/indian-express-bangla/media/media_files/2025/08/30/viral-doctor-ankur-bajaj-2025-08-30-18-53-31.jpg)
Viral doctor Ankur Bajaj: ডা. অঙ্কুর বাজাজ।
Viral doctor Ankur Bajaj: লখনউ শহরে তৈরি হল মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। মাত্র ৩ বছরের এক শিশু ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন। একটি লোহার রড তাঁর শরীরে ঢুকে যায় এবং পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে ওঠে। পরিবার আতঙ্কে ভুগতে শুরু করে। এই সময় সামনে এসে দাঁড়ান কিং জর্জ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (KGMU) নিউরোসার্জন ডা. অঙ্কুর বাজাজ।
বেসরকারি হাসপাতাল বলেছিল যে ১৫ লক্ষ টাকা খরচ হবে
দুর্ঘটনার পর প্রথমে শিশুটিকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে অস্ত্রোপচারের জন্য প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা খরচ হবে বলে অভিভাবকদের জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই সামর্থ্য পরিবারের নেই। শেষমেশ শিশুটিকে আনা হয় কিং জর্জ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখানে ডা. অঙ্কুর বাজাজ ও তাঁর টিম শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। প্রায় ৬ ঘণ্টার দীর্ঘ ও জটিল অস্ত্রোপচারের পর ডাক্তাররা শিশুটিকে নতুন জীবন উপহার দেন। মোট চিকিৎসা খরচ হয়েছে মাত্র ২৫,০০০ টাকা। এই মানবিক উদাহরণ ছড়িয়ে পড়তেই ইন্টারনেটে প্রশংসার ঝড় উঠেছে।
আরও পড়ুন- সেপ্টেম্বরে ১৫ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক, কোন দিনগুলোয়? দেখুন বিস্তারিত তালিকা
এই ঘটনার আরেকটি হৃদয়ছোঁয়া দিক হল– অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা আগে ডা. বাজাজের নিজের মা হৃদরোগে আক্রান্ত হন। ব্যক্তিগত দুঃখ ও মানসিক চাপের মধ্যেও তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে যাননি। অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে তিনি প্রথমে শিশুটির জীবন বাঁচানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ নেটিজেনদের চোখে তাঁকে প্রকৃত সাদা পোশাকের হিরো (White Coat Hero) বানিয়ে তুলেছে।
আরও পড়ুন- স্বপ্নে জেল, পুলিশ দেখার অর্থ কী? বাস্তবে এর শুভ-অশুভ প্রভাব সম্পর্কে জানুন
ডা. অঙ্কুর বাজাজ কিং জর্জ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক। ট্রমা, স্কাল বেস সার্জারি এবং শিশু নিউরোসার্জারিতে তাঁর বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। তিনি চণ্ডীগড়ের পিজিআইএমইআর (PGIMER) থেকে নিউরোসার্জারিতে এমসিএইচ ডিগ্রি করেছেন। ২০১৮ সালে অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ (ANA) ফ্লাইটে এক যাত্রীর জীবন বাঁচানোর জন্য তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পান। চিকিৎসার পাশাপাশি তিনি শিশু ও নিউরোট্রমা গবেষণায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন।
আরও পড়ুন- শাস্ত্রমতে এই তিথিতেই গণেশের বিসর্জন, ৬ না ৭ সেপ্টেম্বর, কবে অনন্ত চতুর্দশী?
সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু মানুষ তাঁর প্রশংসা করেছেন। কেউ লিখেছেন, 'প্রকৃত নায়করা সবসময় ইউনিফর্ম পরেন না, কেউ কেউ সাদা কোটও পরেন।' আরেকজন মন্তব্য করেছেন, 'ডা. বাজাজ আমাদের জন্য আশার আলো। তিনি দেখিয়ে দিলেন মানবতা এখনও বেঁচে আছে।' অন্যদিকে, অনেকেই ভারতের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার দুর্বল দিক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁরা বলেছেন, 'কোনও পরিবারকে যেন কখনও জীবন আর আর্থিক ধ্বংসের মধ্যে কোনও একটা পথকে বেছে নিতে না হয়।'
আরও পড়ুন- ৩০ নাকি ৩১ আগস্ট, কবে রাধাষ্টমী? জানুন শুভ মুহূর্ত ও ব্রতের মাহাত্ম্য
এই ঘটনা শুধু একজন শিশুর জীবনই বাঁচায়নি, বরং গোটা দেশকে মনে করিয়ে দিয়েছে— চিকিৎসা মানে কেবল অর্থ নয়, চিকিৎসা মানে মানবতা। আসলে ডা. অঙ্কুর বাজাজ প্রমাণ করেছেন, মানবিকতার জায়গা এখনও অটুট রয়েছে।