/indian-express-bangla/media/media_files/2025/02/21/dg18q3r36dBpP0FmgqB2.jpg)
Purba Bardhaman News: শিলা বৃষ্টিতে জলে ডুবে যাওয়া জমি থেকে আলু তুলে নিচ্ছে চাষিরা। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের ছবি।
Due to hailstorm, there is a risk of major loss in potato farming in East Burdwan: ভরা ফাল্গুনেও অঝোরে বৃষ্টি জেলায়-জেলায়। কোথাও কোথাও একনাগাড়ে শিলাবৃষ্টি পর্যন্ত হয়েছে। তারই সঙ্গে তেড়ে বয়েছে ঝোড়ো হাওয়া। এই পর্বে আগামী রবিবার পর্যন্ত রাজ্যের জেলায়-জেলায় দুর্যোগের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এমন বৃষ্টি শুরু হতেই মাথায় হাত পড়ে যায় পূর্ব বর্ধমান জেলার আলু চাষিদের। জমিতে জল জমে যাওয়ায় তাঁরা ঘোর দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন।
আলু পূর্ব বর্ধমান জেলার অন্যতম কৃষিজ ফসল। অন্যান্য বছরের মতো এবছরেও জেলায় বহু চাষি আলু চাষ করেছেন। কোথাও-কোথাও জমি থেকে আলু তোলার কাজও শুরু হয়ে গিয়েছিল। এমন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সাতসকালে জামালপুর-সহ একাধিক জায়গায় শুরু হয়ে যায় ঝড়। তারই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শুরু হয় ব্যাপক শিলাবৃষ্টি। সেই বৃষ্টির জলে ডুবে গিয়েছে আলুর জমি। জামালপুর ব্লকের শিয়ালি,কোরা, মাঠশিয়ালি,অমরপুর, মুইদূপুর, উজিরপুর, রেশলাতপুর,আঁটপাড়া প্রভৃতি এলাকায় শিলাবৃষ্টির দাপট বেশি ছিল। তারই জেরে এই সব এলাকার চাষিদের কার্যত মাথায় হাত পড়ে গিয়েছে।
শিয়ালি গ্রামের আলু চাষি অচিন্ত চক্রবর্তী ও শ্যামসুন্দর দে জানান, মোটা টাকা খরচ করে এবছর আলু চাষ করতে হয়েছে। কিছুদিন আগে কিছু জমির আলু বিক্রি করেছেন তাঁরা। তবে লাভজনক দাম পাননি বলেই দাবি তাঁদের। চাষের খরচটুকুও ওঠেনি তাঁদের। আশা ছিল, বাকি জমির আলু বিক্রি করে লাভের মুখ দেখবেন। তবে বৃহস্পতিবারের তুমুল দুর্যোগে মাঠের আলু সব জলের তলায় চলে গিয়েছে। শুধু বৃষ্টি হলে আলু হয়তো বাঁচানো যেত। শিলা বৃষ্টির জেরে জমির আলু আর বাঁচানো যাবে না বলেই দাবি তাঁদের। আর এক চাষি শাহনওয়াজ রহমান, সুকুমার রুইদাস, গুরুপদ দাসেদের কথায়, অসময়ের শিলাবৃষ্টি আলু চাষে ব্যাপক ক্ষতি করেছে।
পূর্ব বর্ধমানের একাধিক গ্রামের আলু চাষিরা তাঁদের জমির অবস্থা দেখে চোখের জল ফেলছেন। অনেক চাষিই দেনা করে আলু চাষ করেছিলেন। ফলে সেই দেনা এবার কীভাবে শোধ করবেন সেটা ভেবেই চাষিদের মাথায় হাত পড়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি সাহায্যের দাবি জানিয়েছেন আলুচাষিরা।
জেলা (পূর্ব বর্ধমান) কৃষি আধিকারিক নকুলচন্দ্র মাইতি বলেন, "বৃষ্টি হয়েছে মানেই যে আলু চাষ শেষ হয়ে যাবে, এমন নয়। আলু মাটির নিচের ফসল। এই বৃষ্টিতে যে এলাকায় আলু চাষের জমিতে জল জমে থাকবে সেই জমিতেই শুধু মাত্র ক্ষতির সম্ভাবনা থাকবে। জামালপুরে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা ব্লকের কৃষি দফতরের টিম খতিয়ে দেখবে। তারা রিপোর্ট পাঠালে বাস্তব অবস্থা বোঝা যাবে।"
আরও পড়ুন- Tangra Triple Death Case: ট্যাংরায় খুনের তত্ত্বই জোরালো, তবে মোটিভ নিয়ে ধন্দ কাটছেই না