/indian-express-bangla/media/media_files/2025/06/24/family-2025-06-24-15-24-49.jpg)
Kaliganj bomb blast: ছোট্ট তামান্নার মর্মান্তিক পরিণতিতে শোকে পাথর গোটা পরিবার।
13‑yr‑old Tamanna death Kaliganj bypoll: গতকাল দুপুর থেকে দু'চোখের পাতা এক হয়নি পরিবারের কারও। বাবা-মা অন্যান্য আত্মীয়রা এখনও বিশ্বাসই করে উঠতে পারছেন না যে ছোট্ট তামান্না আর নেই। মা আদর করে শেলি বলে ডাকতেন চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী তামান্নাকে। একরত্তি সেই শিশু যে আর কোনও দিনও তাঁকে মা বলে ডাকবে না এ কথা যেন এখনও ভাবতেই গা হাত পা কেঁপে উঠছে মায়ের। সন্তান হারিয়ে বুক চাপরে কেঁদেই চলেছেন মা। স্বজন হারানোর একরাশ যন্ত্রণা নিয়ে তাঁর একটাই প্রশ্ন, "উৎসব করে কি মানুষ মেরে দেবে?"
গতকাল কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়েছে। একটা বড় অংশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা যা ছিল তাই-ই হয়েছে। কালীগঞ্জ উপনির্বাচনে প্রত্যাশিতভাবেই বিপুল ভোটে জয় পেয়েছে তৃণমূল। সংখ্যালঘু ভোটের অধিকাংশই পকেটে পুরেছেন তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদ, এছাড়াও আরও ভোট গিয়েছে তাঁর ঝুলিতে। যার নিট ফল, ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটে কালীগঞ্জ উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদ।
গতকাল ভোট গণনা তখনও শেষ হয়নি, এরই মধ্যে কালীগঞ্জের মোলান্দি গ্রামে বিজয় মিছিল বের করে তৃণমূল কংগ্রেস। ওই গ্রামের বেশ কিছু পরিবার সিপিএমের সমর্থক। অভিযোগ, গতকাল এলাকায় তৃণমূল বিজয় মিছিল করে গিয়ে ধরে ধরে সিপিএমের সমর্থক বলে পরিচিত বেশ কয়েকটি বাড়িতে বোমা ছোড়ে। সেই বোমারই একটি ছিন্ন ভিন্ন করে দিয়েছে মাত্র ১৩ বছরের শিশু তামান্না খাতুনের ছোট্ট শরীর। চতুর্থ শ্রেণীর ওই ছাত্রী তার বাড়ির উঠোনেই কাতরাতে কাতরাতে মারা গিয়েছে। ছোট্ট শরীরটা সকেটের আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছিল।
আদরের 'শেলি' যে আর নেই তা এখনও ভাবতেই পারছেন না মা। বাড়িতে একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি দেখে চোখের জল আর বাগ মানে না। সদ্য সন্তান হারানো মায়ের একটাই প্রশ্ন, "উৎসব করে কি মানুষ মেরে দেবে?"। তিনি আরও বলেন," মেয়ের মৃত্যুর বিচার চাই। বিচার না পেলে কোর্টে যাব। যেখানে বিচার পাব সেখানেই যাব। CBI আসুক, ওরাই তদন্ত করুক। ওরাই শেলির ন্যায্য বিচার করে দিক। ওকে মেরে দিয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য করেই বোমা মেরেছিল। আমি সিপিএমকে ভোট দিই।"
অঝোর নয়নে কাঁদতে কাঁদতে ওই মহিলা আরও বলেন, "পুলিশ অনেকক্ষণ পরে এসেছে। আমি ওকে (তামান্না) তুলতেও পারছিলাম না। আমার মেয়ের জামা ছিঁড়ে চলে গিয়েছিল। রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছি পুলিশকে। এর মধ্যে ওরা ব্যবস্থা করুক। পুলিশ কোনও ব্যবস্থা না করলে অন্য ব্যবস্থা করব। উৎসব করে আমার মেয়েটাকে মেরে দেবে? ওদের আনন্দে আমার মেয়ের জীবন চলে যাবে? কোন মন্ত্রী বলেছে যে উৎসব করে মানুষ মেরে দিতে হবে?"