/indian-express-bangla/media/media_files/2025/05/05/E5cTJ0Fg2guIZ5eV6dz2.jpg)
Mamata Banerjee: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
Mamata Banerjee Jhargram rally: বাংলা ভাষা রক্ষায় তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষা আন্দোলনে সরগরম জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রাম। ঝাড়গ্রামের মাটি থেকেই আবারও BJP-কে তীব্র ভাষায় হুংকার শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভাষা রক্ষায় পদযাত্রার পর সভামঞ্চে বক্তৃতায় বিজেপিকে হুঙ্কার দিয়ে তৃণমূলনেত্রী বলেন, "বাংলা ভাষার উপর সন্ত্রাস মানব না। দরকারে রক্ত দেব, এক ইঞ্চি জমি ছাড়ব না।" ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে রাজ্যের দুই ERO এবং দুই AERO-কে সাসপেন্ডের নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন জানিয়েছেন, কমিশনের সেই নির্দেশ তিনি মানবেন না।
বুধবার ঝাড়গ্রামে মনীষীদের ছবি নিয়ে মিছিল করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলাকে বাংলাদেশি ভাষা তকমা দেয়ার প্রতিবাদে আজ জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রামে পথে নেমে প্রতিবাদ মিছিলে হাঁটেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে নজরুল ইসলাম, ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছবি হাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মিছিলে আগাগোড়া সামিল ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং অরূপ বিশ্বাসরা।
প্রতিবাদ মিছিল শেষে ঝাড়গ্রামে সভামঞ্চে ফের একবার বাংলা ভাষার অপমান, বাঙালি হেনস্থা ইস্যুতে সোচ্চার হন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেই সঙ্গে NRC থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ের SIR বিতর্ক নিয়েও কেন্দ্রের শাসকদল BJP-কে তুলোধোনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি এদিন বলেন, "বাংলা ছাড়া ভারতবর্ষ হয় না। অসম থেকে বাংলায় NRC-র নোটিশ। অসম সরকারকে ধিক্কার। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বিদ্যাসাগরের ভাষাকে অপমান। ভোটার তালিকা থেকে একটাও নাম বাদ না যায়। বাংলা বললেই বাংলাদেশী বলছে। রাজ্য সরকারি অফিসারদের ভয় দেখানো হচ্ছে। এনআরসির ভয়ে লোকে আত্মহত্যা করছে। এর দায় কে নেবে?"
তিনি আরও বলেন, "বাংলা ও বাঙালিদের ভোটে জিতেছে। নির্বাচন কমিশন বিজেপির ক্রীতদাস। বাংলা ভাষায় কথা বললেই তাকে আটকানো হচ্ছে। ভোটার লিস্টের নামে বিজেপির পার্টির তালিকা। কারও নাম বাদ দিলে আমাদের দেহ পেরিয়ে যেতে হবে। এনআরসি হবে না, আমাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না। যেভাবে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার চলছে আমরা ছেড়ে কথা বলব
না। বকলমে এনআরসি হচ্ছে না, হবে না। বাংলা ভাষার ওপর সন্ত্রাস মানব না। দরকারে রক্ত দেব, এক ইঞ্চি জমি ছাড়ব না।"
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে রাজ্যের চার সরকারি অফিসারকে সাসপেন্ডের নির্দেশ দিয়েছিল। দুই ERO এবং দুই AERO-কে সাসপেন্ডের নির্দেশ দেয় কমিশন। তবে এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন কাউকে তিনি সাসপেন্ড করবেন না। সরকারি অফিসারদের রক্ষা করার দায়িত্ব তাঁর এবং তিনি সেটা করবেন বলেও এদিন জানিয়েছেন।
বক্তৃতায় এদিন আগের বাম আমলের প্রসঙ্গও টেনেছেন তৃণমূলনেত্রী। তিনি বলেন, "বাম আমলে ঝাড়গ্রামে কেউ আসত না। লালগড় থেকে বেলপাহাড়ি যেতে ভয় পেত। এখন ঝাড়গ্রামের অনেক উন্নয়ন হয়েছে।। ঝাড়গ্রামের মানুষ ভালো আছেন, এটাই পাওনা।"