/indian-express-bangla/media/media_files/2025/08/30/freedom-fighter-jadugopal-mukhopadhyay-2025-08-30-20-06-51.jpg)
Freedom Fighter Jadugopal Mukhopadhyay: স্বাধীনতা সংগ্রামী চিকিৎসক যাদুগোপাল মুখোপাধ্যায়।
Freedom Fighter Jadugopal Mukhopadhyay: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অসংখ্য বিপ্লবীর নাম রয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই আলোচনায় এলেও কিছু নাম সময়ের ধুলোয় ঢাকা পড়ে গিয়েছে। কিন্তু, তাঁদের অনেককেই ভোলা কোনওমতে সম্ভব না। এমনই এক নাম যাদুগোপাল মুখোপাধ্যায়। তিনি শুধু একজন বিপ্লবীই ছিলেন না, বরং প্রখ্যাত চিকিৎসক, সাহিত্যিক ও উচ্চাঙ্গ সংগীত বিশারদ হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
জন্ম, ক্ষুদিরামের জেলায়
১৮৮৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মেদিনীপুর জেলার তমলুকে জন্মগ্রহণ করেন যাদুগোপাল মুখোপাধ্যায়। তাঁর পিতা ছিলেন কিশোরীলাল মুখোপাধ্যায়। ছোট ভাই ধনগোপাল মুখোপাধ্যায় ছিলেন একজন বিশিষ্ট লেখক। শৈশব থেকেই দেশপ্রেম ও সাহসিকতা তাঁর চরিত্রে প্রতিফলিত হয়েছিল। ১৯১৫ সালে মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থাতেই তিনি আত্মগোপন করতে বাধ্য হন। তবে ১৯২১ সালে আত্মপ্রকাশের পর মেডিসিনে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে চিকিৎসক হিসেবে পাশ করেন।
আরও পড়ুন- সেপ্টেম্বরে ১৫ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক, কোন দিনগুলোয়? দেখুন বিস্তারিত তালিকা
১৯০৫ সালে তিনি অনুশীলন সমিতিতে যোগ দেন। পরে যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (বাঘা যতীন)-এর নেতৃত্বে তিনি যুগান্তর দল-এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হন। ১৯১৫ সালে জার্মানির সহযোগিতায় যে সশস্ত্র বিপ্লবের পরিকল্পনা হয়েছিল, যাদুগোপাল ছিলেন তার বৈদেশিক দফতরের প্রধান। তাঁর রাজনৈতিক কৌশল এতটাই প্রভাবশালী ছিল যে ব্রিটিশ পুলিশ তাঁকে 'Was the Brain of the Jugantar' বলে অভিহিত করেছিল। গ্রেফতারের জন্য ২০,০০০ টাকা পুরস্কার ঘোষণাও করেছিল।
আরও পড়ুন- স্বপ্নে জেল, পুলিশ দেখার অর্থ কী? বাস্তবে এর শুভ-অশুভ প্রভাব সম্পর্কে জানুন
১৯২১ সাল পর্যন্ত আত্মগোপনে থেকে তিনি বাংলা, অসম, বিহার ও চীন সীমান্তে ঘুরে ঘুরে দলের কাজ চালিয়ে যান। ১৯২৩ থেকে ১৯২৭ সাল পর্যন্ত তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন। মুক্তি পেলেও তাঁকে বাংলা থেকে নির্বাসিত করা হয়েছিল। বাধ্য হয়ে তিনি বিহারের রাঁচিতে বসবাস শুরু করেন এবং চিকিৎসা পেশায় মন দেন।
আরও পড়ুন- শাস্ত্রমতে এই তিথিতেই গণেশের বিসর্জন, ৬ না ৭ সেপ্টেম্বর, কবে অনন্ত চতুর্দশী?
যাদুগোপাল মুখোপাধ্যায় শুধু বিপ্লবী নন, তিনি ছিলেন একজন জনপ্রিয় চিকিৎসক। বিশেষ করে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসায় তিনি দক্ষ ছিলেন এবং এ বিষয়ে একটি বইও লিখেছিলেন। রাঁচিতে প্রায় ৩৫ বছর তিনি মানুষের সেবা করেন। ১৯৪২ সালে শুরু হওয়া ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় তিনি আবারও সক্রিয় হন। হাজারিবাগ জেলে বন্দি অবস্থায় তিনি জয়প্রকাশ নারায়ণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন। জেল থেকে পালানোর পরিকল্পনায় তিনি প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেন। এই ঘটনা আন্দোলনের গতি বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিল।
আরও পড়ুন- ৩০ নাকি ৩১ আগস্ট, কবে রাধাষ্টমী? জানুন শুভ মুহূর্ত ও ব্রতের মাহাত্ম্য
১৯৪৫ সালের পর তিনি আবারও চিকিৎসাক্ষেত্রে ফিরে যান এবং রাঁচিতেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘ বিপ্লবী ও চিকিৎসাজীবনের পর ১৯৭৬ সালের ৩০ আগস্ট তিনি প্রয়াত হন। যাদুগোপাল মুখোপাধ্যায় ছিলেন ভারতের সেই স্বাধীনতা সংগ্রামী (India’s Freedom Fighter), যিনি বিপ্লব এবং চিকিৎসা—উভয় ক্ষেত্রেই এক বিরল অবদান রেখে গেছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে যেমন তিনি সাহসের পরিচয় দিয়েছেন, তেমনই একজন মানবদরদী চিকিৎসক হিসেবেও মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। ইতিহাসে তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।