/indian-express-bangla/media/media_files/2025/07/19/paresh-2025-07-19-13-51-55.jpg)
Kankurgachi murder case: বাঁদিকে তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পালের পুরনো ছবি, ডানদিকে, নিহত BJP কর্মী অভিজিৎ সরকারের দাদা বিশ্বজিৎ সরকারের একটি পুরনো ছবি।
Political violence Kolkata:২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসায় কলকাতার কাঁকুরগাছিতে BJP কর্মী অভিজিৎ সরকারকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। সেই ঘটনায় এবার বড়সড় পদক্ষেপ করেছে ব্যাঙ্কশাল আদালত। কলকাতা পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার (AC) এবং তৎকালীন সময়ে নারকেলডাঙা থানার অফিসার ইনচার্জ (OC)-সহ মোট চারজনকে জেলে পাঠিয়েছে আদালত। ভাই খুনে পুলিশকর্তাদের জেল হওয়ায় এবার ন্যায্য বিচারের আশায় বুক বেঁধেছে নিহত অভিজিতের পরিবার। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলার প্রতিনিধির সঙ্গে এই ব্যাপারে কথা বলার সময় ২০২১-এর সেই 'কালো দিন'-এর ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন নিহত অভিজিৎ সরকারের দাদা বিশ্বজিৎ সরকার।
গতকাল অভিজিৎ সরকার খুন মামলার শুনানিতে ব্যাঙ্কশাল আদালতের বিচারক বলেছিলেন, "রক্ষক যদি ভক্ষক হন তাহলে সমাজের কী হবে?"। খোদ আইনের রক্ষাকর্তাদের নিয়ে বিচারকের এই উক্তি রীতিমতো আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। গতকালই অভিজিৎ সরকার খুনে তৎকালীন নারকেলডাঙা থানার ওসি শুভজিৎ সেন তার সহযোগী সুজাতা দে'র জামিন খারিজ করে ৩১ জুলাই পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এরই পাশাপাশি তৎকালীন সাব-ইন্সপেক্টর রত্না সরকার ও হোমগার্ড দীপঙ্কর দেবনাথকেও জেলে পাঠিয়েছেন বিচারক।
ভাই খুনে পুলিশকর্তাদের জেল হেফাজত হওয়ায় এবার খানিকটা হলেও ন্যায্য বিচারের আশায় রয়েছেন অভিজিৎ সরকারের দাদা বিশ্বজিৎ সরকার। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলার প্রতিনিধিকে তিনি বলেন, "বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা ছিলই। তবে CBI দেরি করছিল। এখন মনে হচ্ছে বিচারের ঊর্ধ্বে কেউ নেই। একজন পুলিশের AC বা OC-কে বিচারক বিবেচনা করে যদি জেলে পাঠান, তবে এবার সাধারণ মানুষও সাহস পাবেন। পুলিশকর্মীদেরও ভয় থাকা উচিত যে তৃণমূলের নেতাদের কথা শুনে চললে আমাদের ভবিষ্যতে কী হতে পারে...।"
তাঁর কথায়, "আশা করি বিচার পাব। এরপর এঁদের (পুলিশ) যারা মদতদাতা ছিল সেই তৃণমূলের বিধায়ক, কাউন্সিলররাও এবার জেলে যাক। এটা তো সবে বিচারের একটা ধাপ গেল। তবে মূল মাথা পরেশ পাল, স্বপন সমাদ্দার, পাপিয়ে ঘোষদেরও জেলে যাওয়ার আশা করছি। তারাও শাস্তি পাক। আদালতের এই রায়ের ফলে এবার পুলিশও অন্যায় করলে সাধারণ মানুষ গিয়ে আদালতে অভিযোগ জানাবে। এবার থেকে বিভিন্ন কোর্টও 'রক্ষকই ভক্ষকের' বিষয়টা দেখে নেবে। পুলিশকেও জেলে পাঠাবে।"
২০২১ সালের ভয়াবহ সেই দিনটির কথা বলতে গিয়ে তিনি বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, "চোখের সামনে এদের অত্যাচার দেখেছি। দিনের পর দিন আমাদের ওপর অত্যাচার করেছে। চোখের সামনে দেখলাম ভাইকে মেরে দিল। আমরা নিরুপায় ছিলাম, নিজেরাও বাঁচব কিনা বুঝতে পারছিলাম না। দরজা ভেঙে ওরা ঢুকেছিল। ওই দিন আমাকেও পুলিশ ধরে নিয়ে গেছিল। তখন ভাই ঘরে মরে পড়েছিল। মাকে ধমকে-চমকে পাঁচটা সাদা কাগজে সই করিয়ে নিয়েছিল ওরা। কী সাংঘাতিক অত্যাতার করেছে ওরা! আমরা ওদের হাতে-পায়ে ধরেছিলাম। এটাও বলেছিলাম যে আর BJP করব না। আমরা শহর ছেড়ে চলে যাব। তবু ছাড়েনি। বলছিল আর করবি বিজেপি? আমাদের বাড়িতে থাকা কুকুরের বাচ্চাটাকেও তুলে আছড়ে মেরে ফেলেছে। বড় একটা কুকুরকে তুলে আছাড় মেরে মেরেছে। ওরা অমানুষ। ওসি পরেশ পালের (বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক) সঙ্গে মিলিত হয়ে এটা করেছে। আদালত কিন্তু পরেশ পাল, স্বপন সমাদ্দার,পাপিয়া ঘোষদের কোনও রক্ষাকবচ দেয়নি।"