং’ এর জন্য আহ্বান জানায় বিএসএফকে, এমনটাই খবর। বিএসএফ সূত্রে খবর, ফ্ল্যাগ মিটিং অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ সীমান্ত পরবর্তী ৩০০ থেকে ৪০০ মিটারের মধ্যে। এর পরই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিএসএফ জানায়, তাঁদের পাঁচজন জওয়ান ফ্ল্যাগ মিটিংএ অংশ নিতে যাওয়ার সময় বিজিবি সেনারা তীব্র গুলিবর্ষণ শুরু করে। ঘটনাস্থলেই নিহত হন বিএসএফের হেড কনস্টেবল বিজয় ভান সিং (৫০)।

আরও পড়ুন- ‘দ্বিতীয় স্ত্রী বিদেশি হলেই নোবেল মিলছে’, অভিজিৎ প্রসঙ্গে বেলাগাম রাহুল সিনহা

প্রসঙ্গত, বাকি দুই মৎস্যজীবী ভারতে ফিরে আসতে পারলেও তৃতীয়জন এখনও ফেরেননি। বিএসএফ অফিসাররা জানিয়েছেন, ওই মৎসজীবী বর্তমানে বাংলাদেশের পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। কিন্তু বিজিবি সেনারা দাবি করেছেন যে বিএসএফের টহলদারি দলটি মৎসজীবীকে উদ্ধার করতেই অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং তাঁরা যখন পালানোর চেষ্টা করে সেই সময়ই ‘আত্মরক্ষার স্বার্থেই’ গুলি চালানো শুরু করা হয়।

আরও পড়ুন- ‘আমার আর মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে যা ঘটেছে, তা নিয়ে কখনই মুখ খুলিনি’, ফের বিস্ফোরক রাজ্যপাল

তবে বিজিবির এই অভিযোগকে মানতে নারাজ বিএসএফের ইনস্পেক্টর জেনারেল ওয়াই বি খুরানা। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে তিনি বলেন, “বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনও গুলি চালানো হয়নি। বরং বিজিবি গুলি চালানোর পরেও আমরা কোনও প্রতিশোধও নেয়নি।” বিএসএফের ইনস্পেক্টর জেনারেল আরও বলেন, “প্রতিটি ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের একটা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রক্রিয়া (এসওপি) আছে। সেই নিয়মানুসারে আমরা কমলা রঙের পতাকা নিয়ে যাচ্ছিলাম ওই বৈঠকের জন্য। কাউকে মুক্তি দেওয়ার জন্য জোর করতে নয়। বিজিবির ছবিটিতেও কমলা পতাকাটি দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট। তাঁরা এখন এটা বলতে পারবে না যে আমরা ফ্ল্যাগ মিটিং নয় অন্য কিছুর জন্য যাচ্ছিলাম।”

উল্লেখ্য, সীমান্তে গুলি চালানোর শেষ ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০৫ সালের এপ্রিল মাসে। কিন্তু ফের এই ঘটনায় উস্কে দিল সেই স্মৃতিকেই। বিএসএফের একজন আধিকারিক এই প্রসঙ্গে বলেন, “যা হয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয় … আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

 

Read the full story in English

Get the latest Bengali news and Westbengal news here. You can also read all the Westbengal news by following us on Twitter, Facebook and Telegram.

Web Title: Bgb firing unprovoked indian side did not even retaliate stated bsf

Next Story
জিয়াগঞ্জ হত্যাকাণ্ড: মমতার কাছে পরিবার, তদন্তে অখুশি বন্ধুর মাjiaganj triple murder
The moderation of comments is automated and not cleared manually by bengali.indianexpress.com