Atulya Ghosh: 'পাকিস্তানের চর' অপবাদ থেকে স্টিফেন হাউস প্রচার, জানুন স্বাধীনতা সংগ্রামীর অন্য লড়াইয়ের কথা

Atulya Ghosh: অতুল্য ঘোষের জীবনের অন্য দিক, পাকিস্তানের চর অপবাদ থেকে স্টিফেন হাউস প্রোপাগান্ডা। জানুন কীভাবে এক স্বাধীনতা সংগ্রামী রাজনৈতিক মিথ্যাচারের শিকার হন।

Atulya Ghosh: অতুল্য ঘোষের জীবনের অন্য দিক, পাকিস্তানের চর অপবাদ থেকে স্টিফেন হাউস প্রোপাগান্ডা। জানুন কীভাবে এক স্বাধীনতা সংগ্রামী রাজনৈতিক মিথ্যাচারের শিকার হন।

author-image
IE Bangla Lifestyle Desk
New Update
Atulya Ghosh

Atulya Ghosh: অতুল্য ঘোষ।

Atulya Ghosh: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অসংখ্য নাম থাকলেও অতুল্য ঘোষ এক বিশেষ অধ্যায়। তিনি শুধু স্বাধীনতা সংগ্রামীই নন, ছিলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের এক প্রভাবশালী নেতা এবং লোকসভার প্রাক্তন সদস্য। কিন্তু রাজনৈতিক জীবনে তাঁকে বারবার মিথ্যা অপবাদ, প্রোপাগান্ডা এবং পরিকল্পিত কুৎসার মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

Advertisment

অতুল্য ঘোষের জন্ম ব্রিটিশ ভারতের কলকাতার পাথুরিয়াঘাটায়। পিতা ছিলেন কার্তিকচন্দ্র ঘোষ ও মাতা হেমহরিণী দেবী। পরিবারের আদি নিবাস ছিল অবিভক্ত বাংলার হুগলি জেলার হরিদাস ব্লকের জেজুয়া গ্রামে। মাত্র ১১ বছর বয়সে পিতার মৃত্যু হলে তিনি মাতুলালয়ে বড় হন, যেখানে তাঁর মাতামহ ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্য সমালোচক অক্ষয়চন্দ্র সরকার। এই পরিবেশেই তাঁর শৈশব কেটেছে সাহিত্য এবং রাজনীতির আলোর ঝলকানিতে।

আরও পড়ুন- পোকা দানবের আতঙ্ক! বৃষ্টির সময় শস্য, খাবার বাঁচান এই ঘরোয়া কায়দায়

স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ

Advertisment

কিশোর বয়স থেকেই কংগ্রেস অফিসে যাতায়াত শুরু করেন অতুল্য ঘোষ। ১৯২১ সালে গান্ধীজির অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯৩০ সালে মেদিনীপুরে পুলিশের হত্যাকাণ্ডের মামলায় নাম জড়ালেও প্রমাণাভাবে মুক্তি পান। ১৯৪২ সালে 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলনের সময় তাঁকে গ্রেফতার করে মেদিনীপুর জেলে পাঠানো হয়েছিল।

আরও পড়ুন- বর্ষাতেও চান কোরিয়ানদের মত উজ্জ্বলতা? ঘরের জিনিস দিয়েই মুখ করুন দাগমুক্ত

স্বাধীনতার পর কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হলেও ষাটের দশকে অতুল্য ঘোষকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়। ১৯৬৭ সালের নির্বাচনের আগে তাঁর নামে ছড়ানো হয় এক ভয়াবহ অপবাদ— তিনি নাকি 'পাকিস্তানের চর'! দিল্লিতে তৈরি হওয়া এক খসড়া পুস্তিকা পাটনায় ছাপিয়ে গভীর রাতে তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্রে বিতরণ করা হয়। তাতে লেখা ছিল, কোটি কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে অতুল্য ঘোষ দেশকে পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত করছেন। এমনকী, তাঁর নামে জাল চিঠি ও পাকিস্তানি গোয়েন্দা দফতরের জাল জবাবও তৈরি করা হয়। ফলাফল? মানুষ বিভ্রান্ত হয়, কংগ্রেসের এই প্রবীণ নেতা হেরে যান নির্বাচনে।

আরও পড়ুন- দিনের বেলায় প্রচণ্ড ঝিমুনি আসে? এই ৫ জিনিসই ভিলেন! বন্ধ করুন

ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ছড়ানো হয় আরেকটি বড় অভিযোগ। বলা হয়, মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল সেন ও অতুল্য ঘোষ মিলে কলকাতার বিখ্যাত স্টিফেন হাউস নামের প্রাসাদতুল্য বাড়িটি কিনে নিয়েছেন বা দখল করেছেন। এই প্রচারের জোর এতটাই ছিল যে সাধারণ মানুষ তো বটেই, তাঁদের অনেক বন্ধুবান্ধবও বিশ্বাস করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবটা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। প্রফুল্ল সেনের শেষ জীবন কাটে অন্যের ফ্ল্যাটে আশ্রয় নিয়ে— যা প্রমাণ করে স্টিফেন হাউস প্রোপাগান্ডা ছিল নিছক রাজনৈতিক মিথ্যাচার।

আরও পড়ুন- বিশ্বের একমাত্র মন্দির, যেখানে গণেশের নরমুণ্ড দেখতে পাওয়া যায়!

সেই সময়ে ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের শক্তিশালী নেতাদের বিরুদ্ধে নানা প্রোপাগান্ডা চালাতেন বিরোধীরা। উদ্দেশ্য ছিল মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি করা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দুর্বল করে দেওয়া। অতুল্য ঘোষ ছিলেন সংগঠনের দিক থেকে শক্তিশালী এবং জনপ্রিয় কংগ্রেস নেতা। তাই তাঁকে টার্গেট করা সহজ ছিল।

অতুল্য ঘোষের জীবন কেবল একজন স্বাধীনতা সংগ্রামীর কাহিনি নয়, বরং রাজনৈতিক প্রচারের এক নির্মম ইতিহাসও। পাকিস্তানের চর অপবাদ থেকে শুরু করে স্টিফেন হাউস প্রোপাগান্ডা— সবকিছুই প্রমাণ করে কীভাবে একজন সৎ, দেশপ্রেমিক নেতাকে মিথ্যা কুৎসার শিকার হতে হয়েছিল। আজকের দিনে ফেক নিউজ বা ভুয়ো প্রচারের কথা যতটা বলা হয়, ষাটের দশকের বাংলাতেও সেই একই ইতিহাস লুকিয়ে আছে। অতুল্য ঘোষ তার জ্বলন্ত প্রমাণ।

Atulya Ghosh